অং সান সু চির ৪ বছরের কারাদণ্ড
jugantor
অং সান সু চির ৪ বছরের কারাদণ্ড

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত ও গৃহবন্দি নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে প্রথম মামলার রায়ে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের একটি আদালত সোমবার এ রায় দেন। এ রায়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এএফপি ও বিবিসি।

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানি ও কোভিড প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইনের অধীনে দেশটির আদালত মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রীকে এ সাজা দিয়েছেন। তবে তাকে কবে কারাগারে রাখা হবে তা এখনো জানানো হয়নি। মামলার অপর আসামি সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের মিত্র ও সাবেক রাষ্ট্রপতি উইন মিন্টকেও একই সাজা দিয়েছেন আদালত। ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার ৭৬ বছর বয়সি গৃহবন্দি সু চির বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করে। গত জুন থেকে আদালতের শুনানিসহ এসব বিচার মামলার বিচারকাজ চলছে। সব মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ৭৬ বছর বয়সি এ নেত্রীকে ১০০ বছরের বেশি অর্থাৎ আজীবন কারাগারে থাকতে হতে পারে। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছেন অং সান সু চি।

অং সান সু চির বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচার, নিয়মবহির্ভূতভাবে ওয়াকিটকি রাখা ও ব্যবহার, ক্ষমতায় থাকাকালে অবৈধভাবে ১১ কেজি স্বর্ণ ও ছয় লাখ ডলার নগদ গ্রহণ, নিজের দাতব্য সংস্থার নামে অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণ ও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় গাফিলতি। এ রায় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জান্তা সরকারের মুখপাত্র জ মিন তুন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভিন্ন মতাবলম্বীদের উসকে দেওয়া ও দুর্যোগ আইনের আওতায় নির্ধারিত করোনা বিধি ভঙ্গ করায় সু চিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দুজনের কাউকে এখনই কারাগারে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জ মিন তুন। তিনি বলেন, নেপিদোতে যেখানে তারা এখন আছেন আপাতত সেখানেই তাদের রেখে অপর মামলাগুলোর শুনানি হবে। নেপিদোর যে অজ্ঞাত স্থানে সু চি ও উইন মিন্টকে বন্দি রাখা হয়েছে তার উল্লেখ করেছেন মিন তুন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করেননি তিনি। এর আগে গত মাসে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ মিন তুন দাবি করেছিলেন, সু চি ভালো অবস্থায় আছেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে (সু চিকে) বন্দি করলেও বাড়িতে আপনজনদের মধ্যে থাকার সুযোগ দিয়েছি। তিনি তো গৃহবন্দি।

সু চির সাজার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষোভ : অং সান সু চির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পরপরই এর নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনের প্রচারবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মিং ইয়ু হা বলেন, ভুয়া অভিযোগে অং সান সু চিকে কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশের ভেতরে যে বিরোধী মত দমন ও স্বাধীনতা হরণের চেষ্টা চালাচ্ছে; এ সাজা ঘোষণা তারই সর্বশেষ দৃষ্টান্ত।

মিয়ানমারে নিয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হরসি বলেন, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এ সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। সু চিকে কারাগারে পাঠানো হবে না বলে মনে করেন তিনি। হরসি বলেন, তাকে (সু চি) কারাগারে পাঠানো হলে তা হবে বিস্ময়ের ব্যাপার। খুব সম্ভবত এবারের সাজা এবং পরে যেসব সাজা ঘোষণা করা হবে, তার সবই তিনি তার বাড়িতে অথবা সরকারের গেস্টহাউজে ভোগ করবেন।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রুস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য এটি ভয়ংকর চেষ্টা। ব্রিটেন রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে, সংলাপে যুক্ত হতে এবং গণতন্ত্রে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানায়। নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের নির্বিচারে আটক করা কেবল আরও অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ায়, তিনি যোগ করেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার প্রধান মিশেল বাসলেট এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অং সান সু চির মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত আদালতের গোপন বিচারে রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলরকে দোষী সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাজধানীর নেপিদোতে যে বিশেষ সেনা আদালতে সু চির বিচারকাজ চলছে, সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। সু চির আইনজীবীরাও সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে পারেন না।

সু চির পাশাপাশি আটক থাকা এনএলডির অন্য সদস্যদেরও বিচার চলছে। গত মাসের শুরুতে সাবেক একজন মন্ত্রীকে ৭৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সু চির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে দেওয়া হয়েছে ২০ বছরের কারাদণ্ড।

সু চির ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়। ১৬ বছর কাটানোর পর গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পান তিনি। ২০১৫ সালে দেশে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে তার দল এনএলডি বড় জয় পায়। স্টেট কাউন্সিলর হিসাবে সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে এনএলডি ফের বড় জয় পায়।

অং সান সু চির ৪ বছরের কারাদণ্ড

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত ও গৃহবন্দি নেত্রী অং সান সু চির বিরুদ্ধে প্রথম মামলার রায়ে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের একটি আদালত সোমবার এ রায় দেন। এ রায়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এএফপি ও বিবিসি।

সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানি ও কোভিড প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আইনের অধীনে দেশটির আদালত মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রীকে এ সাজা দিয়েছেন। তবে তাকে কবে কারাগারে রাখা হবে তা এখনো জানানো হয়নি। মামলার অপর আসামি সু চির ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের মিত্র ও সাবেক রাষ্ট্রপতি উইন মিন্টকেও একই সাজা দিয়েছেন আদালত। ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এরপর ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার ৭৬ বছর বয়সি গৃহবন্দি সু চির বিরুদ্ধে ১১টি মামলা করে। গত জুন থেকে আদালতের শুনানিসহ এসব বিচার মামলার বিচারকাজ চলছে। সব মামলার রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ৭৬ বছর বয়সি এ নেত্রীকে ১০০ বছরের বেশি অর্থাৎ আজীবন কারাগারে থাকতে হতে পারে। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছেন অং সান সু চি।

অং সান সু চির বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচার, নিয়মবহির্ভূতভাবে ওয়াকিটকি রাখা ও ব্যবহার, ক্ষমতায় থাকাকালে অবৈধভাবে ১১ কেজি স্বর্ণ ও ছয় লাখ ডলার নগদ গ্রহণ, নিজের দাতব্য সংস্থার নামে অবৈধভাবে ভূমি অধিগ্রহণ ও করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ায় গাফিলতি। এ রায় নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জান্তা সরকারের মুখপাত্র জ মিন তুন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভিন্ন মতাবলম্বীদের উসকে দেওয়া ও দুর্যোগ আইনের আওতায় নির্ধারিত করোনা বিধি ভঙ্গ করায় সু চিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দুজনের কাউকে এখনই কারাগারে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন জ মিন তুন। তিনি বলেন, নেপিদোতে যেখানে তারা এখন আছেন আপাতত সেখানেই তাদের রেখে অপর মামলাগুলোর শুনানি হবে। নেপিদোর যে অজ্ঞাত স্থানে সু চি ও উইন মিন্টকে বন্দি রাখা হয়েছে তার উল্লেখ করেছেন মিন তুন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করেননি তিনি। এর আগে গত মাসে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ মিন তুন দাবি করেছিলেন, সু চি ভালো অবস্থায় আছেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে (সু চিকে) বন্দি করলেও বাড়িতে আপনজনদের মধ্যে থাকার সুযোগ দিয়েছি। তিনি তো গৃহবন্দি।

সু চির সাজার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষোভ : অং সান সু চির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পরপরই এর নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনের প্রচারবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মিং ইয়ু হা বলেন, ভুয়া অভিযোগে অং সান সু চিকে কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশের ভেতরে যে বিরোধী মত দমন ও স্বাধীনতা হরণের চেষ্টা চালাচ্ছে; এ সাজা ঘোষণা তারই সর্বশেষ দৃষ্টান্ত।

মিয়ানমারে নিয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হরসি বলেন, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এ সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। সু চিকে কারাগারে পাঠানো হবে না বলে মনে করেন তিনি। হরসি বলেন, তাকে (সু চি) কারাগারে পাঠানো হলে তা হবে বিস্ময়ের ব্যাপার। খুব সম্ভবত এবারের সাজা এবং পরে যেসব সাজা ঘোষণা করা হবে, তার সবই তিনি তার বাড়িতে অথবা সরকারের গেস্টহাউজে ভোগ করবেন।

ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রুস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য এটি ভয়ংকর চেষ্টা। ব্রিটেন রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে, সংলাপে যুক্ত হতে এবং গণতন্ত্রে ফিরে আসার অনুমতি দেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানায়। নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের নির্বিচারে আটক করা কেবল আরও অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ায়, তিনি যোগ করেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার প্রধান মিশেল বাসলেট এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অং সান সু চির মুক্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত আদালতের গোপন বিচারে রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলরকে দোষী সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাজধানীর নেপিদোতে যে বিশেষ সেনা আদালতে সু চির বিচারকাজ চলছে, সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি নেই। সু চির আইনজীবীরাও সংবাদমাধ্যমে কথা বলতে পারেন না।

সু চির পাশাপাশি আটক থাকা এনএলডির অন্য সদস্যদেরও বিচার চলছে। গত মাসের শুরুতে সাবেক একজন মন্ত্রীকে ৭৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সু চির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে দেওয়া হয়েছে ২০ বছরের কারাদণ্ড।

সু চির ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়। ১৬ বছর কাটানোর পর গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পান তিনি। ২০১৫ সালে দেশে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে তার দল এনএলডি বড় জয় পায়। স্টেট কাউন্সিলর হিসাবে সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে এনএলডি ফের বড় জয় পায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন