আ.লীগে ভিড়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন মেয়র আব্বাস
jugantor
ছিঁচকে সন্ত্রাসী থেকে গডফাদার
আ.লীগে ভিড়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন মেয়র আব্বাস

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে কটূক্তি ও ম্যুরাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া কাটাখালীর মেয়র আব্বাস আলীর সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে এতদিন জিম্মি ছিল পুরো এলাকার মানুষ। প্রায় ৫০ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর সাহায্যে আব্বাস পুরো কাটাখালী এলাকায় কায়েম করেছিলেন ত্রাসের রাজত্ব। কেউ প্রতিবাদ করলে টর্চার সেলে নিয়ে শায়েস্তা করা হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, দুই দশক আগে ছিঁচকে সন্ত্রাসী হিসাবে হাতেখড়ি হয় আব্বাসের। তারপর খুন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি চালাতে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটূক্তির পর প্রথমে আত্মগোপন ও গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় গ্রেফতার হয়ে অবশেষে রাজশাহী কারাগারে ঠাঁই হয়েছে তার। রোববার হবে ১০ দিনের রিমান্ড শুনানি। আব্বাসের গ্রেফতারের খবরে বৃহস্পতিবার মিষ্টি বিতরণ করেছেন কাটাখালীর মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, একসময় শ্যামপুর চোরাচালান ঘাটে চাঁদাবাজি শুরু করে আব্বাস। শ্যামপুর বালুঘাট দখলকে কেন্দ্র করে ১৯৯৮ সালে সাহাপুর ঘাটে তার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আবু বাক্কার নামে একজনকে কুপিয়ে খুন করে। এ মামলায় তার ভাই আসের উদ্দিনসহ আব্বাসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে ২০০২ সালে আব্বাস আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর কাটাখালী পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে এর আগেও তাকে দু’বার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে নেতাদের ম্যানেজ করে আবারও দলে ভেড়েন। তিনি এ সময় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের ঘনিষ্ঠতায় গড়ে তোলেন নিজের বলয়। ২০১৪ সালে নৌকার প্রার্থী হিসাবে কাটাখালী পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে আব্বাসের বেপরোয়া চাঁদাবাজি আর দখলবাজি শুরু হয়। তিনি হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য।

এলাকাবাসীসহ কাটাখালী পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, আব্বাস দখল আর চাঁদাবাজি করে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ছিঁচকে সন্ত্রাসী থেকে এখন গডফাদার। বিপুল সম্পদের মালিক। পৌরসভার হাটবাজার বিক্রি ও বালুঘাট ইজারার কয়েক কোটি টাকা তার নিজের পকেটে। পৌরসভার কাউন্সিলরা গত ২৬ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পৌরসভার রাজস্ব আয়ের সাড়ে ৩ কোটি টাকার একটা পয়সাও আব্বাস পৌর তহবিলে দেননি। পৌর তহবিলে এখন চা খাওয়ার মতো পয়সাও নেই। ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি অনুদান ও উন্নয়ন খাতে আসা কোটি কোটি টাকার কোনো হিসাব নেই। এসব টাকার হিসাব কেউ তার কাছে এতদিন চাইতেও পারেননি। এখন এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে আব্বাস ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে। যদিও গ্রেফতারের পর তার ক্যাডার বাহিনীও এখন এলাকাছাড়া। তবে বালুঘাটে আব্বাসের চাঁদাবাজি এখনো চলছে বলে জানিয়েছে এলাকার মানুষ।

পৌর কাউন্সিলর মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে এতদিন মুখ খুলতে পারেনি কেউ। এখন এলাকাবাসী আব্বাসের শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। আব্বাসের অত্যাচার-নির্যাতনের সব ঘটনা বেরিয়ে আসছে। আব্বাস যখন যা ইচ্ছা তাই করেছে। পুলিশ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অসংখ্য ঘটনাও আছে। ভুক্তভোগীরা এখন প্রতিকার পেতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে কাটাখালীর ১২ কাউন্সিলর গত ২৮ নভেম্বর যৌথ আবেদনে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন, শ্যামপুর বালুঘাট দিয়ে দৈনিক সাড়ে চারশ ট্রাক বালু ওঠে। আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রতি ট্রাক থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা করে চাঁদা তোলে। বালু বহনের পৌর সড়কটি চলতি বছর আব্বাস অন্য নামে ইজারা নিয়ে নিজের লোক দিয়ে চাঁদা তুলছেন। এ ইজারার একটা টাকাও তিনি পৌর তহবিলে জমা করেননি। অন্যদিকে বালু ট্রাক থেকে আব্বাস বাহিনীর তোলা দৈনিক চাঁদা আড়াই লাখ টাকার বেশি প্রতিদিন নিজের পকেটে ভরেছেন তিনি।

কাউন্সিলররা অভিযোগে আরও বলেন, আব্বাস চলতি বছর করোনাকালে কাটাখালীর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা চাঁদা তোলেন। এ টাকাও তিনি বিতরণ করেননি। কাটাখালী বাজারের বাসিন্দা মোক্তাদুল ইসলাম জানান, এ পৌর এলাকা আরডিএ-এর আওতাধীন। এখানে বাড়ি বা ভবন নির্মাণের নকশা ও এনওসি দেয় আরডিএ। কিন্তু আব্বাস বাড়ি মালিকদের পৌরসভা থেকে এনওসি নিতে বাধ্য করেছেন মোটা টাকা দিয়ে। পৌর এলাকায় বাড়ি বানাতে বাধ্যতামূলক চাঁদা দিতে হয়েছে আব্বাসকে। হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, তিনি বাড়ি বানাতে গিয়ে ৩৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন আব্বাসকে।

সরেজমিনে কাটাখালীর ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ পৌরসভার অধীনে ৬টি হাট ও বাজার রয়েছে। চলতি বছর এসব ইজারার প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা আব্বাস পৌর তহবিলে জমা করেননি। অথচ এখনো পৌরসভার কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ১৮ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া আছে। বেতন-ভাতা চাইলে আব্বাস তাদের হুমকি দিয়েছেন। টাকা নেই বলে কাউকে বেতন-ভাতা দেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাতিজা সাগরের নেতৃত্বে আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনীর ত্রাস চলেছে ২০১৪ সাল থেকে। পৌরসভার প্রতি মহল্লায় কে কোথায় কী নির্মাণ করছে তার খোঁজ আব্বাসকে জানাত তারা। আব্বাস তার ব্যক্তিগত চেম্বারে ডেকে নিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কাটাখালী বাজারের শহীদুল ইসলাম শহীদ, মামুনুর রশীদ, রুহুল আমিন শ্যামপুরের শান্ত হোসেন, চকবেলঘরিয়ার সম্রাটকে টর্র্চার সেলে নিয়ে বছরখানেক আগে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। তারা পরে কাটাখালী থানায় মামলা করতে গেলে তা নেয়নি পুলিশ। ভুক্তভোগীরা যুগান্তরকে বলেন, ধূর্ত আব্বাস সবসময় পুলিশকে ম্যানেজ করেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-দখলবাজি করে এসেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করে কোনো ফল পাননি।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্বাসের বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ ১১টি মামলার রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় খালাস পেলেও এখনো চারটি মামলা বিচারাধীন। আব্বাসের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর অধিকাংশই নাশকতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের মামলা।

কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম রিপন যুগান্তরকে বলেন, মেয়র আব্বাস দলের নাম ভাঙিয়ে হেন অপকর্ম নেই যা করেননি। তাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার, পৌর মেয়রের পদ বাতিল ও উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে কাটাখালীবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

ছিঁচকে সন্ত্রাসী থেকে গডফাদার

আ.লীগে ভিড়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন মেয়র আব্বাস

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে কটূক্তি ও ম্যুরাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া কাটাখালীর মেয়র আব্বাস আলীর সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে এতদিন জিম্মি ছিল পুরো এলাকার মানুষ। প্রায় ৫০ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর সাহায্যে আব্বাস পুরো কাটাখালী এলাকায় কায়েম করেছিলেন ত্রাসের রাজত্ব। কেউ প্রতিবাদ করলে টর্চার সেলে নিয়ে শায়েস্তা করা হয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, দুই দশক আগে ছিঁচকে সন্ত্রাসী হিসাবে হাতেখড়ি হয় আব্বাসের। তারপর খুন, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি চালাতে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটূক্তির পর প্রথমে আত্মগোপন ও গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় গ্রেফতার হয়ে অবশেষে রাজশাহী কারাগারে ঠাঁই হয়েছে তার। রোববার হবে ১০ দিনের রিমান্ড শুনানি। আব্বাসের গ্রেফতারের খবরে বৃহস্পতিবার মিষ্টি বিতরণ করেছেন কাটাখালীর মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, একসময় শ্যামপুর চোরাচালান ঘাটে চাঁদাবাজি শুরু করে আব্বাস। শ্যামপুর বালুঘাট দখলকে কেন্দ্র করে ১৯৯৮ সালে সাহাপুর ঘাটে তার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আবু বাক্কার নামে একজনকে কুপিয়ে খুন করে। এ মামলায় তার ভাই আসের উদ্দিনসহ আব্বাসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে ২০০২ সালে আব্বাস আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর কাটাখালী পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে এর আগেও তাকে দু’বার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে নেতাদের ম্যানেজ করে আবারও দলে ভেড়েন। তিনি এ সময় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের ঘনিষ্ঠতায় গড়ে তোলেন নিজের বলয়। ২০১৪ সালে নৌকার প্রার্থী হিসাবে কাটাখালী পৌর মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর থেকে আব্বাসের বেপরোয়া চাঁদাবাজি আর দখলবাজি শুরু হয়। তিনি হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য।

এলাকাবাসীসহ কাটাখালী পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, আব্বাস দখল আর চাঁদাবাজি করে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ছিঁচকে সন্ত্রাসী থেকে এখন গডফাদার। বিপুল সম্পদের মালিক। পৌরসভার হাটবাজার বিক্রি ও বালুঘাট ইজারার কয়েক কোটি টাকা তার নিজের পকেটে। পৌরসভার কাউন্সিলরা গত ২৬ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পৌরসভার রাজস্ব আয়ের সাড়ে ৩ কোটি টাকার একটা পয়সাও আব্বাস পৌর তহবিলে দেননি। পৌর তহবিলে এখন চা খাওয়ার মতো পয়সাও নেই। ২০১৪ সাল থেকে চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি অনুদান ও উন্নয়ন খাতে আসা কোটি কোটি টাকার কোনো হিসাব নেই। এসব টাকার হিসাব কেউ তার কাছে এতদিন চাইতেও পারেননি। এখন এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে আব্বাস ও তার বাহিনীর বিচারের দাবিতে। যদিও গ্রেফতারের পর তার ক্যাডার বাহিনীও এখন এলাকাছাড়া। তবে বালুঘাটে আব্বাসের চাঁদাবাজি এখনো চলছে বলে জানিয়েছে এলাকার মানুষ।

পৌর কাউন্সিলর মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে এতদিন মুখ খুলতে পারেনি কেউ। এখন এলাকাবাসী আব্বাসের শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। আব্বাসের অত্যাচার-নির্যাতনের সব ঘটনা বেরিয়ে আসছে। আব্বাস যখন যা ইচ্ছা তাই করেছে। পুলিশ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অসংখ্য ঘটনাও আছে। ভুক্তভোগীরা এখন প্রতিকার পেতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে কাটাখালীর ১২ কাউন্সিলর গত ২৮ নভেম্বর যৌথ আবেদনে জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন, শ্যামপুর বালুঘাট দিয়ে দৈনিক সাড়ে চারশ ট্রাক বালু ওঠে। আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনী প্রতি ট্রাক থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা করে চাঁদা তোলে। বালু বহনের পৌর সড়কটি চলতি বছর আব্বাস অন্য নামে ইজারা নিয়ে নিজের লোক দিয়ে চাঁদা তুলছেন। এ ইজারার একটা টাকাও তিনি পৌর তহবিলে জমা করেননি। অন্যদিকে বালু ট্রাক থেকে আব্বাস বাহিনীর তোলা দৈনিক চাঁদা আড়াই লাখ টাকার বেশি প্রতিদিন নিজের পকেটে ভরেছেন তিনি।

কাউন্সিলররা অভিযোগে আরও বলেন, আব্বাস চলতি বছর করোনাকালে কাটাখালীর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা চাঁদা তোলেন। এ টাকাও তিনি বিতরণ করেননি। কাটাখালী বাজারের বাসিন্দা মোক্তাদুল ইসলাম জানান, এ পৌর এলাকা আরডিএ-এর আওতাধীন। এখানে বাড়ি বা ভবন নির্মাণের নকশা ও এনওসি দেয় আরডিএ। কিন্তু আব্বাস বাড়ি মালিকদের পৌরসভা থেকে এনওসি নিতে বাধ্য করেছেন মোটা টাকা দিয়ে। পৌর এলাকায় বাড়ি বানাতে বাধ্যতামূলক চাঁদা দিতে হয়েছে আব্বাসকে। হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, তিনি বাড়ি বানাতে গিয়ে ৩৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন আব্বাসকে।

সরেজমিনে কাটাখালীর ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ পৌরসভার অধীনে ৬টি হাট ও বাজার রয়েছে। চলতি বছর এসব ইজারার প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা আব্বাস পৌর তহবিলে জমা করেননি। অথচ এখনো পৌরসভার কাউন্সিলর, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ১৮ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া আছে। বেতন-ভাতা চাইলে আব্বাস তাদের হুমকি দিয়েছেন। টাকা নেই বলে কাউকে বেতন-ভাতা দেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাতিজা সাগরের নেতৃত্বে আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনীর ত্রাস চলেছে ২০১৪ সাল থেকে। পৌরসভার প্রতি মহল্লায় কে কোথায় কী নির্মাণ করছে তার খোঁজ আব্বাসকে জানাত তারা। আব্বাস তার ব্যক্তিগত চেম্বারে ডেকে নিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় কাটাখালী বাজারের শহীদুল ইসলাম শহীদ, মামুনুর রশীদ, রুহুল আমিন শ্যামপুরের শান্ত হোসেন, চকবেলঘরিয়ার সম্রাটকে টর্র্চার সেলে নিয়ে বছরখানেক আগে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। তারা পরে কাটাখালী থানায় মামলা করতে গেলে তা নেয়নি পুলিশ। ভুক্তভোগীরা যুগান্তরকে বলেন, ধূর্ত আব্বাস সবসময় পুলিশকে ম্যানেজ করেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-দখলবাজি করে এসেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করে কোনো ফল পাননি।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আব্বাসের বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ ১১টি মামলার রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় খালাস পেলেও এখনো চারটি মামলা বিচারাধীন। আব্বাসের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর অধিকাংশই নাশকতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনের মামলা।

কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম রিপন যুগান্তরকে বলেন, মেয়র আব্বাস দলের নাম ভাঙিয়ে হেন অপকর্ম নেই যা করেননি। তাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার, পৌর মেয়রের পদ বাতিল ও উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে কাটাখালীবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন