সিলেটেও বাস ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য, জিম্মি যাত্রীরা
jugantor
লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচি
সিলেটেও বাস ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য, জিম্মি যাত্রীরা
সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না * মনিটরিং নেই, ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা

  ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সিলেটেও বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। ৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ সমস্যা সমাধানে বিআরটিএ কোনো কার্যক্রমই শুরু করতে পারেনি।

সিলেট বিআরটিএ কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছে-তাদের কাছে নগরীতে ডিজেল ও সিএনজিচালিত বাসের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কোন বাসটি ডিজেলচালিত আর কোনটি গ্যাসে তা নির্ধারণেও কোনো উদ্যোগ নেই। হয়রানি বন্ধে কোনো মনিটরিংও নেই। সিলেটের প্রতিটি সড়কে গণপরিবহণে ভাড়া নৈরাজ্য চলছে।

৭ নভেম্বর সারা দেশে ডিজেলচালিত বাসভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। পরদিন ৮ নভেম্বর থেকে তা কার্যকর করা হয়। তবে সিএনজিচালিত বাসগুলোও ভাড়া বাড়িয়েছে। ডিজেল ও সিএনজিচালিত বাসে সমপরিমাণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, ট্রাফিক আইনের দোহাই দিয়ে নগরীতে সিএনজি অটোরিকশাতেও ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীরা অভিযোগ তুললেও পরিবহণ সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনও অসহায়। তুচ্ছ কারণে ধর্মঘটের হুমকিও দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি বন্ধ অথবা সিএনজি অটোরিকশাতে গ্রিল লাগানোর ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই ট্রাফিক পুলিশেরও।

সরেজমিন সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, আন্তঃজেলার বাসগুলোতে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১ টাকা ৮০ পয়সার বদলে ২ টাকা ৩৬ পয়সা নেওয়া হচ্ছে। প্রতি কিলোমিটারে ৫৬ পয়সা বেশি করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সিলেট থেকে শেওলা-জকিগঞ্জ ৬০ কিলোমিটার সড়কে ভাড়া ছিল ৭০ টাকা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকায়। রতনগঞ্জ-আটগ্রাম ৭৪ কিলোমিটার সড়কে ভাড়া ৮৫ টাকা থেকে ১৩৩ টাকা, জকিগঞ্জ-কালীগঞ্জ ৯০ কিলোমিটার সড়কে ১০৫ টাকা থেকে ১৬২ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আগের ৮ টাকা ভাড়া এখন ১৩ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

গ্যাসচালিত ছোট-বড় গাড়িতেও ভাড়া নৈরাজ্য চলছে। সিলেট-বিয়ানীবাজার রুট, সিলেট-জাফলং রুট, সিলেট-কানাইঘাট রুট, সিলেট-শেরপুর-নবীগঞ্জ রুট, সিলেট-জগন্নাথপুর রুট, সিলেট-সুনামগঞ্জ রুট, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ রুটেও একইভাবে বাস ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিলেট থেকে ঢাকার দূরত্ব ২৪১ কিলোমিটার। এ রুটে ভাড়া ৪৭০ টাকা থেকে ৫৭০ টাকা করা হয়েছে।

আবার সিলেট থেকে রংপুরের দূরত্ব ৫০১ কিলোমিটার। এখানে ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে অতিরিক্ত ভাড়া হিসাবে ২ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার জাফলং থেকে বাসে সিলেট আসা নিজাম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, গাড়িতে উঠলে হেলপার ৫-১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। কোন বাস গ্যাসে চলে আর কোন বাস ডিজেলে চলে তা বোঝার কোনো উপায় নেই। তাই তাদের কথা মাফিক যাত্রীদের টাকা দিতে হয়। না দিলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

তবে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল হক দাবি করেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।

যুগান্তরকে তিনি বলেন, আগে গাড়ি ভাড়া কম ছিল। এখন একটু বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা বলছেন ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। কিলোমিটার প্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি গাড়িতে ডিজেল নাকি সিএনজি চালিত স্টিকার লাগানো হয়েছে।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা যায়নি কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ আমাদের বৈঠক আছে। বৈঠকে কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি মনিটরিং টিম গঠন করে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। যাত্রী হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনোটাই আমাদের কাম্য নয়।

বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। জকিগঞ্জ যাত্রীকল্যাণ ঐক্য পরিষদের ব্যানারেও লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন রুটে সিএনজিচালিত যানবাহনেও ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের ঝগড়া হচ্ছে। পরিবহণ শ্রমিকদের হাতে অনেক যাত্রী নাজেহালও হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

তারা অভিযোগ করেন, রাজধানী ঢাকাসহ অন্যসব স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করা হলেও সিলেটে এখন পর্যন্ত আদালত পরিচালিত হয়নি। এ কারণে পরিবহণ শ্রমিকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিআরটিএর সিলেট সার্কেলের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশলী) সানাউল হক জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে আমরা খুব সীমিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারি। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের আদালত পরিচালনা করা হয়নি।

সিলেটে কতটি বাস ডিজেল আর কতটি সিএনজিচালিত-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের কাছে সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এছাড়া কিছু দিনের মধ্যে গাড়িতে স্টিকার লাগানো হবে। যাতে যাত্রীরা চিনতে পারেন কোন বাসটি গ্যাসে চলে আর কোনটি ডিজেলে চলে। খুব শিগগিরই সবকিছু ঠিকঠাক করে মাঠে নামবে বিআরটিএ।

ডিজেলচালিত গণপরিবহণের ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণার সুযোগ নিচ্ছেন সিএনজিচালিত পরিবহণের চালকরা। গণপরিবহণ খুব সীমিত। গণপরিবহণ বলতে এখন সিএনজি অটোরিকশাকে বোঝায়। কিন্তু সিএনজি অটোরিকশা চালকরা লকডাউনের পর থেকে ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া প্রশাসন থেকে কখনোই নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছে। লেগুনাতেও একইভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

যাত্রীদের এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেটের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ যুগান্তরকে জানান, ইতোমধ্যে আমরা মনিটরিং টিম গঠন করেছি। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ১৭ জন চালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি বলেন, নগরীতে গণপরিবহণ না থাকায় এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা অঘোষিত গণপরিবহণ। নগরীতে ট্রাফিক পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দেয় না। ফলে বাধ্য হয়ে তিনজনকে নিয়ে আমাদের চলতে হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, তিনজন করে নেওয়ার জন্য আমরা সিএনজি চালকদের বলিনি। বেশি যাত্রী নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্টরা ব্যবস্থা নেন।

লকডাউন শিথিল হওয়ার পর সিলেটে যাত্রী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সিএনজি অটোরিকশাতে গ্রিল তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিল প্রশাসন। এরপর থেকে নগরীতেও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা নৈরাজ্য চালাচ্ছে। তারা গ্রিল না লাগিয়ে বিভিন্ন রুটে তিনজন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীরা জানান, বন্দর টু টুকেরবাজার রুট, বন্দর টু বটেশ্বর রুট, বন্দর টু এয়ারপোর্ট রুট, বন্দর টু দক্ষিণ সুরমা রুট, বন্দর টু বটেশ্বর রুট সব রুটেই সিএনজি অটোরিকশার চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে। আগে ১০ টাকা ভাড়া থাকলেও এখন ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচি

সিলেটেও বাস ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য, জিম্মি যাত্রীরা

সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না * মনিটরিং নেই, ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা
 ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সিলেটেও বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নগরবাসী। ৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ সমস্যা সমাধানে বিআরটিএ কোনো কার্যক্রমই শুরু করতে পারেনি।

সিলেট বিআরটিএ কার্যালয় থেকে বলা হচ্ছে-তাদের কাছে নগরীতে ডিজেল ও সিএনজিচালিত বাসের সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কোন বাসটি ডিজেলচালিত আর কোনটি গ্যাসে তা নির্ধারণেও কোনো উদ্যোগ নেই। হয়রানি বন্ধে কোনো মনিটরিংও নেই। সিলেটের প্রতিটি সড়কে গণপরিবহণে ভাড়া নৈরাজ্য চলছে।

৭ নভেম্বর সারা দেশে ডিজেলচালিত বাসভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। পরদিন ৮ নভেম্বর থেকে তা কার্যকর করা হয়। তবে সিএনজিচালিত বাসগুলোও ভাড়া বাড়িয়েছে। ডিজেল ও সিএনজিচালিত বাসে সমপরিমাণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

অপরদিকে, ট্রাফিক আইনের দোহাই দিয়ে নগরীতে সিএনজি অটোরিকশাতেও ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীরা অভিযোগ তুললেও পরিবহণ সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনও অসহায়। তুচ্ছ কারণে ধর্মঘটের হুমকিও দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি বন্ধ অথবা সিএনজি অটোরিকশাতে গ্রিল লাগানোর ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই ট্রাফিক পুলিশেরও।

সরেজমিন সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, আন্তঃজেলার বাসগুলোতে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১ টাকা ৮০ পয়সার বদলে ২ টাকা ৩৬ পয়সা নেওয়া হচ্ছে। প্রতি কিলোমিটারে ৫৬ পয়সা বেশি করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সিলেট থেকে শেওলা-জকিগঞ্জ ৬০ কিলোমিটার সড়কে ভাড়া ছিল ৭০ টাকা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকায়। রতনগঞ্জ-আটগ্রাম ৭৪ কিলোমিটার সড়কে ভাড়া ৮৫ টাকা থেকে ১৩৩ টাকা, জকিগঞ্জ-কালীগঞ্জ ৯০ কিলোমিটার সড়কে ১০৫ টাকা থেকে ১৬২ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আগের ৮ টাকা ভাড়া এখন ১৩ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

গ্যাসচালিত ছোট-বড় গাড়িতেও ভাড়া নৈরাজ্য চলছে। সিলেট-বিয়ানীবাজার রুট, সিলেট-জাফলং রুট, সিলেট-কানাইঘাট রুট, সিলেট-শেরপুর-নবীগঞ্জ রুট, সিলেট-জগন্নাথপুর রুট, সিলেট-সুনামগঞ্জ রুট, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ রুটেও একইভাবে বাস ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিলেট থেকে ঢাকার দূরত্ব ২৪১ কিলোমিটার। এ রুটে ভাড়া ৪৭০ টাকা থেকে ৫৭০ টাকা করা হয়েছে।

আবার সিলেট থেকে রংপুরের দূরত্ব ৫০১ কিলোমিটার। এখানে ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে অতিরিক্ত ভাড়া হিসাবে ২ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার জাফলং থেকে বাসে সিলেট আসা নিজাম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, গাড়িতে উঠলে হেলপার ৫-১০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। কোন বাস গ্যাসে চলে আর কোন বাস ডিজেলে চলে তা বোঝার কোনো উপায় নেই। তাই তাদের কথা মাফিক যাত্রীদের টাকা দিতে হয়। না দিলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

তবে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল হক দাবি করেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না।

যুগান্তরকে তিনি বলেন, আগে গাড়ি ভাড়া কম ছিল। এখন একটু বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীরা বলছেন ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। কিলোমিটার প্রতি ১ টাকা ৮০ পয়সা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিটি গাড়িতে ডিজেল নাকি সিএনজি চালিত স্টিকার লাগানো হয়েছে।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা যায়নি কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ আমাদের বৈঠক আছে। বৈঠকে কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি মনিটরিং টিম গঠন করে দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। যাত্রী হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনোটাই আমাদের কাম্য নয়।

বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। জকিগঞ্জ যাত্রীকল্যাণ ঐক্য পরিষদের ব্যানারেও লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন রুটে সিএনজিচালিত যানবাহনেও ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের ঝগড়া হচ্ছে। পরিবহণ শ্রমিকদের হাতে অনেক যাত্রী নাজেহালও হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

তারা অভিযোগ করেন, রাজধানী ঢাকাসহ অন্যসব স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করা হলেও সিলেটে এখন পর্যন্ত আদালত পরিচালিত হয়নি। এ কারণে পরিবহণ শ্রমিকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

বিআরটিএর সিলেট সার্কেলের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশলী) সানাউল হক জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে আমরা খুব সীমিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারি। তবে এখন পর্যন্ত এ ধরনের আদালত পরিচালনা করা হয়নি।

সিলেটে কতটি বাস ডিজেল আর কতটি সিএনজিচালিত-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের কাছে সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এছাড়া কিছু দিনের মধ্যে গাড়িতে স্টিকার লাগানো হবে। যাতে যাত্রীরা চিনতে পারেন কোন বাসটি গ্যাসে চলে আর কোনটি ডিজেলে চলে। খুব শিগগিরই সবকিছু ঠিকঠাক করে মাঠে নামবে বিআরটিএ।

ডিজেলচালিত গণপরিবহণের ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণার সুযোগ নিচ্ছেন সিএনজিচালিত পরিবহণের চালকরা। গণপরিবহণ খুব সীমিত। গণপরিবহণ বলতে এখন সিএনজি অটোরিকশাকে বোঝায়। কিন্তু সিএনজি অটোরিকশা চালকরা লকডাউনের পর থেকে ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া প্রশাসন থেকে কখনোই নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছে। লেগুনাতেও একইভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

যাত্রীদের এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেটের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ যুগান্তরকে জানান, ইতোমধ্যে আমরা মনিটরিং টিম গঠন করেছি। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ১৭ জন চালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি বলেন, নগরীতে গণপরিবহণ না থাকায় এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। সিলেটে সিএনজি অটোরিকশা অঘোষিত গণপরিবহণ। নগরীতে ট্রাফিক পুলিশ কোনো ধরনের ছাড় দেয় না। ফলে বাধ্য হয়ে তিনজনকে নিয়ে আমাদের চলতে হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, তিনজন করে নেওয়ার জন্য আমরা সিএনজি চালকদের বলিনি। বেশি যাত্রী নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্টরা ব্যবস্থা নেন।

লকডাউন শিথিল হওয়ার পর সিলেটে যাত্রী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সিএনজি অটোরিকশাতে গ্রিল তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিল প্রশাসন। এরপর থেকে নগরীতেও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা নৈরাজ্য চালাচ্ছে। তারা গ্রিল না লাগিয়ে বিভিন্ন রুটে তিনজন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রীরা জানান, বন্দর টু টুকেরবাজার রুট, বন্দর টু বটেশ্বর রুট, বন্দর টু এয়ারপোর্ট রুট, বন্দর টু দক্ষিণ সুরমা রুট, বন্দর টু বটেশ্বর রুট সব রুটেই সিএনজি অটোরিকশার চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে। আগে ১০ টাকা ভাড়া থাকলেও এখন ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন