ভাইয়ের লেখাপড়ার জন্য গার্মেন্টে চাকরি নেন দুবোন
jugantor
কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু
ভাইয়ের লেখাপড়ার জন্য গার্মেন্টে চাকরি নেন দুবোন

  কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ড. মো. সেলিম হোসেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। বাবা শুকুর আলী তার লেখাপড়ার খরচ যোগাতে ব্যর্থ হলে গার্মেন্টে চাকরি নিয়েছিলেন তার দুবোন শিউলি ও শ্যামলি।

রোববার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রামে ড. সেলিমের গ্রামের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তিন রুমের একটি একতলা বাড়ি। নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ঘরের আসবাব বলতে তেমন কিছুই নেই। কথা হয় বোন শিউলির সঙ্গে। তাদের মা বেঁচে নেই। ভাইয়ের মৃত্যু শোকে পাগলপ্রায় শিউলি। একটু কথা বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। শিউলি বলেন, আমার মেধাবী ভাইটাকে তারা মানসিক নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। কী দোষ ছিল আমার ভাইয়ের।

শিউলি জানান, তারা পাঁচ ভাই-বোন, বড় ভাই গার্মেন্টে চাকরি করেন। তারপর সেলিম। এরপর তারা তিন বোন। সেলিম ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালে শেষ দুবছর তার বাবা শুকুর আলী ঘরের কাঁসার ঘটিবাটি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পরে শিউলি ও শ্যামলি ঢাকা গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি নেন ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে। ২০১১ সালে তাদের মা মারা গেলে সংসার এলোমেলো হয়ে যায়। সে সময় তার ভাই সেলিম আগলে রেখেছিলেন সবাইকে। সেলিম চাকরি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের গার্মেন্ট থেকে চাকরি ছাড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে এসে বিয়ে দেন। সেলিমের বাবা শুকুর আলী বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তার একটি কিডনি ড্যামেজ, আরেকটির অবস্থাও ভালো না। সব চিকিৎসা ব্যয় বহন করত সেলিম। ছেলেকে হারিয়ে দুচোখে অন্ধকার দেখছেন তার বাবা।

শিউলি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আমার ভাইকে রুমে নিয়ে ৪৫ মিনিট আটকে রাখা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশের ফুটেজ আছে, কিন্তু বের হওয়ার ফুটেজ কোথায় গেল? আসলে আমার ভাইকে শুধু মানসিক নয়, শারীরিক নির্যাতনও করা হয়েছে।

৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিমকে জেরা করা শুরু করে। পরে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা ওই শিক্ষকের কক্ষে অবস্থান করে। পরে শিক্ষক ক্যাম্পাসসংলগ্ন বাসায় যান। সেখানে দুপুর ২টার দিকে টয়লেটে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ ওঠে, শিক্ষকের কক্ষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং মানসিক নির্যাতন চালান।

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু

ভাইয়ের লেখাপড়ার জন্য গার্মেন্টে চাকরি নেন দুবোন

 কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ড. মো. সেলিম হোসেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন। বাবা শুকুর আলী তার লেখাপড়ার খরচ যোগাতে ব্যর্থ হলে গার্মেন্টে চাকরি নিয়েছিলেন তার দুবোন শিউলি ও শ্যামলি।

রোববার কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রামে ড. সেলিমের গ্রামের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, তিন রুমের একটি একতলা বাড়ি। নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ঘরের আসবাব বলতে তেমন কিছুই নেই। কথা হয় বোন শিউলির সঙ্গে। তাদের মা বেঁচে নেই। ভাইয়ের মৃত্যু শোকে পাগলপ্রায় শিউলি। একটু কথা বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি। শিউলি বলেন, আমার মেধাবী ভাইটাকে তারা মানসিক নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। কী দোষ ছিল আমার ভাইয়ের।

শিউলি জানান, তারা পাঁচ ভাই-বোন, বড় ভাই গার্মেন্টে চাকরি করেন। তারপর সেলিম। এরপর তারা তিন বোন। সেলিম ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াকালে শেষ দুবছর তার বাবা শুকুর আলী ঘরের কাঁসার ঘটিবাটি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন। পরে শিউলি ও শ্যামলি ঢাকা গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি নেন ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে। ২০১১ সালে তাদের মা মারা গেলে সংসার এলোমেলো হয়ে যায়। সে সময় তার ভাই সেলিম আগলে রেখেছিলেন সবাইকে। সেলিম চাকরি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের গার্মেন্ট থেকে চাকরি ছাড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে এসে বিয়ে দেন। সেলিমের বাবা শুকুর আলী বর্তমানে খুবই অসুস্থ। তার একটি কিডনি ড্যামেজ, আরেকটির অবস্থাও ভালো না। সব চিকিৎসা ব্যয় বহন করত সেলিম। ছেলেকে হারিয়ে দুচোখে অন্ধকার দেখছেন তার বাবা।

শিউলি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, আমার ভাইকে রুমে নিয়ে ৪৫ মিনিট আটকে রাখা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তাকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশের ফুটেজ আছে, কিন্তু বের হওয়ার ফুটেজ কোথায় গেল? আসলে আমার ভাইকে শুধু মানসিক নয়, শারীরিক নির্যাতনও করা হয়েছে।

৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিমকে জেরা করা শুরু করে। পরে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা ওই শিক্ষকের কক্ষে অবস্থান করে। পরে শিক্ষক ক্যাম্পাসসংলগ্ন বাসায় যান। সেখানে দুপুর ২টার দিকে টয়লেটে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ ওঠে, শিক্ষকের কক্ষে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং মানসিক নির্যাতন চালান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন