কুয়াকাটা পৌরসভা তিন দিন ধরে তালাবদ্ধ
jugantor
কুয়াকাটা পৌরসভা তিন দিন ধরে তালাবদ্ধ
মেয়র কাউন্সিলররা আনন্দ ভ্রমণে

  কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তালাবদ্ধ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ছুটি না নিয়ে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণে যাওয়ায় তিন ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে পৌরসভা। এতে পৌর কার্যালয়ে নাগরিক সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। মেয়র অনুসারী ঠিকাদারদের অর্থায়নে পৌর পরিষদের তিন দিনের এ আনন্দ ভ্রমণ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে নাগরিকদের মধ্যে।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি বা ছুটি না নিয়ে শুধু পৌর পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩০ নভেম্বর পৌর কার্যালয় তালাবদ্ধ রেখে মেয়র ও কাউন্সিলররা স্টাফদের নিয়ে কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যান। এ সফরে মেয়রের সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী, মেয়ে, ২ ছেলে, ২ নাতি, মেয়রের মালিকানাধীন হোটেলের ম্যানেজার, গাড়ির চালকসহ পৌর নির্বাচনে অর্থায়ন করা কজন ঠিকাদার ও শুভাকাঙ্ক্ষী।

পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার পৌরসভায় গিয়ে দেখি অফিস তালাবদ্ধ। মেয়র, কাউন্সিলররা কক্সবাজার ভ্রমণে গেছেন। এতে আমি আমার ৪ বছরের মেয়ে নাদিয়া ও ৪ মাস বয়সের মেয়ে তাকিয়ার জন্মনিবন্ধন নিতে পারিনি।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক মো. নুরজামাল বলেন, বুধবার পরিচয়পত্র নিতে এসে দেখি পৌরসভার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। সবাই ভ্রমণে গেছেন।

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুপারভাইজার মো. ইউসুফ জানান, কাউন্সিলর সাবের আকন, ফজলুল হক খান ও বড় ইঞ্জিনিয়ার স্যার ছাড়া পৌরসভার সবাই কক্সবাজার গেছে। তাই অফিস বন্ধ। পৌরসভার সচিব কাব্যলাল চক্রবর্তী বলেন, পৌর পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা কক্সবাজার গেছেন। কাব্যলালের দাবি, গত তিন দিন অফিস খোলা ছিল। তিনি অফিস করেছেন।

কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, মেয়র একদিনের জন্য কোথাও গেলে প্যানেল মেয়র ১, ২ অথবা ৩-কে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, এভাবে সব কাউন্সিলর, স্টাফ নিয়ে ভ্রমণে যাওয়া ইতিহাস ব্রেক। শুধু একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন, যিনি ৩ দিনে একদিন ভোরে মাত্র একবার অফিসের তালা খুলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আবার তালা বন্ধ করে চলে যান। কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া পৌরসভা তিন দিন তালাবদ্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জগৎবন্ধু মন্ডল বলেন, এটা তো অসম্ভব। অফিস এভাবে তিন দিন বন্ধ থাকতে পারে না। স্থানীয় সরকার, পটুয়াখালীর উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র কাউন্সিলররা অফিস বন্ধ রেখে এভাবে যেতে পারেন না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

কুয়াকাটার পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আমার পরিষদ খোলা আছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফজলুল হক খান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবের আকনকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছি। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব, সচিব সাহেব আছেন। এছাড়া ডিসি মহোদয় বরাবর লিখিত আবেদন করে এবং ফোনে অনুমতি নিয়ে আমরা ভ্রমণে এসেছি।

কুয়াকাটা পৌরসভা তিন দিন ধরে তালাবদ্ধ

মেয়র কাউন্সিলররা আনন্দ ভ্রমণে
 কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
তালাবদ্ধ
মেয়র ও কাউন্সিলররা আনন্দ ভ্রমণে যাওয়ায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভা ৩ দিন ধরে তালাবদ্ধ। বন্ধ নাগরিক সেবা। শুক্রবার তোলা -যুগান্তর

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ছুটি না নিয়ে কক্সবাজারে আনন্দ ভ্রমণে যাওয়ায় তিন ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে পৌরসভা। এতে পৌর কার্যালয়ে নাগরিক সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। মেয়র অনুসারী ঠিকাদারদের অর্থায়নে পৌর পরিষদের তিন দিনের এ আনন্দ ভ্রমণ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে নাগরিকদের মধ্যে।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি বা ছুটি না নিয়ে শুধু পৌর পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩০ নভেম্বর পৌর কার্যালয় তালাবদ্ধ রেখে মেয়র ও কাউন্সিলররা স্টাফদের নিয়ে কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যান। এ সফরে মেয়রের সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী, মেয়ে, ২ ছেলে, ২ নাতি, মেয়রের মালিকানাধীন হোটেলের ম্যানেজার, গাড়ির চালকসহ পৌর নির্বাচনে অর্থায়ন করা কজন ঠিকাদার ও শুভাকাঙ্ক্ষী।

পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার পৌরসভায় গিয়ে দেখি অফিস তালাবদ্ধ। মেয়র, কাউন্সিলররা কক্সবাজার ভ্রমণে গেছেন। এতে আমি আমার ৪ বছরের মেয়ে নাদিয়া ও ৪ মাস বয়সের মেয়ে তাকিয়ার জন্মনিবন্ধন নিতে পারিনি।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক মো. নুরজামাল বলেন, বুধবার পরিচয়পত্র নিতে এসে দেখি পৌরসভার প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। সবাই ভ্রমণে গেছেন।

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুপারভাইজার মো. ইউসুফ জানান, কাউন্সিলর সাবের আকন, ফজলুল হক খান ও বড় ইঞ্জিনিয়ার স্যার ছাড়া পৌরসভার সবাই কক্সবাজার গেছে। তাই অফিস বন্ধ। পৌরসভার সচিব কাব্যলাল চক্রবর্তী বলেন, পৌর পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা কক্সবাজার গেছেন। কাব্যলালের দাবি, গত তিন দিন অফিস খোলা ছিল। তিনি অফিস করেছেন।

কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা বলেন, মেয়র একদিনের জন্য কোথাও গেলে প্যানেল মেয়র ১, ২ অথবা ৩-কে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, এভাবে সব কাউন্সিলর, স্টাফ নিয়ে ভ্রমণে যাওয়া ইতিহাস ব্রেক। শুধু একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আছেন, যিনি ৩ দিনে একদিন ভোরে মাত্র একবার অফিসের তালা খুলেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আবার তালা বন্ধ করে চলে যান। কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া পৌরসভা তিন দিন তালাবদ্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জগৎবন্ধু মন্ডল বলেন, এটা তো অসম্ভব। অফিস এভাবে তিন দিন বন্ধ থাকতে পারে না। স্থানীয় সরকার, পটুয়াখালীর উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র কাউন্সিলররা অফিস বন্ধ রেখে এভাবে যেতে পারেন না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

কুয়াকাটার পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, আমার পরিষদ খোলা আছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফজলুল হক খান ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবের আকনকে দায়িত্ব দিয়ে এসেছি। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব, সচিব সাহেব আছেন। এছাড়া ডিসি মহোদয় বরাবর লিখিত আবেদন করে এবং ফোনে অনুমতি নিয়ে আমরা ভ্রমণে এসেছি।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন