জিডিপির আকার ২৫ লাখ কোটি টাকা

বৃত্ত ভেঙে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মিজান চৌধুরী

ছবি সংগৃহীত

বৃত্ত ভেঙে উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি অর্জনের সাফল্যকে ভিত্তি ধরে ভবিষ্যতের পথ রচনা করছেন। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছানোর আগেই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এজন্য দুই বছরের মধ্যে প্রবৃদ্ধির ধারাকে ৮ শতাংশে নিতে চান। উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে হাঁটতে গিয়ে আসন্ন বাজেটে জিডিপির আকার ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে ৭ দশমিক ৮ ভাগ।

চলতি বছরের তুলনায় উচ্চ প্রবৃদ্ধির এ আকার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। এ বছর জিডিপির আকার হল ২২ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সূত্র মতে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি অর্জন হবে বলে আশা করছে সরকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে বছর শেষে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে। যদিও শুরু থেকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ অর্জনকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে সরকার। কারণ বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। অর্জনের এ সাফল্যকে পুঁজি করে সরকার উচ্চ প্রবৃদ্ধির পথে হাঁটা শুরু করেছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত অর্র্থনৈতিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল বৈঠকে সার্বিক অর্জন বিশ্লেষণ করে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রায় সংশোধন আনা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এ অর্জনকে সরকার বড় করে দেখছে। এ কারণে আগামী বাজেটে এক লাফে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্বব্যাংক।

চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে সরকার যে আভাস দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ নয়, ৬ দশমিক ৫ থেকে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসাইন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জিডিপি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ হবে। কিন্তু এটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর আরও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দরকার। তিনি আরও বলেন, জিডিপি নিয়ে সরকারের সমালোচনা নয়, এটি বিশ্লষণের ব্যাপার। আমরা বিশ্লেষণের কথা বলছি।

সূত্র মতে, এ প্রবৃদ্ধি ধরে আগামী বাজেটে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আগামী বছরে বাণিজ্য সহযোগী দেশ ও অঞ্চলগুলোর সার্বিক প্রবৃদ্ধির গতি বেশি হবে। ফলে বাড়বে রফতানি এবং প্রবাসীদের রেমিটেন্স। এসব আয় প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া অতিরিক্ত জিডিপি অর্জনে প্রধান ভূমিকা রাখবে শিল্প ও সেবা খাত। এ কারণে জিডিপিতে আগে শিল্প খাতের অবদান ছিল ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি বাড়িয়ে এখন ৩৩ দশমিক ৭১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিনিয়োগ ও বেসরকারি ভোগ বাড়বে, যা প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

তবে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য চলমান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি দ্বৈত ব্যবসার সূচক উন্নতি করতে হবে। এসব করা হলে মধ্য মেয়াদে বেসরকারি বিনিয়োগ হবে প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকা শক্তি।

কৃষি খাতের কথা উল্লেখ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আমনের উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি খাতে ভর্তুকিসহ অন্য কার্যক্রম চলছে। বোরোরও উচ্চ ফলনের সম্ভাবনা আছে। ফলে কৃষিতে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের গত নয় বছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি গড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ অর্জন হয়েছে। যেখানে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক মন্দার পরও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি আগামী দিনেও এ প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ আর ২০১৯-২০ অর্থবছর প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭ শতাংশে। এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর। এর মধ্যে বাংলাদেশের অর্জন হবে ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। পাশাপাশি পাশের দেশ ভারতের প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ভুটানের ৭ দশমিক ১০ শতাংশ।

এ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান। এর মধ্যে চলতি বছরে পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা আছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। নেপালে ৫ শতাংশ, মালদ্বীপের ৫ শতাংশ, শ্রীলংকার ৪ শতাংশ ও আফগানিস্তনের ২ দশমিক ৫০ শতাংশ।