স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও নেই ওমিক্রনের সব তথ্য
jugantor
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও নেই ওমিক্রনের সব তথ্য

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনার দুধরন ডেল্টা ও ওমিক্রণের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ডেল্টাকে পেছনে ফেলে একটু একটু করে ওমিক্রনের প্রাধান্য বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে কোন ধরনটিতে কতজন বা কত শতাংশ আক্রান্ত তার সঠিক হিসাব নেই অধিদপ্তরে। তারপরও প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ওমিক্রনেই বাড়ছে করোনা রোগী। বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এমনটা বলা হচ্ছে।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা সম্পর্কিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম কিছু তথ্য দেন। তিনি বলেন, দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, একুট একটু করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ওমিক্রন। অতি সম্প্রতি কমিউনিটি পর্যায়ে ওমিক্রনের সংক্রমণ হচ্ছে।

এ বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইডিসিআর) সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে তারাও কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, দেশে করোনা আক্রান্তদের ২০ শতাংশই ওমিক্রনের রোগী। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, ঢাকায় সংক্রমিতদের ৬৯ শতাংশ এ ধরনটিতে আক্রান্ত। এর মধ্যে ঢাকার বাইরেও বেশকিছু সংখ্যক ওমিক্রণ আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। কিন্তু সারা দেশে কত মানুষ ওমিক্রনে আক্রান্ত এমন কোনো তথ্য জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলছেন, নতুন ধরনটি শনাক্তের জন্য জিনোম সিকোয়েন্সিং করে আক্রান্তের সংখ্যা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু দেশে রোগীর জিন বিশ্লেষণ করা হলেও তা জানানো হচ্ছে না। ফলে ধরনটিতে রোগী বাড়লেও তার সঠিক চিত্র বোঝা যাচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্যবিদরা আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওমিক্রন যেভাবে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে প্রতিস্থাপন করছে এখানেও এক সময় এর বিস্তার হতে পারে। নতুন ধরনটি নিয়ন্ত্রণে সব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বৃদ্ধির এ ধারা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকবে। এ কারণে আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকা গ্রহণে জোর দিতে হবে। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওমিক্রনের বিস্তারে জানুয়ারির শুরু থেকে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ মুহূর্তে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। যা ১৫ জানুয়ারি ছিল ৩১ হাজার ৭৫৩ জন। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে সক্রিয় রোগী বেড়ে হয়েছে তিনগুণ। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজারের কম নমুনা পরীক্ষা করে ১০ হাজার ৯০৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরও ১৪ জনের। তাতে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে দৈনিক শনাক্ত রোগীর হার দাঁড়াচ্ছে ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ। যা গত ২২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীদের লোয়ার রেসপারেটরি আক্রান্ত করে না। আপার রেসপারেটরিতে সংক্রমণ ঘটায়। অর্থাৎ শ্বাসতন্ত্রের উপরের দিকে এর সংক্রমণ ঘটে। এতে গলা ব্যথা, কাশি, নাক ব্যথা, মাথাব্যথার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। যা খুব সহজেই সেরে ওঠে। এতে রোগীদের মধ্যে তেমন কোনো জটিলতার সৃষ্টি হয় না। যেতে হয় না হাসপাতালেও। শুধু যাদের কো-মর্বিডিটি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া চলতি মৌসুমে আমাদের দেশের মানুষের ঠান্ডার সমস্যা বা কমন কোল্ড ফ্লু দেখা দেয়। এতে সংক্রমণের হার বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, কিন্তু মৃত্যুর নয়।

ওমিক্রনের লক্ষণ ও উপসর্গ সম্পর্কে ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, এখন সিজনাল যে ফ্লু হচ্ছে তার সঙ্গে ওমিক্রনের মিল রয়েছে। ওমিক্রনের যে উপসর্গগুলো আছে তার মধ্যে ৭৩ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নাক দিয়ে পানি ঝরছে। মাথাব্যথা করছে ৬৮ শতাংশ রোগীর। অবসন্নতা ও ক্লান্তি অনুভব করছেন ৬৪ শতাংশ রোগী। হাঁচি দিচ্ছেন ৬০ শতাংশ। গলাব্যথা হচ্ছে ৬০ ও কাশি দিচ্ছেন ৪৪ শতাংশ রোগী। এ বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এর সঙ্গে সিজনাল যে ফ্লু হচ্ছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা হচ্ছে তার সঙ্গেও এর মিল রয়েছে। কাজেই যে কোনো পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে সেবা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধিকে অমান্য করে আমরা যদি নিজের মতো চলতে থাকি, তাহলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে। যা সামগ্রিকভাবে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে-গত ৩-৪ মাসের চেয়ে হাসপাতালে রোগী অনেক বেড়েছে। এটি অব্যাহত রয়েছে। এ অতিমারিকে পরাস্ত করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে।

বইমেলার বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যারা মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন, তাদের অনুরোধ করব মেলা শুরুর আগে যেন টিকা গ্রহণ শেষ করেন। আর যারা বইমেলায় যাবেন বিশেষ করে ষাটোর্ধ্ব যারা তারা যেন দ্রুত বুস্টার ডোজ নেন। মেলায় অবশ্যই নাক-মুখ ঢেকে সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কোনো ভাবে মাস্ক খুলে মেলায় যাওয়া যাবে না।

টিকা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ পরিচালক জানান, ৯ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩টি প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। ৫ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ পেয়েছেন দ্বিতীয় ডোজ। ১ কোটি ২৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। ১৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় ডোজের টিকা।

এ দফায় ডিসেম্বরের শেষ থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ২৩ জানুয়ারি এসে শনাক্তের হার ৩১.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে রোগী ভর্তি ৩ থেকে ৪ মাসের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ঢাকা শহরের সাধারণ কোভিড ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬। এর মধ্যে খালি আছে ৩ হাজার ৪৫৫টি শয্যা। ১১৯টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও নেই ওমিক্রনের সব তথ্য

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে করোনার দুধরন ডেল্টা ও ওমিক্রণের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ডেল্টাকে পেছনে ফেলে একটু একটু করে ওমিক্রনের প্রাধান্য বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে কোন ধরনটিতে কতজন বা কত শতাংশ আক্রান্ত তার সঠিক হিসাব নেই অধিদপ্তরে। তারপরও প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ওমিক্রনেই বাড়ছে করোনা রোগী। বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এমনটা বলা হচ্ছে।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা সম্পর্কিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে অধিদপ্তরের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম কিছু তথ্য দেন। তিনি বলেন, দেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, একুট একটু করে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের জায়গা দখল করে নিচ্ছে ওমিক্রন। অতি সম্প্রতি কমিউনিটি পর্যায়ে ওমিক্রনের সংক্রমণ হচ্ছে।

এ বিষয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইডিসিআর) সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাইলে তারাও কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তবে এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, দেশে করোনা আক্রান্তদের ২০ শতাংশই ওমিক্রনের রোগী। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছিল, ঢাকায় সংক্রমিতদের ৬৯ শতাংশ এ ধরনটিতে আক্রান্ত। এর মধ্যে ঢাকার বাইরেও বেশকিছু সংখ্যক ওমিক্রণ আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। কিন্তু সারা দেশে কত মানুষ ওমিক্রনে আক্রান্ত এমন কোনো তথ্য জানাতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষজ্ঞরা যুগান্তরকে বলছেন, নতুন ধরনটি শনাক্তের জন্য জিনোম সিকোয়েন্সিং করে আক্রান্তের সংখ্যা জানা সম্ভব হয়। কিন্তু দেশে রোগীর জিন বিশ্লেষণ করা হলেও তা জানানো হচ্ছে না। ফলে ধরনটিতে রোগী বাড়লেও তার সঠিক চিত্র বোঝা যাচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্যবিদরা আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওমিক্রন যেভাবে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে প্রতিস্থাপন করছে এখানেও এক সময় এর বিস্তার হতে পারে। নতুন ধরনটি নিয়ন্ত্রণে সব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ বৃদ্ধির এ ধারা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকবে। এ কারণে আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং টিকা গ্রহণে জোর দিতে হবে। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওমিক্রনের বিস্তারে জানুয়ারির শুরু থেকে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এ মুহূর্তে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। যা ১৫ জানুয়ারি ছিল ৩১ হাজার ৭৫৩ জন। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে সক্রিয় রোগী বেড়ে হয়েছে তিনগুণ। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজারের কম নমুনা পরীক্ষা করে ১০ হাজার ৯০৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরও ১৪ জনের। তাতে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে দৈনিক শনাক্ত রোগীর হার দাঁড়াচ্ছে ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশ। যা গত ২২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীদের লোয়ার রেসপারেটরি আক্রান্ত করে না। আপার রেসপারেটরিতে সংক্রমণ ঘটায়। অর্থাৎ শ্বাসতন্ত্রের উপরের দিকে এর সংক্রমণ ঘটে। এতে গলা ব্যথা, কাশি, নাক ব্যথা, মাথাব্যথার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। যা খুব সহজেই সেরে ওঠে। এতে রোগীদের মধ্যে তেমন কোনো জটিলতার সৃষ্টি হয় না। যেতে হয় না হাসপাতালেও। শুধু যাদের কো-মর্বিডিটি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া চলতি মৌসুমে আমাদের দেশের মানুষের ঠান্ডার সমস্যা বা কমন কোল্ড ফ্লু দেখা দেয়। এতে সংক্রমণের হার বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, কিন্তু মৃত্যুর নয়।

ওমিক্রনের লক্ষণ ও উপসর্গ সম্পর্কে ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, এখন সিজনাল যে ফ্লু হচ্ছে তার সঙ্গে ওমিক্রনের মিল রয়েছে। ওমিক্রনের যে উপসর্গগুলো আছে তার মধ্যে ৭৩ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে নাক দিয়ে পানি ঝরছে। মাথাব্যথা করছে ৬৮ শতাংশ রোগীর। অবসন্নতা ও ক্লান্তি অনুভব করছেন ৬৪ শতাংশ রোগী। হাঁচি দিচ্ছেন ৬০ শতাংশ। গলাব্যথা হচ্ছে ৬০ ও কাশি দিচ্ছেন ৪৪ শতাংশ রোগী। এ বিষয়গুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এর সঙ্গে সিজনাল যে ফ্লু হচ্ছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা হচ্ছে তার সঙ্গেও এর মিল রয়েছে। কাজেই যে কোনো পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করে সেবা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধিকে অমান্য করে আমরা যদি নিজের মতো চলতে থাকি, তাহলে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে। যা সামগ্রিকভাবে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে-গত ৩-৪ মাসের চেয়ে হাসপাতালে রোগী অনেক বেড়েছে। এটি অব্যাহত রয়েছে। এ অতিমারিকে পরাস্ত করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে।

বইমেলার বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যারা মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন, তাদের অনুরোধ করব মেলা শুরুর আগে যেন টিকা গ্রহণ শেষ করেন। আর যারা বইমেলায় যাবেন বিশেষ করে ষাটোর্ধ্ব যারা তারা যেন দ্রুত বুস্টার ডোজ নেন। মেলায় অবশ্যই নাক-মুখ ঢেকে সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কোনো ভাবে মাস্ক খুলে মেলায় যাওয়া যাবে না।

টিকা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ পরিচালক জানান, ৯ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ২৩৩টি প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। ৫ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ পেয়েছেন দ্বিতীয় ডোজ। ১ কোটি ২৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। ১৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় ডোজের টিকা।

এ দফায় ডিসেম্বরের শেষ থেকে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। ২৩ জানুয়ারি এসে শনাক্তের হার ৩১.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে রোগী ভর্তি ৩ থেকে ৪ মাসের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ঢাকা শহরের সাধারণ কোভিড ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬। এর মধ্যে খালি আছে ৩ হাজার ৪৫৫টি শয্যা। ১১৯টি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু আছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন