মেয়র আব্বাসের অবৈধ ২ মার্কেট ভাঙল প্রশাসন
jugantor
সরকারি খাল দখল
মেয়র আব্বাসের অবৈধ ২ মার্কেট ভাঙল প্রশাসন

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নির্মাণাধীন দুটি অবৈধ মার্কেট ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভাঙার কাজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন।

তিনি জানান, সরকারি খাল দখল করে মেয়র আব্বাস এই মার্কেট দুটি নির্মাণ করছিলেন। অবৈধ মার্কেট উচ্ছেদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১০ অক্টোবর চিঠি দেওয়া হয়। এরপর মেয়র আব্বাসকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে মার্কেট দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সরকারি খালের ওপর আব্বাসের অবৈধ মার্কেট নির্মাণ নিয়ে যুগান্তরে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এর ভিত্তিতেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিল মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সকালে সরেজমিন দেখা যায়, মেয়র আব্বাসের অবৈধ মার্কেট ভাঙার খবরে স্থানীয় উৎসাহী লোকজন সেখানে ভিড় করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরখানেক আগে কাটাখালী পৌরসভার ওপর দিয়ে যাওয়া খালটি ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পুনঃখনন করে। এপ্রিলের দিকে মেয়র আব্বাস সরকারি এই খালের ওপর মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সরকারি খালের ব্রিজের দক্ষিণপ্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১৪৪ বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি তিনতলা মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন আব্বাস। ভাঙার আগে দুই তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। অন্যদিকে ব্রিজের উত্তর পাশে খালের ওপর অপর মার্কেটটিরও দুইতলা সম্পন্ন হয়েছিল। দুই মার্কেটে মোট ২৭টি দোকান হওয়ার কথা ছিল। এসব দোকান ইতোমধ্যে আব্বাস স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বরাদ্দ দিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি খালের ওপর মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হলে অভিযোগ করেন কাটাখালী পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আগস্টে পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর কয়েকদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পরে আবার জোরেশোরে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।

এ বিষয়ে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, এক মাস আগে মেয়র আব্বাসকে মার্কেট দুটি ভেঙে ফেলার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেছেন। এ কারণে মার্কেট দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বর্তমানে মেয়র আব্বাস কারাগারে রয়েছেন। একই অভিযোগে তাকে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আব্বাসকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

সরকারি খাল দখল

মেয়র আব্বাসের অবৈধ ২ মার্কেট ভাঙল প্রশাসন

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর নির্মাণাধীন দুটি অবৈধ মার্কেট ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভাঙার কাজ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন।

তিনি জানান, সরকারি খাল দখল করে মেয়র আব্বাস এই মার্কেট দুটি নির্মাণ করছিলেন। অবৈধ মার্কেট উচ্ছেদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১০ অক্টোবর চিঠি দেওয়া হয়। এরপর মেয়র আব্বাসকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ কারণে মার্কেট দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সরকারি খালের ওপর আব্বাসের অবৈধ মার্কেট নির্মাণ নিয়ে যুগান্তরে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এর ভিত্তিতেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিল মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সকালে সরেজমিন দেখা যায়, মেয়র আব্বাসের অবৈধ মার্কেট ভাঙার খবরে স্থানীয় উৎসাহী লোকজন সেখানে ভিড় করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরখানেক আগে কাটাখালী পৌরসভার ওপর দিয়ে যাওয়া খালটি ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পুনঃখনন করে। এপ্রিলের দিকে মেয়র আব্বাস সরকারি এই খালের ওপর মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সরকারি খালের ব্রিজের দক্ষিণপ্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ১৪৪ বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি তিনতলা মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন আব্বাস। ভাঙার আগে দুই তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। অন্যদিকে ব্রিজের উত্তর পাশে খালের ওপর অপর মার্কেটটিরও দুইতলা সম্পন্ন হয়েছিল। দুই মার্কেটে মোট ২৭টি দোকান হওয়ার কথা ছিল। এসব দোকান ইতোমধ্যে আব্বাস স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বরাদ্দ দিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি খালের ওপর মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হলে অভিযোগ করেন কাটাখালী পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে আগস্টে পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর কয়েকদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পরে আবার জোরেশোরে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল।

এ বিষয়ে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, এক মাস আগে মেয়র আব্বাসকে মার্কেট দুটি ভেঙে ফেলার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেছেন। এ কারণে মার্কেট দুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বর্তমানে মেয়র আব্বাস কারাগারে রয়েছেন। একই অভিযোগে তাকে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আব্বাসকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন