করোনার সামাজিক সংক্রমণ শুরু
jugantor
চট্টগ্রামে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
করোনার সামাজিক সংক্রমণ শুরু

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম  

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শুরু

চট্টগ্রামে ১ জানুয়ারি (২৪ ঘণ্টার হিসাব) ৯ জনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছিল। আর ১৬ দিনের ব্যবধানে সোমবার (একদিনে) শনাক্ত হয়েছে ৭৪২ জন। এদিন করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পরীক্ষার তুলনায় করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। সেটি এখন প্রায় ২৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে শনাক্তের হার বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামে সামাজিক সংক্রমণ শুরুর ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন বাজার, বিপণিবিতান, বিনোদন কেন্দ্র, মেলা প্রাঙ্গণ, যানবাহন, অফিস-আদালত, রাস্তাঘাটে সর্বত্রই মাস্কবিহীন লোকজনকে ঘুরতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে। কিন্তু এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। বরং পদে পদে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।

এদিকে রোববার থেকে চট্টগ্রামে করোনার নমুনা সংগ্রহের বুথগুলোতে বেড়েছে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিআইটিআইডিসহ যেখানেই নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে সেখানেই রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনার ভ্যাকসিন নিতে শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন যেন শেষই হচ্ছে না। এখানেও স্বাস্থবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, অলিগলির চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। রেস্টুরেন্টে বসে গাদাগাদি করে খাবার খাচ্ছেন ক্রেতারা। নগরীর কাঁচাবাজার, মাছবাজার কিংবা বিপণিবিতান কোথাও স্বাস্থ্যবিধি পালনে কড়াকড়ি নেই। নগরীর গণপরিবহণগুলোতেও মানা হচ্ছে না বিধিনিষেধ। নির্দিষ্ট আসনের অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি অনেক চালক ও তার সহযোগীর মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। মাস্কবিহীন যাতায়াত করতে দেখা গেছে অনেক যাত্রীকেও। নগরীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে কঠোর হতে দেখা যায়নি। বিনোদন কেন্দ্রের প্রবেশ পথে মাস্ক পরে দর্শনার্থীরা ঢুকলেও ভেতরে গিয়ে সবাই তা খুলে রাখছেন। কেন্দ্রগুলোর ভেতরে সেলফি কিংবা একসঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে সবাই মাস্ক খুলে রাখছেন। এছাড়া নগরীতে বর্তমানে তিনটি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণগুলোতে দর্শনার্থীদের চিত্র প্রায় একই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, যারা করোনার টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা কমেছে। তাদের দেখাদেখি অনেকের মধ্যেই মাস্ক ব্যবহারে অনীহা দেখা দিয়েছে। ফলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) হচ্ছে। কিন্তু করোনা রোধে মাস্ক এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। সোমবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৫টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৮৮৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ সময় ৭৪২ জনের নমুনায় করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৯৭ জন মহানগরীর এবং ১৪৫ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এ সময় তিনজন করোনা আক্রান্ত মারা গেছেন। তিনজনই নগরীর বাসিন্দা। চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টার আগে গত বছরের ৬ অক্টোবর করোনায় ৩ জন মারা গিয়েছিলেন। সেই হিসাবে তিন মাসের বেশি সময় পর চট্টগ্রামে করোনায় তিনজনের মৃত্যু হলো। রোববার চট্টগ্রামে ৫৫০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। একদিনের ব্যবধানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯২ জন। এখন পর্যন্ত নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫১৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১ হাজার ৩৩৮ জন। চট্টগ্রামে ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। একই বছরের ৯ এপ্রিল প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

এদিকে সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী ভর্তি বাড়তে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি হসপাতালগুলোতেও রোগী বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চমেক হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৬৭ জন রোগী ভর্তি ছিল।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে সামাজিক সংক্রমণের কারণে করোনা রোগী বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

চট্টগ্রামে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

করোনার সামাজিক সংক্রমণ শুরু

 এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম 
১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শুরু
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সোমবার টিকা নিতে দীর্ঘ লাইন। করোনা সংক্রমণ বাড়লেও স্বাস্থবিধিতে নজর নেই কারও -যুগান্তর

চট্টগ্রামে ১ জানুয়ারি (২৪ ঘণ্টার হিসাব) ৯ জনের শরীরে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছিল। আর ১৬ দিনের ব্যবধানে সোমবার (একদিনে) শনাক্ত হয়েছে ৭৪২ জন। এদিন করোনা আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে পরীক্ষার তুলনায় করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিল প্রায় শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। সেটি এখন প্রায় ২৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই সময়ে শনাক্তের হার বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামে সামাজিক সংক্রমণ শুরুর ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন বাজার, বিপণিবিতান, বিনোদন কেন্দ্র, মেলা প্রাঙ্গণ, যানবাহন, অফিস-আদালত, রাস্তাঘাটে সর্বত্রই মাস্কবিহীন লোকজনকে ঘুরতে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে সরকার ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে। কিন্তু এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। বরং পদে পদে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি।

এদিকে রোববার থেকে চট্টগ্রামে করোনার নমুনা সংগ্রহের বুথগুলোতে বেড়েছে উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীর চাপ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিআইটিআইডিসহ যেখানেই নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে সেখানেই রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনার ভ্যাকসিন নিতে শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন যেন শেষই হচ্ছে না। এখানেও স্বাস্থবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, অলিগলির চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। রেস্টুরেন্টে বসে গাদাগাদি করে খাবার খাচ্ছেন ক্রেতারা। নগরীর কাঁচাবাজার, মাছবাজার কিংবা বিপণিবিতান কোথাও স্বাস্থ্যবিধি পালনে কড়াকড়ি নেই। নগরীর গণপরিবহণগুলোতেও মানা হচ্ছে না বিধিনিষেধ। নির্দিষ্ট আসনের অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি অনেক চালক ও তার সহযোগীর মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। মাস্কবিহীন যাতায়াত করতে দেখা গেছে অনেক যাত্রীকেও। নগরীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি মানা নিয়ে কঠোর হতে দেখা যায়নি। বিনোদন কেন্দ্রের প্রবেশ পথে মাস্ক পরে দর্শনার্থীরা ঢুকলেও ভেতরে গিয়ে সবাই তা খুলে রাখছেন। কেন্দ্রগুলোর ভেতরে সেলফি কিংবা একসঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে সবাই মাস্ক খুলে রাখছেন। এছাড়া নগরীতে বর্তমানে তিনটি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণগুলোতে দর্শনার্থীদের চিত্র প্রায় একই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, যারা করোনার টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা কমেছে। তাদের দেখাদেখি অনেকের মধ্যেই মাস্ক ব্যবহারে অনীহা দেখা দিয়েছে। ফলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সামাজিক সংক্রমণ) হচ্ছে। কিন্তু করোনা রোধে মাস্ক এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই। সোমবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৫টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৮৮৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ সময় ৭৪২ জনের নমুনায় করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৯৭ জন মহানগরীর এবং ১৪৫ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এ সময় তিনজন করোনা আক্রান্ত মারা গেছেন। তিনজনই নগরীর বাসিন্দা। চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টার আগে গত বছরের ৬ অক্টোবর করোনায় ৩ জন মারা গিয়েছিলেন। সেই হিসাবে তিন মাসের বেশি সময় পর চট্টগ্রামে করোনায় তিনজনের মৃত্যু হলো। রোববার চট্টগ্রামে ৫৫০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। একদিনের ব্যবধানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯২ জন। এখন পর্যন্ত নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় ১ লাখ ৭ হাজার ৫১৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ১ হাজার ৩৩৮ জন। চট্টগ্রামে ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। একই বছরের ৯ এপ্রিল প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

এদিকে সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগী ভর্তি বাড়তে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি হসপাতালগুলোতেও রোগী বাড়তে শুরু করেছে। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চমেক হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৬৭ জন রোগী ভর্তি ছিল।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে সামাজিক সংক্রমণের কারণে করোনা রোগী বাড়ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন