মায়ের হাত থেকেই শিশুটিকে কেড়ে নিল ঘাতক বাস
jugantor
মায়ের হাত থেকেই শিশুটিকে কেড়ে নিল ঘাতক বাস

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বাসের ধাক্কায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগতির ওই বাসটি মো. তৌফিক নামের পাঁচ বছর বয়সি ওই শিশুকে চাপা দিয়ে দ্রুত গতিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর ফলে ঘটনাস্থলেই তৌফিকের মৃত্যু হয়। তবে এলাকাবাসী কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে ওই বাসটিকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে। বাসের চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে গোদাগাড়ীর জামাদান্নী মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তৌফিক রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মো. বাবুর ছেলে। এ ঘটনায় নিহত শিশু তৌফিকের নানাবাড়ি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দিনভর মা তৌফিকা খাতুন এবং নানা বাড়ির লোকজনকে আহাজারি করতে দেখা গেছে। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

গোদাগাড়ী থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, জামাদান্নী মোড়ে শিশুটির নানার বাড়ি। ওই এলাকার মইদুল ইসলাম তৌফিকের নানা। সকালে বাবার বাড়ি চারঘাট থেকে অটোরিকশায় মা তৌফিকা খাতুনের সঙ্গে তৌফিক জামাদান্নী আসে। অটোরিকশা থেকে নেমে মা তৌফিকা ভাড়া পরিশোধ করছিলেন। মা তৌফিকা এ সময় শিশু সন্তান তৌফিকের হাত ধরে ছিলেন। এ সময় গ্রামীণ ট্রাভেলসের একটি বাস শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মায়ের হাত থেকে ছিটকে পড়ে শিশুটি বাসের নিচে পিষ্ট হয়। এর ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ওসি জানান, বাসটি শিশু তৌফিককে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় ওই মোড়ে অবস্থানরত কয়েক ব্যক্তি তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে বাসটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে বাঁশলিতলা মোড়ে গিয়ে তারা গ্রামীণ ট্রাভেলসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২২৪৭) বাসটিকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় বাসের চালক এবং তার সহযোগী পালিয়ে যান। নিহত শিশু তৌফিকের নিকটাত্মীয় তাহাজুল ইসলাম জানান, ছয় বছর আগে চারঘাটের বাবুর সঙ্গে তৌফিকার বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র পুত্র সন্তান তৌফিক। তৌফিক মারা যাবার পর তার বাবা বাবু শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এ সময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। শিশু তৌফিকের মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে তৌফিকের বাবা-মা পাগল হয়ে গেছেন। তাদেরকে কেউ সান্ত্বনা দিতে পারছেন না। বিকালে আসরের নামাজের পর নানার বাড়িতে জানাজা হয়েছে। এরপর তৌফিকের লাশ তার বাবা চারঘাটে নিয়ে গেছেন। সেখানে জানাজার পর রাতে লাশ দাফন করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, শিশু তৌফিক নিহতের ঘটনাটি খুব মর্মান্তিক। এলাকাবাসী ঘটনার পর বাসটি ধাওয়া করে আটক করেছে। তবে বাসটির চালক ও তার সহযোগী পালিয়েছেন। বাসটি থানায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিশুর পরিবার মামলা করতে রাজি নয়। তাই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

মায়ের হাত থেকেই শিশুটিকে কেড়ে নিল ঘাতক বাস

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বাসের ধাক্কায় মায়ের হাত থেকে ছিটকে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগতির ওই বাসটি মো. তৌফিক নামের পাঁচ বছর বয়সি ওই শিশুকে চাপা দিয়ে দ্রুত গতিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর ফলে ঘটনাস্থলেই তৌফিকের মৃত্যু হয়। তবে এলাকাবাসী কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে ওই বাসটিকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে। বাসের চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যায়।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে গোদাগাড়ীর জামাদান্নী মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তৌফিক রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মো. বাবুর ছেলে। এ ঘটনায় নিহত শিশু তৌফিকের নানাবাড়ি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দিনভর মা তৌফিকা খাতুন এবং নানা বাড়ির লোকজনকে আহাজারি করতে দেখা গেছে। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে।

গোদাগাড়ী থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, জামাদান্নী মোড়ে শিশুটির নানার বাড়ি। ওই এলাকার মইদুল ইসলাম তৌফিকের নানা। সকালে বাবার বাড়ি চারঘাট থেকে অটোরিকশায় মা তৌফিকা খাতুনের সঙ্গে তৌফিক জামাদান্নী আসে। অটোরিকশা থেকে নেমে মা তৌফিকা ভাড়া পরিশোধ করছিলেন। মা তৌফিকা এ সময় শিশু সন্তান তৌফিকের হাত ধরে ছিলেন। এ সময় গ্রামীণ ট্রাভেলসের একটি বাস শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মায়ের হাত থেকে ছিটকে পড়ে শিশুটি বাসের নিচে পিষ্ট হয়। এর ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ওসি জানান, বাসটি শিশু তৌফিককে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় ওই মোড়ে অবস্থানরত কয়েক ব্যক্তি তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে বাসটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে বাঁশলিতলা মোড়ে গিয়ে তারা গ্রামীণ ট্রাভেলসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২২৪৭) বাসটিকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় বাসের চালক এবং তার সহযোগী পালিয়ে যান। নিহত শিশু তৌফিকের নিকটাত্মীয় তাহাজুল ইসলাম জানান, ছয় বছর আগে চারঘাটের বাবুর সঙ্গে তৌফিকার বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র পুত্র সন্তান তৌফিক। তৌফিক মারা যাবার পর তার বাবা বাবু শ্বশুরবাড়িতে আসেন। এ সময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। শিশু তৌফিকের মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তিনি আরও জানান, একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে তৌফিকের বাবা-মা পাগল হয়ে গেছেন। তাদেরকে কেউ সান্ত্বনা দিতে পারছেন না। বিকালে আসরের নামাজের পর নানার বাড়িতে জানাজা হয়েছে। এরপর তৌফিকের লাশ তার বাবা চারঘাটে নিয়ে গেছেন। সেখানে জানাজার পর রাতে লাশ দাফন করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, শিশু তৌফিক নিহতের ঘটনাটি খুব মর্মান্তিক। এলাকাবাসী ঘটনার পর বাসটি ধাওয়া করে আটক করেছে। তবে বাসটির চালক ও তার সহযোগী পালিয়েছেন। বাসটি থানায় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিশুর পরিবার মামলা করতে রাজি নয়। তাই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন