সংবাদপত্র রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে
jugantor
এফবিসিসিআইর মতবিনিময়ে নোয়াব নেতারা
সংবাদপত্র রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পরিণত

করোনায় সব শিল্পই কমবেশি সরকারের সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু সংবাদপত্র শিল্প তা পায়নি। উলটো শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল কাগজের মূল্যবৃদ্ধিসহ অন্য খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় নীতি সহায়তার অভাবে সংবাদপত্র রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে।

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) নেতারা মঙ্গলবার এসব কথা বলেন। ‘দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যমের ভূমিকা, সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই (দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ)।

নোয়াব সভাপতি একে আজাদ বলেন, করোনায় প্রণোদনা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে নোয়াবের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সংবাদপত্র শিল্প পায়নি। তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্র শিল্পে আরও বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। যার কারণে আস্তে আস্তে এ শিল্প রুগ্ণ হয়ে যাচ্ছে। প্রধান কারণ হলো কাগজের উচ্চমূল্য। কাগজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। একটি পত্রিকা ছাপাতে খরচ হচ্ছে ২০-২২ টাকা। পাঠক কেনে ১০ টাকায়। সংবাদপত্র পায় সাড়ে ৬ টাকা। বাকি টাকা হকারকে দিয়ে দিতে হয়। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাকি খরচ মেটানো হয়। কিন্তু বিজ্ঞাপন কমে যাওয়ায় খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হকার সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশন এবং এফবিসিসিআইকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে একে আজাদ বলেন, হকাররা পাঠকদের কাছে সংবাদপত্র পৌঁছে দেন। অথচ তাদের বসার কোনো জায়গা নেই। সংবাদপত্র হকারদের জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের কাছে জায়গা চেয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সংবাদপত্রের কর কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, সব শিল্পে করহার ঠিক করা আছে। যেমন-তৈরি পোশাক খাতের জন্য নির্দিষ্ট করহার রয়েছে। একইভাবে সবগুলো খাতের জন্য একটি কর কাঠামো দেওয়া আছে। কিন্তু সংবাদপত্র শিল্পের জন্য কোনো কর কাঠামো নেই। ভ্যাটের ক্ষেত্রেও অনেক শিল্প ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পায়। এক্ষেত্রে তা নেই।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, খাতভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করতে এফবিসিসিআইর অনেক স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে। সংবাদপত্র শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং তা সমাধানে স্ট্যান্ডিং কমিটি করা হবে। এ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, ডাক্তার-নার্সদের পর গণমাধ্যম সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে। সেই দিক থেকে এ শিল্প প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য। পাশাপাশি কর কাঠামো সংস্কারে এফবিসিসিআই কাজ করবে বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল হেরাল্ড সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু প্রমুখ।

এফবিসিসিআইর মতবিনিময়ে নোয়াব নেতারা

সংবাদপত্র রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পরিণত
রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন -যুগান্তর

করোনায় সব শিল্পই কমবেশি সরকারের সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু সংবাদপত্র শিল্প তা পায়নি। উলটো শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল কাগজের মূল্যবৃদ্ধিসহ অন্য খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় নীতি সহায়তার অভাবে সংবাদপত্র রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হচ্ছে।

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) নেতারা মঙ্গলবার এসব কথা বলেন। ‘দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যমের ভূমিকা, সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই (দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ)।

নোয়াব সভাপতি একে আজাদ বলেন, করোনায় প্রণোদনা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে নোয়াবের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সংবাদপত্র শিল্প পায়নি। তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্র শিল্পে আরও বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। যার কারণে আস্তে আস্তে এ শিল্প রুগ্ণ হয়ে যাচ্ছে। প্রধান কারণ হলো কাগজের উচ্চমূল্য। কাগজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। একটি পত্রিকা ছাপাতে খরচ হচ্ছে ২০-২২ টাকা। পাঠক কেনে ১০ টাকায়। সংবাদপত্র পায় সাড়ে ৬ টাকা। বাকি টাকা হকারকে দিয়ে দিতে হয়। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাকি খরচ মেটানো হয়। কিন্তু বিজ্ঞাপন কমে যাওয়ায় খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হকার সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশন এবং এফবিসিসিআইকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে একে আজাদ বলেন, হকাররা পাঠকদের কাছে সংবাদপত্র পৌঁছে দেন। অথচ তাদের বসার কোনো জায়গা নেই। সংবাদপত্র হকারদের জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়রদের কাছে জায়গা চেয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। সংবাদপত্রের কর কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, সব শিল্পে করহার ঠিক করা আছে। যেমন-তৈরি পোশাক খাতের জন্য নির্দিষ্ট করহার রয়েছে। একইভাবে সবগুলো খাতের জন্য একটি কর কাঠামো দেওয়া আছে। কিন্তু সংবাদপত্র শিল্পের জন্য কোনো কর কাঠামো নেই। ভ্যাটের ক্ষেত্রেও অনেক শিল্প ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পায়। এক্ষেত্রে তা নেই।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, খাতভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করতে এফবিসিসিআইর অনেক স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে। সংবাদপত্র শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং তা সমাধানে স্ট্যান্ডিং কমিটি করা হবে। এ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, ডাক্তার-নার্সদের পর গণমাধ্যম সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছে। সেই দিক থেকে এ শিল্প প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য। পাশাপাশি কর কাঠামো সংস্কারে এফবিসিসিআই কাজ করবে বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল হেরাল্ড সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু প্রমুখ।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন