গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর আত্মহত্যা, আরেক সাক্ষীকে হুমকি
jugantor
সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে পিটিয়ে হত্যা
গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর আত্মহত্যা, আরেক সাক্ষীকে হুমকি

  সিলেট ব্যুরো  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে হত্যার শিকার রায়হানের মা সালমা বেগম অভিযোগ করেছেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী চুনাই লাল আত্মহত্যা করেছেন। অপর সাক্ষী হাসানকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাক্ষী দিতে মানা করা হচ্ছে। চুনাই লালের বাসা থেকে যুবক রায়হানকে ধরে নেওয়া হয়েছিল আর ফাঁড়িতে নেওয়ার পর রাতভর নির্যাতনের সাক্ষী হলেন হাসান।

রোববার রায়হান হত্যা মামলার শুনানিতে আসেন সালমা বেগম। এ সময় আদালতপাড়ায় অপেক্ষমান সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমার নিরাপরাধ ছেলে রায়হানকে চুনাই লালের ঘর থেকে ধরে নিয়ে বন্দর ফাঁড়িতে নিয়ে রাতভর পিটিয়ে হত্যা করে পুলিশ। ধরে নেওয়া এবং রাতভর নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার সাক্ষী চুনাইলাল ও হাসান। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ দুই সাক্ষীর মধ্যে চুনাইলাল নাকি দুই মাস আগে আত্মহত্যা করেছে। অপর সাক্ষী হাসান বন্দর ফাঁড়ি সংলগ্ন কুদরত উল্লাহ মার্কেটের দোতলা থেকে রায়হানকে নির্যাতন ও তার কান্না শুনেছিল। তাকে সাক্ষী না দিতে বলা হচ্ছে। সাক্ষী দিলে বিপদ আছে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই হাসানই আমাদের জানিয়েছিলেন নির্যাতনে রায়হান মারা গেছে। হুমকিতে থাকা হাসান এখন ঢাকায়।

রায়হানের মা শংকা প্রকাশ করে বলেন, দুই সাক্ষীর যেখানে এমন অবস্থা সেখানে আমিসহ আমার পরিবার মোটেও নিরাপদ নই। আসামিরা জেলে থাকলেও পুলিশের প্রভাবশালী লোক। তারা জেল থেকে বেরুলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

জানতে চাইলে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি আলী মাহমুদ বলেন, ‘সাক্ষী চুনাই লাল আত্মহত্যা করেছেন এটা সত্য। ১ ডিসেম্বর আত্মহত্যা করলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের তদবির করা হয়েছিল। আমরা ময়নাতদন্ত করেই লাশ দিয়েছি।’

গত বছরের ১১ অক্টোবর যুবক রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে রায়হানের শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। পুলিশের পর পিবিআই তদন্ত করে মামলার চার্জশিট দেয়। চলতি বছরের ৫ মে মামলার পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন ১ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। এতে পাঁচ পুলিশসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ। অভিযুক্ত অপরজন কথিত সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল নোমান এখনও পলাতক।

এদিকে পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমানের মালামাল ক্রোকি পরোয়ানার শুনানি ছিল রোববার। কিন্তু সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে জারি করা ক্রোকি পরোয়ানা তামিল হয়ে না আসায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে পিটিয়ে হত্যা

গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর আত্মহত্যা, আরেক সাক্ষীকে হুমকি

 সিলেট ব্যুরো 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে হত্যার শিকার রায়হানের মা সালমা বেগম অভিযোগ করেছেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী চুনাই লাল আত্মহত্যা করেছেন। অপর সাক্ষী হাসানকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাক্ষী দিতে মানা করা হচ্ছে। চুনাই লালের বাসা থেকে যুবক রায়হানকে ধরে নেওয়া হয়েছিল আর ফাঁড়িতে নেওয়ার পর রাতভর নির্যাতনের সাক্ষী হলেন হাসান।

রোববার রায়হান হত্যা মামলার শুনানিতে আসেন সালমা বেগম। এ সময় আদালতপাড়ায় অপেক্ষমান সাংবাদিকদের তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমার নিরাপরাধ ছেলে রায়হানকে চুনাই লালের ঘর থেকে ধরে নিয়ে বন্দর ফাঁড়িতে নিয়ে রাতভর পিটিয়ে হত্যা করে পুলিশ। ধরে নেওয়া এবং রাতভর নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার সাক্ষী চুনাইলাল ও হাসান। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ দুই সাক্ষীর মধ্যে চুনাইলাল নাকি দুই মাস আগে আত্মহত্যা করেছে। অপর সাক্ষী হাসান বন্দর ফাঁড়ি সংলগ্ন কুদরত উল্লাহ মার্কেটের দোতলা থেকে রায়হানকে নির্যাতন ও তার কান্না শুনেছিল। তাকে সাক্ষী না দিতে বলা হচ্ছে। সাক্ষী দিলে বিপদ আছে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই হাসানই আমাদের জানিয়েছিলেন নির্যাতনে রায়হান মারা গেছে। হুমকিতে থাকা হাসান এখন ঢাকায়।

রায়হানের মা শংকা প্রকাশ করে বলেন, দুই সাক্ষীর যেখানে এমন অবস্থা সেখানে আমিসহ আমার পরিবার মোটেও নিরাপদ নই। আসামিরা জেলে থাকলেও পুলিশের প্রভাবশালী লোক। তারা জেল থেকে বেরুলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে।

জানতে চাইলে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি আলী মাহমুদ বলেন, ‘সাক্ষী চুনাই লাল আত্মহত্যা করেছেন এটা সত্য। ১ ডিসেম্বর আত্মহত্যা করলে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের তদবির করা হয়েছিল। আমরা ময়নাতদন্ত করেই লাশ দিয়েছি।’

গত বছরের ১১ অক্টোবর যুবক রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্ত রিপোর্টে রায়হানের শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। পুলিশের পর পিবিআই তদন্ত করে মামলার চার্জশিট দেয়। চলতি বছরের ৫ মে মামলার পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন ১ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। এতে পাঁচ পুলিশসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ। অভিযুক্ত অপরজন কথিত সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল নোমান এখনও পলাতক।

এদিকে পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমানের মালামাল ক্রোকি পরোয়ানার শুনানি ছিল রোববার। কিন্তু সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে জারি করা ক্রোকি পরোয়ানা তামিল হয়ে না আসায় পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন