খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠান
jugantor
সরকারকে মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠান

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফখরুল

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দ্রুত চিকিৎসায় বিদেশে পাঠানোর জন্য আবারও দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশনেত্রী আজ বন্দি। তার চিকিৎসা হচ্ছে না। চিকিৎসকরা বলেছেন, এখন বাংলাদেশে এমন কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নেই যেখানে উন্নত ও পরবর্তী চিকিৎসা সম্ভব। সেটা একমাত্র আছে বিদেশের উন্নত সেন্টারে। যখন সব দেশ, সব জাতি, সব মানুষ আজকে বলছেন, তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো দরকার; তখন এই সরকার তাকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। তারা বিভিন্ন কথা বলছেন। আইন কোনো বাধা নয়, বাধা হচ্ছে সরকার। কারণ আইনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে ৪০১ ধারার অধীনে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো যেতে পারে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে এই সভা হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জঘন্য, নিকৃষ্ট কথাবার্তা বলছেন। একজন ভুঁইফোঁড় চিকিৎসক ছিল শুনেছি, সম্ভবত জামালপুরের সরিষাবাড়ীর। এটাও শুনেছি সে নাকি একসময় ছাত্রদল করত। দুঃখের কথা, দুর্ভাগ্যের কথা, আগে সে ছাত্রদল করত। সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রচার সম্পাদক ছিল। পরবর্তীকালে সে ছাত্রলীগে জয়েন করেছে। ধিক্কার দিই তাকে।

তিনি বলেন, আরও মারাত্মক হচ্ছে তথ্যপ্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের শেষের দিকের কথা। বলেছেন, ‘আমি যা কিছু করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই করছি এবং তা তিনি সব কিছু জানেন।’ আমি স্পষ্টভাবে প্রশ্ন করতে চাই প্রধানমন্ত্রীকে-এই কথা সত্য কি মিথ্যা আপনাকে জানাতে হবে। কারণ আপনাকে জড়িয়ে এই কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জানতে চাই, আপনি কি এমন একটি সরকার নিয়ে এখানে এসেছেন যে সরকার দেশের সব কৃষ্টি, সৌজন্যবোধ, ঐহিত্যগুলোকে বিনষ্ট করে দেবে? রাজনীতিকে তো ধ্বংস করেছেনই। এখন ন্যূনতম মূল্যবোধ, মা-বোনের প্রতি সম্মান-শ্রদ্ধা, সেটাও কি আপনি ধ্বংস করে দেবেন?

তিনি বলেন, এই যে বর্ণবাদী কথা, নারী বিদ্বেষী কথা-এটা তাদের চরিত্র। এ নিয়ে সবার সোচ্চার হওয়া উচিত। একটা কথা মনে রাখতে হবে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ, নব্বইয়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটি সভ্য স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণ করার জন্য। আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই দেশটি একটি অসভ্য, অশালীন, অমর্যাদাকর দেশে পরিণত হয়েছে।

এ সময় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয়তলায় যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিন দাঁড়িয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘মুরাদ ছাত্রদল করেনি।’ এ সময় মহাসচিবের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এই তরুণ যুবদল নেতা। মির্জা ফখরুল তাকে থামিয়ে বলেন, ‘ইউ ডোন্ট নো। তুমি বাজে কথা বলবে না। তুমি জান না। আমি জেনে বলছি।’ তারপরও শাহিন পুনরায় মহাসচিবের সঙ্গে তর্ক শুরু করলে পুরো মিলনায়তনে কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। মহাসচিব তাকে চুপ করতে বলেন এবং নিচে নেমে মঞ্চে আসার জন্য বলেন। এ সময় মিলনায়তনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকেন।

পরে মঞ্চে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ, দক্ষিণের আবদুস সালাম হাত উঠিয়ে তাকে চুপ করতে বলেন। তখন বিএনপি মহাসচিব সবাইকে শান্ত হয়ে বসার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের একসময়ে সে ছাত্রদল করেছে, পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের নেতা হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্য-আমাদের এরকম একটা ছেলে ওই সময়ে ছাত্রদলে ছিল।

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নব্বইয়ের সাবেক ছাত্রনেতার মধ্যে ড. আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুৎফুর রহমান, আসাদুর রহমান খান, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

আর কথা নয়, এখন থেকে অ্যাকশন-গয়েশ্বর : এদিকে সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের আর কথা নয়; এখন থেকে অ্যাকশন। অ্যাকশন এগেইনিস্ট মিডনাইট গভর্নমেন্ট। সারা দেশের গ্রামগঞ্জ, শহর-বন্দরে একটি সুর-শেখ হাসিনা সরকার ভোট চোর। এদের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে উপজেলা পরিষদের দলীয় সাবেক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের ব্যানারে এ সমাবেশ হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার কল্যাণে মন্ত্রী-এমপি হয়েছি। এবার আমাদের দেওয়ার পালা, নেওয়ার নয়।

দেশনেত্রীর হাতে কতদিন সময় আছে, জানি না। দেশনেত্রী ভাল অবস্থায় নেই। এখন সবাই বলছেন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে তিলেতিলে মেরে ফেলা হচ্ছে।

সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের প্রথিতযশা চিকিৎসকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ হচ্ছে, এ দেশে তার আর কোনো চিকিৎসা নেই। তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হবে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন। এ সময় জিয়া পরিবার সম্পর্কে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তিনি। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, সাবেক জনপ্রতিনিধি জাকির হোসেন, শাহে আলম, আবু সাইদ চাঁন, দেওয়ান শফিকুজ্জামান, তমিজ উদ্দিন, কফিল উদ্দিন, ফৈরদৌসী মিতা, সাবেরা নাজমুন মুন্নী, হোসনে আরা, দিলদার হোসেন, জাফর ইকবাল হিরন, আমিনুল ইসলাম বাদশা, সরকার বাদল, মোর্শেদ মিল্টন, মশিউর রহমান, নবী নেওয়াজ খান, জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।

বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে সোমবার বৃষ্টির মধ্যেই বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, আকরামুল হাসান, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, অধ্যক্ষ সেলিম মিঞা, জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, মাহাবুব আলম শিকদার, ছাত্রদলের ওমর ফারুক কাওসার, মশিউর রহমান রনি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজু আহমেদ প্রমুখ।

সরকারকে মির্জা ফখরুল

খালেদা জিয়াকে দ্রুত বিদেশে পাঠান

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ফখরুল
রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সোমবার ’৯০-র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ অতিথিরা -যুগান্তর

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে দ্রুত চিকিৎসায় বিদেশে পাঠানোর জন্য আবারও দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশনেত্রী আজ বন্দি। তার চিকিৎসা হচ্ছে না। চিকিৎসকরা বলেছেন, এখন বাংলাদেশে এমন কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নেই যেখানে উন্নত ও পরবর্তী চিকিৎসা সম্ভব। সেটা একমাত্র আছে বিদেশের উন্নত সেন্টারে। যখন সব দেশ, সব জাতি, সব মানুষ আজকে বলছেন, তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো দরকার; তখন এই সরকার তাকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। তারা বিভিন্ন কথা বলছেন। আইন কোনো বাধা নয়, বাধা হচ্ছে সরকার। কারণ আইনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে ৪০১ ধারার অধীনে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো যেতে পারে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে এই সভা হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত জঘন্য, নিকৃষ্ট কথাবার্তা বলছেন। একজন ভুঁইফোঁড় চিকিৎসক ছিল শুনেছি, সম্ভবত জামালপুরের সরিষাবাড়ীর। এটাও শুনেছি সে নাকি একসময় ছাত্রদল করত। দুঃখের কথা, দুর্ভাগ্যের কথা, আগে সে ছাত্রদল করত। সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রচার সম্পাদক ছিল। পরবর্তীকালে সে ছাত্রলীগে জয়েন করেছে। ধিক্কার দিই তাকে।

তিনি বলেন, আরও মারাত্মক হচ্ছে তথ্যপ্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের শেষের দিকের কথা। বলেছেন, ‘আমি যা কিছু করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই করছি এবং তা তিনি সব কিছু জানেন।’ আমি স্পষ্টভাবে প্রশ্ন করতে চাই প্রধানমন্ত্রীকে-এই কথা সত্য কি মিথ্যা আপনাকে জানাতে হবে। কারণ আপনাকে জড়িয়ে এই কথা বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জানতে চাই, আপনি কি এমন একটি সরকার নিয়ে এখানে এসেছেন যে সরকার দেশের সব কৃষ্টি, সৌজন্যবোধ, ঐহিত্যগুলোকে বিনষ্ট করে দেবে? রাজনীতিকে তো ধ্বংস করেছেনই। এখন ন্যূনতম মূল্যবোধ, মা-বোনের প্রতি সম্মান-শ্রদ্ধা, সেটাও কি আপনি ধ্বংস করে দেবেন?

তিনি বলেন, এই যে বর্ণবাদী কথা, নারী বিদ্বেষী কথা-এটা তাদের চরিত্র। এ নিয়ে সবার সোচ্চার হওয়া উচিত। একটা কথা মনে রাখতে হবে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ, নব্বইয়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, একটি সভ্য স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মাণ করার জন্য। আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই দেশটি একটি অসভ্য, অশালীন, অমর্যাদাকর দেশে পরিণত হয়েছে।

এ সময় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয়তলায় যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহিন দাঁড়িয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘মুরাদ ছাত্রদল করেনি।’ এ সময় মহাসচিবের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এই তরুণ যুবদল নেতা। মির্জা ফখরুল তাকে থামিয়ে বলেন, ‘ইউ ডোন্ট নো। তুমি বাজে কথা বলবে না। তুমি জান না। আমি জেনে বলছি।’ তারপরও শাহিন পুনরায় মহাসচিবের সঙ্গে তর্ক শুরু করলে পুরো মিলনায়তনে কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। মহাসচিব তাকে চুপ করতে বলেন এবং নিচে নেমে মঞ্চে আসার জন্য বলেন। এ সময় মিলনায়তনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকেন।

পরে মঞ্চে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ, দক্ষিণের আবদুস সালাম হাত উঠিয়ে তাকে চুপ করতে বলেন। তখন বিএনপি মহাসচিব সবাইকে শান্ত হয়ে বসার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের একসময়ে সে ছাত্রদল করেছে, পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের নেতা হয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্য-আমাদের এরকম একটা ছেলে ওই সময়ে ছাত্রদলে ছিল।

ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মিলনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নব্বইয়ের সাবেক ছাত্রনেতার মধ্যে ড. আসাদুজ্জামান রিপন, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিম উদ্দিন আলম, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাইফুদ্দিন মনি, খন্দকার লুৎফুর রহমান, আসাদুর রহমান খান, কামরুজ্জামান রতন, এবিএম মোশাররফ হোসেন, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

আর কথা নয়, এখন থেকে অ্যাকশন-গয়েশ্বর : এদিকে সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের আর কথা নয়; এখন থেকে অ্যাকশন। অ্যাকশন এগেইনিস্ট মিডনাইট গভর্নমেন্ট। সারা দেশের গ্রামগঞ্জ, শহর-বন্দরে একটি সুর-শেখ হাসিনা সরকার ভোট চোর। এদের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে উপজেলা পরিষদের দলীয় সাবেক চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের ব্যানারে এ সমাবেশ হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার কল্যাণে মন্ত্রী-এমপি হয়েছি। এবার আমাদের দেওয়ার পালা, নেওয়ার নয়।

দেশনেত্রীর হাতে কতদিন সময় আছে, জানি না। দেশনেত্রী ভাল অবস্থায় নেই। এখন সবাই বলছেন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে তিলেতিলে মেরে ফেলা হচ্ছে।

সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের প্রথিতযশা চিকিৎসকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ হচ্ছে, এ দেশে তার আর কোনো চিকিৎসা নেই। তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হবে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন। এ সময় জিয়া পরিবার সম্পর্কে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তিনি। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, সাবেক জনপ্রতিনিধি জাকির হোসেন, শাহে আলম, আবু সাইদ চাঁন, দেওয়ান শফিকুজ্জামান, তমিজ উদ্দিন, কফিল উদ্দিন, ফৈরদৌসী মিতা, সাবেরা নাজমুন মুন্নী, হোসনে আরা, দিলদার হোসেন, জাফর ইকবাল হিরন, আমিনুল ইসলাম বাদশা, সরকার বাদল, মোর্শেদ মিল্টন, মশিউর রহমান, নবী নেওয়াজ খান, জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।

বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে সোমবার বৃষ্টির মধ্যেই বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, আকরামুল হাসান, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহিম, অধ্যক্ষ সেলিম মিঞা, জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, মাহাবুব আলম শিকদার, ছাত্রদলের ওমর ফারুক কাওসার, মশিউর রহমান রনি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজু আহমেদ প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন