ডা. মুরাদের পতনে সন্ত্রাসমুক্ত সরিষাবাড়ী
jugantor
উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি
ডা. মুরাদের পতনে সন্ত্রাসমুক্ত সরিষাবাড়ী

  সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে পতন হয়েছে ডা. মুরাদ হাসানের। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গড়ে উঠা ১০১ সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। এতে সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে সরিষাবাড়ী।

জানা যায়, জামালপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত দুবারের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মুরাদ হাসান। এমপি হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের জিম্মি করে একক আধিপত্য বিস্তার করেন তিনি। তার এ আধিপত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে ১০১ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। তার গঠিত বাহিনীর তাণ্ডবে উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের পদ-পদবিধারী নেতাকর্মীরা জিম্মি হয়ে পড়েন। এতে বাকস্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেন তারা।

এভাবে সরিষাবাড়ীতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন মুরাদ হাসান। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। এ সব কর্মকাণ্ডের প্রধান নায়ক ছিল ডা. মুরাদের প্রতিনিধি সাখাওয়াতুল আলম মুকুল। তার প্রতিনিধি বনে যাওয়ায় সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হয়ে উঠে মুকুল।

এতে এলাকায় পরিচিত হয়ে উঠে মুকুল বাহিনী। উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের চৌখা গ্রামের হতদরিদ্র মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মুকুল। সন্তানের খরচ দিতে না পারায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার শিমলা পল্লী এলাকার শাহজাহান আলী শেখ শিশুকালে মুকুলকে দত্তক নেন। লেখাপড়ায় ভালো না হওয়ায় স্কুল জীবন শেষ করতে পারেনি সে। পরে হয়ে উঠে সন্ত্রাসের রাজা। ডা. মুরাদ মুকুলকে দিয়ে যমুনা সার কারখানায় ঠিকাদারিসহ সার সরবরাহ ও বিতরণে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলেন।

এছাড়া কারখানা এলাকায় ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরি মালিক সমিতি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল মুকুল। এসব সেক্টর থেকে মুরাদ মুকুলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। হঠাৎ করে মুরাদের বিভিন্ন অপকর্মের অডিও-ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর সাখাওয়াতুল আলম মুকুলসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপনে চলে গেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ জানান, দীর্ঘদিন পর ডা. মুরাদ হাসানের জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এখন সন্ত্রাসমুক্ত সরিষাবাড়ী।

উপজেলা আ.লীগ থেকেও অব্যাহতি : সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় দলের কার্যালয় কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা মুরাদকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানান। মুরাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নম্বর সদস্য ছিলেন।

ছানোয়ার হোসেন বলেন, ডা. মুরাদ হাসান এমপি হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের জিম্মি করে একক আধিপত্য বিস্তার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এছাড়া নারী কেলেংকারি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলামসহ দলের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি

ডা. মুরাদের পতনে সন্ত্রাসমুক্ত সরিষাবাড়ী

 সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিমন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে পতন হয়েছে ডা. মুরাদ হাসানের। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গড়ে উঠা ১০১ সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। এতে সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে সরিষাবাড়ী।

জানা যায়, জামালপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত দুবারের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মুরাদ হাসান। এমপি হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের জিম্মি করে একক আধিপত্য বিস্তার করেন তিনি। তার এ আধিপত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে ১০১ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেন। তার গঠিত বাহিনীর তাণ্ডবে উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের পদ-পদবিধারী নেতাকর্মীরা জিম্মি হয়ে পড়েন। এতে বাকস্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেন তারা।

এভাবে সরিষাবাড়ীতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন মুরাদ হাসান। সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। এ সব কর্মকাণ্ডের প্রধান নায়ক ছিল ডা. মুরাদের প্রতিনিধি সাখাওয়াতুল আলম মুকুল। তার প্রতিনিধি বনে যাওয়ায় সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হয়ে উঠে মুকুল।

এতে এলাকায় পরিচিত হয়ে উঠে মুকুল বাহিনী। উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের চৌখা গ্রামের হতদরিদ্র মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মুকুল। সন্তানের খরচ দিতে না পারায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার শিমলা পল্লী এলাকার শাহজাহান আলী শেখ শিশুকালে মুকুলকে দত্তক নেন। লেখাপড়ায় ভালো না হওয়ায় স্কুল জীবন শেষ করতে পারেনি সে। পরে হয়ে উঠে সন্ত্রাসের রাজা। ডা. মুরাদ মুকুলকে দিয়ে যমুনা সার কারখানায় ঠিকাদারিসহ সার সরবরাহ ও বিতরণে চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলেন।

এছাড়া কারখানা এলাকায় ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরি মালিক সমিতি এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল মুকুল। এসব সেক্টর থেকে মুরাদ মুকুলের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। হঠাৎ করে মুরাদের বিভিন্ন অপকর্মের অডিও-ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশে মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর সাখাওয়াতুল আলম মুকুলসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপনে চলে গেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ জানান, দীর্ঘদিন পর ডা. মুরাদ হাসানের জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়েছে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এখন সন্ত্রাসমুক্ত সরিষাবাড়ী।

উপজেলা আ.লীগ থেকেও অব্যাহতি : সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় দলের কার্যালয় কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানোয়ার হোসেন বাদশা মুরাদকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানান। মুরাদ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নম্বর সদস্য ছিলেন।

ছানোয়ার হোসেন বলেন, ডা. মুরাদ হাসান এমপি হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীদের জিম্মি করে একক আধিপত্য বিস্তার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তিনি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এছাড়া নারী কেলেংকারি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গণি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলামসহ দলের নেতাকর্মীরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন