যৌথসভায় এরশাদ

জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখে মরতে চাই

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এরশাদ

আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের আরও উদ্যমী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচন হয়তো আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখে যেতে চাই। তার আগে মরতে চাই না। ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ সফল করার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় এ আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এ যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে এরশাদ বলেন, আমার মনে হয়, সামনে আবারও একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। আমরা যদি শক্তিশালী হই, তাহলে কিছুই ভয় করি না। ১৫ ফেব্রুয়ারি আমরা দেখাতে চাই, আমরা শক্তিশালী দল। তিনি বলেন, দুর্বলের সঙ্গে কেউ হাত মেলায় না। আমার ফাইনাল কথা- শক্তি সঞ্চয় করো, হাত এগিয়ে আসবে। যৌথসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্ন রেখে এরশাদ বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মহাসমাবেশে কত লোক দরকার? ৫ লাখ। এখন আমাকে কথা দিয়ে যাও- তোমরা ৫ লাখ লোক জোগাড় করে আনবে। যদি করতে পার, ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত আমাদের জন্য।

এরশাদ বলেন, রংপুর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির জয়ের শুভযাত্রা শুরু। আমার মনে হয়, আমার বয়স ৪০ বছর। ভালো করলেই আমার বয়স কমে আসে। আর মন্দ হলে মনে হয় আমার বয়স বেড়ে যায়। তিনি বলেন, যারা বলছে জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে পারবে না, তারা মিথ্যা বলছে। আমি ৯০০ আসনে প্রার্থী দিতে সক্ষম ও প্রস্তুত। আমাদের জেলে দিয়েছিল জাতীয় পার্টিকে নিঃশেষ করতে, কিন্তু পারেনি। আমি এখনও বেঁচে আছি আল্লাহর রহমতে।

উত্তরবঙ্গের কথা তুলে ধরে এরশাদ বলেন, যমুনা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। বিএনপিও কাজ করেছিল। আওয়ামী লীগ আমলে শেষ করেছে। উদ্দেশ্য ছিল উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, কলকারখানা-ইন্ডাস্ট্রি হবে। বিএনপি গ্যাসলাইন নিয়েছিল বগুড়া পর্যন্ত। আওয়ামী লীগ নিয়েছিল সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত। আর আমি ক্ষমতায় গেলে উত্তরবঙ্গের সর্বত্র গ্যাসলাইন দেব। আমরা ক্ষমতায় না গেলে রংপুরে গ্যাস যাবে না।

কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমার বড় ভাই। তিনি তুখোড় খেলোয়াড়। যে কোনো খেলায় তিনি জয়লাভ করতেন, সে তুলনায় আমি অযোগ্য। কখন খেলতে হয়, তিনি ভালোই জানেন। লং রেসের রানারের মতো। আমাদের মধ্যে বিভেদ নেই, দূরত্ব নেই, আমরা একতাবদ্ধ। দেশ শাসন করার মতো শক্তি আছে।

পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন, তিন তিনবার আপনাকে সমর্থন দিয়েছি। এবার আপনি আমাদের সমর্থন দেন। দেশ শান্তিতে থাকবে, সুখে থাকবে। দেশ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।

যৌথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল কাশেম, গোলাম কিবরিয়া টিপু, সাহিদুর রহমান টেপা, নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী এমপি, সুনীল শুভরায়, মীর আবদুস সবুর আসুদ, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, নাছরিন জাহান রতনা এমপি, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট মহসিন রশীদ, তাজুল ইসলাম চৌধুরী এমপি, সোলায়মান আলম শেঠ, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, শফিকুল ইসলাম সেন্টু। আরও ছিলেন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ দিদার বখত, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, কাজী মামুনুর রশীদ, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, রওশন আরা মান্নান এমপি, সেলিম উদ্দিন এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান এমএ তালহা, মাহজাবিন মোর্শেদ এমপি, এইচএমএন শফিকুর রহমান, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, জহিরুল ইসলাম জহির, আরিফুর রহমান খান, আলমগীর সিকদার লোটন, নুরুল ইসলমা নুরু, বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, দিদারুল ইসলাম দিদার, শওকত চৌধুরী এমপি, আতাউর রহমান আতা। এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, নুরুল ইসলাম ওমর এমপি, শেখ আলমগীর হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন, আশরাফ সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, দিদারুল কবির দিদার, জহিরুল আলম রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ-ই-আজম, মনিরুল ইসলাম মিলন, আমির উদ্দিন ডালু, ফকরুল আহসান শাহজাদা, ইসহাক ভূঁইয়া, এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু এমপিও উপস্থিত ছিলেন।

জেলা নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি এসএম ফয়সল চিশতী, কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, ময়মনসিংহ জেলা সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইমাম এমপি, ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, রংপুর জেলা সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, সিলেট জেলা আহ্বায়ক এটিইউ তাজ রহমান, গাইবান্ধা জেলা সভাপতি আবদুর রশিদ সরকার, রংপুর মহানগর সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, রাজশাহী জেলা সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন, পটুয়াখালী জেলা সভাপতি সুলতান আহমেদ হাওলাদার, লক্ষ্মীপুর জেলা আহ্বায়ক নোমান মিয়া এমপি, উপদেষ্টা সোমনাথ দে, নাজমা আক্তার, মাগুরা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিরাজ সুজা, খুলনা জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু, চাঁদপুর জেলা আহ্বায়ক এমরান হোসেন মিয়া, দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শফি রুবেল, পঞ্চগড় জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক, শেরপুর জেলা সভাপতি ইলিয়াছ উদ্দিন। আরও বক্তব্য দেন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক মোল্লা মজিবুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেন, ভোলা জেলা সভাপতি কেফায়েত উল্লাহ নজিব, নেত্রকোনা সভাপতি অ্যাডভোকেট লিয়াকত হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ এমপি, রাজবাড়ী জেলা সভাপতি হাবিবুর রহমান বাচ্চু, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি নাফিজ উদ্দিন আহমেদ টিটু, সিলেট মহানগর সভাপতি ইয়াহইয়া চৌধুরী এমপি, কুমিল্লা দক্ষিণ সভাপতি নুরুল ইসলাম মিলন এমপি, পাবনা জেলা সভাপতি মকুবল হোসেন সন্টু, গাজীপুর মহানগর সভাপতি আবদুস সাত্তার, সিরাজগঞ্জ জেলা সভাপতি আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, নরসিংদী জেলা সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ভুইয়া, হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি বাবু শংকর পাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি জিয়াউল হক মৃধা এমপি, মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন, টাঙ্গাইল জেলা সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা সাধারণ সম্পাদক তিতাস মোস্তফা, ঝালকাঠি জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, যশোর জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরী, নড়াইল জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ, মানিকগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান সাঈদ প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter