শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্বে শ্রমিক লীগে চরম বিশৃঙ্খলা
jugantor
কাজে আসেনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সতর্কবার্তা
শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্বে শ্রমিক লীগে চরম বিশৃঙ্খলা
এবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ চারজনকে বহিষ্কার করলেন সাধারণ সম্পাদক

  হাসিবুল হাসান  

২৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্বে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগে।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু এক মঞ্চে বসেন না।

একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানও করেন না তারা। এতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিকবার সতর্ক করলেও তা কাজে আসেনি। তার মধ্যে এবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ চারজনকে বহিষ্কার করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।

বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু দাবি করেন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডেকে তাকে সংগঠন থেকে অপসারণ করে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। আমাকে অপসারণ বা বহিষ্কারের কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি সংগঠনের সভাপতিও নন, চলতি দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র।

তবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানের দাবি, তিনি সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করেননি। বহিষ্কারের এই খবর কীভাবে ছড়িয়ে গেল তাও তিনি জানেন না। তিনি বলেন, সাধারণ সম্পাদক কোনো কাজে আমাদের সহায়তা করেন না।

গত ২২ জানুয়ারি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে আলোচনা করেছি। সেখানে তাকে বহিষ্কার বা অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমন কোনো লিখিত চিঠি কেউ দেখাতে পারবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর করা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে এভাবে কি কেউ বহিষ্কার করতে পারে? চিলে কান নিয়েছে শুনে তিনি আমাকেসহ চারজনকে বহিষ্কার করেছেন বলে শুনেছি। এটা দুঃখজনক।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে শ্রমিক লীগের দুই শীর্ষ নেতা। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও ছিল আলাদা আলাদা কর্মসূচি। বিভক্তির কারণে জাতীয় শোকের মাসেও কর্মসূচি পালন করতে পারেননি তারা। এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ ওবায়দুল কাদের এই নেতাদেরকে ডেকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। এরপরও তাদের একসঙ্গে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত চরম অগোছালো সংগঠনটি।

সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তার অনুসারী কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ‘কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা’ করেন। ওই সভাতেও উপস্থিত ছিলেন না সাধারণ সম্পাদক ও তার অনুসারীরা। সভার পর ওই দিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান সাধারণ সম্পাদক আজম খসরুকে বাদ দিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা তাকে অভিনন্দনও জানাতে শুরু করেন। এ ঘটনার তিন দিন পর গত মঙ্গলবার সাধারণ সম্পাদক সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানসহ চারজনকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কৃত অন্য নেতারা হলেন-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিএম জাফর ও দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক।

এদিকে দুই শীর্ষ নেতার এমন আচরণে বিব্রত সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এ বিষয়ে সংগঠনটির এক সহ-সভাপতি বলেন, ২০১৯ সালে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের পর থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিভক্ত হয়ে রাজনীতি শুরু করেন।

তৎকালীন সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর জীবদ্দশায়েও সংগঠনটিতে এই বিভক্তি ছিল। মন্টুর সঙ্গেও বিরোধ ছিল আজম খসরুর। তারাও একসঙ্গে কোনো প্রোগ্রাম করতে পারতেন না। মন্টু মারা যাওয়ার পরে নুর কুতুর মান্নানকে দায়িত্ব দেওয়ার পরেও একই ঘটনা ঘটতে থাকে।

তারা একে অন্যের মুখ দেখেন না। কেউ কারও সঙ্গে কথাও বলেন না। সংগঠনের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থের দিকেই তারা বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। ফলে সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রমও হয়নি বললেই চলে।

কাজে আসেনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সতর্কবার্তা

শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্বে শ্রমিক লীগে চরম বিশৃঙ্খলা

এবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ চারজনকে বহিষ্কার করলেন সাধারণ সম্পাদক
 হাসিবুল হাসান 
২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্বে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগে।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু এক মঞ্চে বসেন না।

একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানও করেন না তারা। এতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিকবার সতর্ক করলেও তা কাজে আসেনি। তার মধ্যে এবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ চারজনকে বহিষ্কার করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।

বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু দাবি করেন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডেকে তাকে সংগঠন থেকে অপসারণ করে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। আমাকে অপসারণ বা বহিষ্কারের কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি সংগঠনের সভাপতিও নন, চলতি দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র।

তবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানের দাবি, তিনি সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করেননি। বহিষ্কারের এই খবর কীভাবে ছড়িয়ে গেল তাও তিনি জানেন না। তিনি বলেন, সাধারণ সম্পাদক কোনো কাজে আমাদের সহায়তা করেন না।

গত ২২ জানুয়ারি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে আলোচনা করেছি। সেখানে তাকে বহিষ্কার বা অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমন কোনো লিখিত চিঠি কেউ দেখাতে পারবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর করা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে এভাবে কি কেউ বহিষ্কার করতে পারে? চিলে কান নিয়েছে শুনে তিনি আমাকেসহ চারজনকে বহিষ্কার করেছেন বলে শুনেছি। এটা দুঃখজনক।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে শ্রমিক লীগের দুই শীর্ষ নেতা। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও ছিল আলাদা আলাদা কর্মসূচি। বিভক্তির কারণে জাতীয় শোকের মাসেও কর্মসূচি পালন করতে পারেননি তারা। এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ ওবায়দুল কাদের এই নেতাদেরকে ডেকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। এরপরও তাদের একসঙ্গে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত চরম অগোছালো সংগঠনটি।

সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তার অনুসারী কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ‘কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা’ করেন। ওই সভাতেও উপস্থিত ছিলেন না সাধারণ সম্পাদক ও তার অনুসারীরা। সভার পর ওই দিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান সাধারণ সম্পাদক আজম খসরুকে বাদ দিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা তাকে অভিনন্দনও জানাতে শুরু করেন। এ ঘটনার তিন দিন পর গত মঙ্গলবার সাধারণ সম্পাদক সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানসহ চারজনকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কৃত অন্য নেতারা হলেন-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিএম জাফর ও দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক।

এদিকে দুই শীর্ষ নেতার এমন আচরণে বিব্রত সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এ বিষয়ে সংগঠনটির এক সহ-সভাপতি বলেন, ২০১৯ সালে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের পর থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিভক্ত হয়ে রাজনীতি শুরু করেন।

তৎকালীন সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর জীবদ্দশায়েও সংগঠনটিতে এই বিভক্তি ছিল। মন্টুর সঙ্গেও বিরোধ ছিল আজম খসরুর। তারাও একসঙ্গে কোনো প্রোগ্রাম করতে পারতেন না। মন্টু মারা যাওয়ার পরে নুর কুতুর মান্নানকে দায়িত্ব দেওয়ার পরেও একই ঘটনা ঘটতে থাকে।

তারা একে অন্যের মুখ দেখেন না। কেউ কারও সঙ্গে কথাও বলেন না। সংগঠনের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থের দিকেই তারা বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। ফলে সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রমও হয়নি বললেই চলে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন