চট্টগ্রামে শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে
jugantor
চট্টগ্রামে শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে
কিট না থাকায় হচ্ছে না জিনোম সিকোয়েন্স

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৪ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে

চট্টগ্রামে হুহু করে বাড়ছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। জেলায় দৈনিক করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। তবে এসব রোগী ভাইরাসের কোন ধরনে আক্রান্ত তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার ধরন জানতে হলে প্রয়োজন ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স। কিন্তু চট্টগ্রামে কিট না থাকায় এ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

সম্প্রতি নগরীতে এক গবেষণায় ১১ জন কোভিড আক্রান্তের নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জনেরই ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে আসে। সেই হিসাবে স্বাস্থ্য বিভাগের ধারণা, চট্টগ্রামে ওমিক্রনের দাপটে বাড়ছে করোনা রোগী।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, রোববার এর আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২ হাজার ৬৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নগরীর বাসিন্দা ৮২২ জন। বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা ২০৪ জন। এদিন করোনা আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। এর আগে শনিবার ২ হাজার ৪২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭০৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ২৯ শতাংশ। একদিনের ব্যবধানে আক্রান্ত রোগী বেড়েছে ৩২২ জন। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ১২৩ জন। মোট মারা গেছেন ১ হাজার ৩৪৩ জন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ধরন জানতে হলে জিনোম সিকোয়েন্স করতে হয়। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সম্প্রতি একটি রিসার্চ ওয়ার্ক করেছে। তাদের কথা অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ওমিক্রনের সংক্রমণ বেশি। সেটা চট্টগ্রামের জন্য ভালো। কারণ ডেলটার চেয়ে ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীরা হালকা চিকিৎসায় সেরে উঠছেন।’ জিনোম সিকোয়েন্সের প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘করোনার ডেল্টা কিংবা ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় জিনোম সিকোয়েন্স করার প্রয়োজন হয় না। উভয় ধরনের রোগীদের চিকিৎসা একই। এটা প্রয়োজন হয় রিসার্চের জন্য।’

চট্টগ্রামের জেনোমিক সারভাইলেন্স প্রকল্পের অধীনে ১১টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়। এরমধ্যে ৮টি নমুনায় ওমিক্রন শনাক্ত হয়। এসব নমুনা ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন কনসালট্যান্ট ও করোনাভাইরাস ইউনিটের চিকিৎসক ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান। বিশ্লেষণের তথ্য জেনোম সিকোয়েন্সের আন্তর্জাতিক ডেটাবেজ জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটায় (জিআইএসএইড) প্রকাশিত হয়।

গবেষণা সূত্র জানায়, ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গলা ব্যথা ও গলার স্বর বিকৃত হয়ে যাওয়ার উপসর্গ দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। ৯০ শতাংশের মধ্যেই এ লক্ষণ রেয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং জ্বরের উপসর্গ দেখা যায়।

চট্টগ্রামে করোনা রোগীর চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ১৪৪টি শয্যা রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে ২ হাজার ৮২৭টি শয্যা। শনিবার সকাল পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ২২১ জন। অপরদিকে বেসরকারিতে ভর্তি ছিল ২১৫ জন। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৯৭১ শয্যার মধ্যে হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ৪৩৬ জন। খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫টি শয্যা।

চট্টগ্রামে শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে

কিট না থাকায় হচ্ছে না জিনোম সিকোয়েন্স
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামে শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামে হুহু করে বাড়ছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। জেলায় দৈনিক করোনা শনাক্তের হার ৩৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। তবে এসব রোগী ভাইরাসের কোন ধরনে আক্রান্ত তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার ধরন জানতে হলে প্রয়োজন ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স। কিন্তু চট্টগ্রামে কিট না থাকায় এ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

সম্প্রতি নগরীতে এক গবেষণায় ১১ জন কোভিড আক্রান্তের নমুনা পরীক্ষা করে ৮ জনেরই ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে আসে। সেই হিসাবে স্বাস্থ্য বিভাগের ধারণা, চট্টগ্রামে ওমিক্রনের দাপটে বাড়ছে করোনা রোগী।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, রোববার এর আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২ হাজার ৬৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ২৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নগরীর বাসিন্দা ৮২২ জন। বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা ২০৪ জন। এদিন করোনা আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। এর আগে শনিবার ২ হাজার ৪২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭০৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ২৯ শতাংশ। একদিনের ব্যবধানে আক্রান্ত রোগী বেড়েছে ৩২২ জন। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ১২৩ জন। মোট মারা গেছেন ১ হাজার ৩৪৩ জন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর যুগান্তরকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের ধরন জানতে হলে জিনোম সিকোয়েন্স করতে হয়। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সম্প্রতি একটি রিসার্চ ওয়ার্ক করেছে। তাদের কথা অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ওমিক্রনের সংক্রমণ বেশি। সেটা চট্টগ্রামের জন্য ভালো। কারণ ডেলটার চেয়ে ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীরা হালকা চিকিৎসায় সেরে উঠছেন।’ জিনোম সিকোয়েন্সের প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘করোনার ডেল্টা কিংবা ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় জিনোম সিকোয়েন্স করার প্রয়োজন হয় না। উভয় ধরনের রোগীদের চিকিৎসা একই। এটা প্রয়োজন হয় রিসার্চের জন্য।’

চট্টগ্রামের জেনোমিক সারভাইলেন্স প্রকল্পের অধীনে ১১টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়। এরমধ্যে ৮টি নমুনায় ওমিক্রন শনাক্ত হয়। এসব নমুনা ২৫ ডিসেম্বরের পর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন কনসালট্যান্ট ও করোনাভাইরাস ইউনিটের চিকিৎসক ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান। বিশ্লেষণের তথ্য জেনোম সিকোয়েন্সের আন্তর্জাতিক ডেটাবেজ জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটায় (জিআইএসএইড) প্রকাশিত হয়।

গবেষণা সূত্র জানায়, ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে গলা ব্যথা ও গলার স্বর বিকৃত হয়ে যাওয়ার উপসর্গ দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। ৯০ শতাংশের মধ্যেই এ লক্ষণ রেয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং জ্বরের উপসর্গ দেখা যায়।

চট্টগ্রামে করোনা রোগীর চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ১৪৪টি শয্যা রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে ২ হাজার ৮২৭টি শয্যা। শনিবার সকাল পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ২২১ জন। অপরদিকে বেসরকারিতে ভর্তি ছিল ২১৫ জন। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৯৭১ শয্যার মধ্যে হাসপাতালে রোগী ভর্তি ছিল ৪৩৬ জন। খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫টি শয্যা।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন