এটা ব্যাটিং নাকি বাইশ গজে আত্মহনন?
jugantor
এটা ব্যাটিং নাকি বাইশ গজে আত্মহনন?
বাংলাদেশ ৭৬/৭ * পাকিস্তান ৩০০/৪ ডিক্লেয়ার

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল  

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাঁচদিনের টেস্ট ম্যাচে আড়াইদিনেরও বেশি সময় চলে গেছে বৃষ্টির পেটে। অনেকেই দেখছেন ড্র। চতুর্থদিনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের হরর শো’তে নিষ্প্রাণ ম্যাচ প্রাণ ফিরে পেল। ২৬ ওভারেই নতুন মোড়ে ঢাকা টেস্ট। মঙ্গলবার মধ্যাহ্ন বিরতির সময় এক সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক বললেন, পাকিস্তান যতক্ষণ ব্যাটিংয়ে, ততক্ষণ ম্যাচে বাংলাদেশ। কারও কারও কাছে হাস্যকর মনে হলো। কেউ কেউ সমর্থন দিলেন। দিনশেষে সবাই ওই সাংবাদিকের সমর্থক। বাংলাদেশ ব্যাট করেছে মাত্র ২৬ ওভার, তাতেই জয়ের স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান। সাজিদ খানের ছয় উইকেটে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭৬/৭। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে। ফলোঅন এড়াতে স্বাগতিকদের প্রয়োজন আরও ২৫ রান। এর আগে চার হাফ সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে চার উইকেটে ৩০০ রানে।

দিনের খেলা শুরু হয় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট দেরিতে। শেষ হয় এক ঘণ্টা আগে। আগের তিনদিন খেলা হয়েছিল মাত্র ৬৩.২ ওভার। এর মধ্যে পরিত্যক্ত হয় তৃতীয়দিনের খেলা। কাল শেষ পর্যন্ত আলোর স্বল্পতার কারণে চা-বিরতির সময় দিনের খেলা শেষ করতে হয়। দিনের প্রথম ওভার শাহিন আফ্রিদি করার পর ব্যাটারদের অভিযোগে স্পিন আক্রমণ সাজাতে হয় পাকিস্তানকে। তবে বাংলাদেশের উইকেট নেওয়ার জন্য তো কোনো বিশেষ বোলিং আক্রমণের প্রয়োজন হয় না। জায়গামতো বল করতে পারলেই হয়। আক্রমণাত্মক খেলার নামে বিভীষিকাময় ব্যাটিং উপহার দিলেন সাদমান-মুশফিকরা। বাজে শটের মহড়ায় শেষ হলো বাংলাদেশের দিন। পাকিস্তানের দুই স্পিনার সাজিদ ও নোমান আলী করেছেন ১২টি করে ওভার। স্পিনারদের দাপট দেখে ৩৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো হাতে বল তুলে নেন অধিনায়ক বাবর আজমও। তিনিও উইকেট তুলে নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেছিলেন।

মাহমুদুল হাসান জয়ের স্বপ্নের টেস্ট অভিষেক পরিণত হলো দুঃস্বপ্নে। ২১ বছর বয়সি ব্যাটার আউট হলেন শূন্য রানে। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকে শূন্য রানে আউট হওয়ার ২৬তম ঘটনা এটি। তবে টপঅর্ডার (১ থেকে ৩ নম্বর) ব্যাটারদের মধ্যে অভিষেকে শূন্য রানে আউট হয়েছেন মাহমুদুলের আগে শুধু সাইফ হাসান। তার জায়গায় অভিষেক হয়েছে মাহমুদুলের। সাদমান কয়েকবার শর্ট স্লিপের কাছে ক্যাচ তুলে দেন। ভুল অন্য জায়গায়। অফ-স্টাম্পের বাইরের আলগা বলে স্কোয়ার কাট খেলতে গিয়ে সাদমান তুলে দেন ক্যাচ। এরপর রান হবে না এমন শটেও দৌড়াতে গিয়ে রানআউট হয়ে ফিরলেন মুমিনুল। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাস তুলে মারতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচে ফেরেন। উইকেটে টিকে যাওয়ার পরও নাজমুল হোসেনের এলবিডব্ল– হওয়া তারই ভুলে। মিরাজের আউট হওয়ার ধরন দেখে সাকিব নিজের ব্যাটে সাজোরে আঘাত করেন। সাকিব আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। নাজমুলের (৩০) পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসাবে দুই অঙ্কে পৌঁছেছেন সাকিব। করেছেন ৩২ বলে ২৩* রান। আলোর স্বল্পতায় শেষ পর্যন্ত আগেভাগে খেলা শেষ হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ দল।

অথচ মনে করা হয়েছিল এই উইকেটে ব্যাটাররা ইচ্ছা করে আউট না হলে তাদের ফেরানো যাবে না। দুদিন বৃষ্টির কারণে উইকেট ছিল ঢাকা। তাতে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব হয়েছিল। আকাশ মেঘলা। উইকেটে বাউন্স অসমান। ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন কন্ডিশন। এমন উইকেটেও দারুণ ব্যাটিং করেছে পাকিস্তান। দিনের শুরুতে অবশ্য দ্রুত সেট দুই ব্যাটারকে তুলে নেন দুই পেসার ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ। বাবর আজমকে আউট করে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম উইকেট পান খালেদ। এরপর আর টলানো যায়নি সফরকারীদের। মোহাম্মদ রিজওয়ানের (৫৩*) ফিফটির পর ফাওয়াদ আলম (৫০*) হাফ সেঞ্চুরি ছুঁতেই ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা। পাকিস্তান পৌঁছে যায় ৩০০ রানে। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)

এটা ব্যাটিং নাকি বাইশ গজে আত্মহনন?

বাংলাদেশ ৭৬/৭ * পাকিস্তান ৩০০/৪ ডিক্লেয়ার
 জ্যোতির্ময় মণ্ডল 
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পাঁচদিনের টেস্ট ম্যাচে আড়াইদিনেরও বেশি সময় চলে গেছে বৃষ্টির পেটে। অনেকেই দেখছেন ড্র। চতুর্থদিনে বাংলাদেশের ব্যাটারদের হরর শো’তে নিষ্প্রাণ ম্যাচ প্রাণ ফিরে পেল। ২৬ ওভারেই নতুন মোড়ে ঢাকা টেস্ট। মঙ্গলবার মধ্যাহ্ন বিরতির সময় এক সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক বললেন, পাকিস্তান যতক্ষণ ব্যাটিংয়ে, ততক্ষণ ম্যাচে বাংলাদেশ। কারও কারও কাছে হাস্যকর মনে হলো। কেউ কেউ সমর্থন দিলেন। দিনশেষে সবাই ওই সাংবাদিকের সমর্থক। বাংলাদেশ ব্যাট করেছে মাত্র ২৬ ওভার, তাতেই জয়ের স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান। সাজিদ খানের ছয় উইকেটে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭৬/৭। প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে। ফলোঅন এড়াতে স্বাগতিকদের প্রয়োজন আরও ২৫ রান। এর আগে চার হাফ সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে চার উইকেটে ৩০০ রানে। 

দিনের খেলা শুরু হয় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট দেরিতে। শেষ হয় এক ঘণ্টা আগে। আগের তিনদিন খেলা হয়েছিল মাত্র ৬৩.২ ওভার। এর মধ্যে পরিত্যক্ত হয় তৃতীয়দিনের খেলা। কাল শেষ পর্যন্ত আলোর স্বল্পতার কারণে চা-বিরতির সময় দিনের খেলা শেষ করতে হয়। দিনের প্রথম ওভার শাহিন আফ্রিদি করার পর ব্যাটারদের অভিযোগে স্পিন আক্রমণ সাজাতে হয় পাকিস্তানকে। তবে বাংলাদেশের উইকেট নেওয়ার জন্য তো কোনো বিশেষ বোলিং আক্রমণের প্রয়োজন হয় না। জায়গামতো বল করতে পারলেই হয়। আক্রমণাত্মক খেলার নামে বিভীষিকাময় ব্যাটিং উপহার দিলেন সাদমান-মুশফিকরা। বাজে শটের মহড়ায় শেষ হলো বাংলাদেশের দিন। পাকিস্তানের দুই স্পিনার সাজিদ ও নোমান আলী করেছেন ১২টি করে ওভার। স্পিনারদের দাপট দেখে ৩৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো হাতে বল তুলে নেন অধিনায়ক বাবর আজমও। তিনিও উইকেট তুলে নেওয়ার মতো সুযোগ তৈরি করেছিলেন।

মাহমুদুল হাসান জয়ের স্বপ্নের টেস্ট অভিষেক পরিণত হলো দুঃস্বপ্নে। ২১ বছর বয়সি ব্যাটার আউট হলেন শূন্য রানে। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকে শূন্য রানে আউট হওয়ার ২৬তম ঘটনা এটি। তবে টপঅর্ডার (১ থেকে ৩ নম্বর) ব্যাটারদের মধ্যে অভিষেকে শূন্য রানে আউট হয়েছেন মাহমুদুলের আগে শুধু সাইফ হাসান। তার জায়গায় অভিষেক হয়েছে মাহমুদুলের। সাদমান কয়েকবার শর্ট স্লিপের কাছে ক্যাচ তুলে দেন। ভুল অন্য জায়গায়। অফ-স্টাম্পের বাইরের আলগা বলে স্কোয়ার কাট খেলতে গিয়ে সাদমান তুলে দেন ক্যাচ। এরপর রান হবে না এমন শটেও দৌড়াতে গিয়ে রানআউট হয়ে ফিরলেন মুমিনুল। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাস তুলে মারতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচে ফেরেন। উইকেটে টিকে যাওয়ার পরও নাজমুল হোসেনের এলবিডব্ল– হওয়া তারই ভুলে। মিরাজের আউট হওয়ার ধরন দেখে সাকিব নিজের ব্যাটে সাজোরে আঘাত করেন। সাকিব আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। নাজমুলের (৩০) পর দ্বিতীয় ব্যাটার হিসাবে দুই অঙ্কে পৌঁছেছেন সাকিব। করেছেন ৩২ বলে ২৩* রান। আলোর স্বল্পতায় শেষ পর্যন্ত আগেভাগে খেলা শেষ হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ দল। 

অথচ মনে করা হয়েছিল এই উইকেটে ব্যাটাররা ইচ্ছা করে আউট না হলে তাদের ফেরানো যাবে না। দুদিন বৃষ্টির কারণে উইকেট ছিল ঢাকা। তাতে স্যাঁতস্যাঁতে ভাব হয়েছিল। আকাশ মেঘলা। উইকেটে বাউন্স অসমান। ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন কন্ডিশন। এমন উইকেটেও দারুণ ব্যাটিং করেছে পাকিস্তান। দিনের শুরুতে অবশ্য দ্রুত সেট দুই ব্যাটারকে তুলে নেন দুই পেসার ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ। বাবর আজমকে আউট করে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম উইকেট পান খালেদ। এরপর আর টলানো যায়নি সফরকারীদের। মোহাম্মদ রিজওয়ানের (৫৩*) ফিফটির পর ফাওয়াদ আলম (৫০*) হাফ সেঞ্চুরি ছুঁতেই ইনিংস ঘোষণা করে সফরকারীরা। পাকিস্তান পৌঁছে যায় ৩০০ রানে। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন