আরসা প্রধানের ভাইয়ের কাছে বাংলাদেশের এনআইডি
jugantor
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের আগুন
আরসা প্রধানের ভাইয়ের কাছে বাংলাদেশের এনআইডি

  কক্সবাজার প্রতিনিধি  

১৯ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও আগুনের ঘটনায় পুড়ে গেছে ২৯টি ঘর। সোমবার রাত ২টার দিকে কুতুপালং ইরানি পাহাড়ের ৫ নম্বর ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক নাইমুল হক।

তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি। ক্যাম্পে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

১৭ জানুয়ারি ‘ফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের নাশকতার ছক’ শিরোনামে যুগান্তরের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিনই অগ্নিকাণ্ড ঘটল। এর আগে ৯ জানুয়ারি ১৬ নম্বর ক্যাম্পে ও ২ জানুয়ারি ২ নম্বর ক্যাম্পে আগুন লেগেছিল। চলতি মাসে এটি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তৃতীয় আগুন লাগার ঘটনা। এদিকে, রোহিঙ্গাদের উগ্রপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহর ভাই শাহ আলীর কাছে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়া নিয়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানার দেওয়ানবাজারের জয়নব কলোনির ঠিকানা ব্যবহার করে ওই পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন তিনি। তাকে অস্ত্র ও মাদকসহ রোববার গ্রেফতারের পর উখিয়া থানায় করা মামলার এজাহারে পুলিশ এ তথ্য উল্লেখ করেছে। মামালার বাদী ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপপরিদর্শক রুহুল আজম।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, শাহ আলীকে আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রোববার রাতে মোট তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ সালেহ নামে এক যুবক বাদী হয়ে অপহরণ ঘটনায় একটি, ১৪ এপিবিএনের উপপরিদর্শক রুহুল আজম বাদী হয়ে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক অপর দুটি মামলা করেন। শাহ আলী ২০১৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তিনি হাইকোর্টের জামিনে আছেন।

শাহ আলীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ফাইলপত্র দেখে বিস্তারিত জানতে পারব। আমার স্বাক্ষর কেউ জাল করেছে কি না, তাও দেখতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যদি জানতে চান কিংবা কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টি আমরা যাচাই করে দেখব। আদৌ জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরটি সঠিক কি না, যাচাই করা হবে। যদি সঠিক হয়, তাহলে এটি কীভাবে হলো তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ায় লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে তার কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর ২৩ অক্টোবর ভোরে পালংখালী ইউনিয়নের ১৮ নম্বর ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় ছয়জনকে। এ দুটি হত্যাকাণ্ডের জন্য আরসাকে দায়ী করে আসছেন নিহতের স্বজন ও সাধারণ রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের আগুন

আরসা প্রধানের ভাইয়ের কাছে বাংলাদেশের এনআইডি

 কক্সবাজার প্রতিনিধি 
১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও আগুনের ঘটনায় পুড়ে গেছে ২৯টি ঘর। সোমবার রাত ২টার দিকে কুতুপালং ইরানি পাহাড়ের ৫ নম্বর ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অধিনায়ক নাইমুল হক।

তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি। ক্যাম্পে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

১৭ জানুয়ারি ‘ফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের নাশকতার ছক’ শিরোনামে যুগান্তরের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিনই অগ্নিকাণ্ড ঘটল। এর আগে ৯ জানুয়ারি ১৬ নম্বর ক্যাম্পে ও ২ জানুয়ারি ২ নম্বর ক্যাম্পে আগুন লেগেছিল। চলতি মাসে এটি উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তৃতীয় আগুন লাগার ঘটনা। এদিকে, রোহিঙ্গাদের উগ্রপন্থি সশস্ত্র সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহর ভাই শাহ আলীর কাছে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়া নিয়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানার দেওয়ানবাজারের জয়নব কলোনির ঠিকানা ব্যবহার করে ওই পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন তিনি। তাকে অস্ত্র ও মাদকসহ রোববার গ্রেফতারের পর উখিয়া থানায় করা মামলার এজাহারে পুলিশ এ তথ্য উল্লেখ করেছে। মামালার বাদী ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের উপপরিদর্শক রুহুল আজম।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, শাহ আলীকে আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রোববার রাতে মোট তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ সালেহ নামে এক যুবক বাদী হয়ে অপহরণ ঘটনায় একটি, ১৪ এপিবিএনের উপপরিদর্শক রুহুল আজম বাদী হয়ে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক অপর দুটি মামলা করেন। শাহ আলী ২০১৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তিনি হাইকোর্টের জামিনে আছেন।

শাহ আলীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। ফাইলপত্র দেখে বিস্তারিত জানতে পারব। আমার স্বাক্ষর কেউ জাল করেছে কি না, তাও দেখতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যদি জানতে চান কিংবা কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টি আমরা যাচাই করে দেখব। আদৌ জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরটি সঠিক কি না, যাচাই করা হবে। যদি সঠিক হয়, তাহলে এটি কীভাবে হলো তা তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত বছর ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ায় লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে তার কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর ২৩ অক্টোবর ভোরে পালংখালী ইউনিয়নের ১৮ নম্বর ময়নারঘোনা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় ছয়জনকে। এ দুটি হত্যাকাণ্ডের জন্য আরসাকে দায়ী করে আসছেন নিহতের স্বজন ও সাধারণ রোহিঙ্গারা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন