চুনোপুঁটি নয় মাদক সম্রাটদের ধরুন : মোশাররফ

মাদক অভিযানের গভীরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য -রিজভী

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চুনোপুঁটিদের না মেরে মাদকের মূল নায়কদের ধরে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি দাবি করেন, মাদক সম্রাটরা সবাই আওয়ামী লীগের বড় নেতা। ক্ষমতাসীন দলের এমপিও রয়েছেন, যাকে সারা দেশের মানুষ চেনে মাদক সম্রাট হিসেবে। তাকে গ্রেফতারের পরিবর্তে ফুলের মালা পরানো হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা ব?লেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। সংগঠনটির সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের জয়নাল আবেদীন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সারা দেশে মাদক অভিযানের নামে সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করছে। সোমবারই ১১ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। দেশে কি কোনো আইন নেই? যদি মাদক ব্যবসায়ী হয়, যদি কোনো মাদক ব্যবহারকারী হয়, এ দেশে বিচার ব্যবস্থা আছে। আইন আছে, আমাদের সংবিধান আছে। সেটাকে ভ্রুক্ষেপ করছে না এ সরকার।

তিনি বলেন, মাদক অভিযানের নামে যাদের বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হচ্ছে, আমরা জানি না আসলে তারা কারা? তারা কী রাজনৈতিক বিরোধী কণ্ঠস্বর, না তারা আসলে মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবী? প্রমাণ করার দরকার ছিল কোর্টে, তারা কারা? কোনো সভ্য দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে পারে না।

বিএনপি মাদকের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে মোশাররফ হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের এমপি থেকে শুরু করে যারা মাদক সম্রাট, প্রথমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। ঢাকায় মাদকের যারা মূল নায়ক তাদের নাম প্রকাশ করুন। এটা প্রকাশ করা হলে দেখা যাবে তারা কোনো না কোনো আওয়ামী লীগ নেতা বা কর্মী। কিন্তু সরকার সেই তালিকা প্রকাশ করবে না। একটা প্রলেপ দেয়ার জন্য কিছু লোককে হত্যা করে জনগণকে দেখাতে চায়। উদ্দেশ্যে আগামী নির্বাচন ও জনগণকে আতঙ্কিত করা। খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও এভাবে সরকার পুলিশের মাধ্যমে গ্রেফতার করে ভোটারদের ভয়-আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। সরকার গায়ের জোরে আগামী নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে সবাইকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বানও জানান খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, জনগণের ক্ষোভ-দুঃখ আগুনের ফুলকিতে পরিণত হয়েছে, অগ্নুৎপাতের শুধু বাকি। তাই যার যার অবস্থান থেকে সবাই প্রস্তুতি নিন। এবারও যদি সরকার সবকিছুকে উপেক্ষা করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয়, জনগণ এটা হতে দেবে না।

মাদক অভিযানের গভীরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য -রিজভী : সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযানের গভীরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হায়দার আলী, কবীর মুরাদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

রিজভী বলেন, মাদক অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার যে হিড়িক চলছে এর গভীরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। তা হচ্ছে মাদক বিরোধীদের নির্মূল করতে যেয়ে টার্গেট করে বিরোধী দলের তরুণ নেতাকর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে মেরে ফেলা। সোমবার রাতে নেত্রকোনায় কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে ছাত্রদল সদস্য আমজাদ হোসেনকে। আমি সেখানকার অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলেছেন, আমজাদ অত্যন্ত ভালো ছেলে। মাদক কি, কোনো ধরনের ধূমপানের সঙ্গেও সে জড়িত নয়।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য। মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার জন্য এখন নতুন প্রকল্প নিয়েছে। এ রমজানে কর্দমাক্ত খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের কারণে জনজীবনের নাভিশ্বাসকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই দৃষ্টি ফেরানোর কৌশলে লিপ্ত রয়েছে কিনা সে প্রশ্নই আজকে জনমনে উঁকি দিয়েছে। রিজভী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে কাদের ধরা হচ্ছে? গডফাদারদের নয়, চুনোপুঁটিদের। সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাড়ে ৯ বছরে সারা দেশ মাদকে ছেয়ে গেছে। গোটা যুব সমাজকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে মাদকের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর পেছনে দায়ীরা হলেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য বদির মতো রাঘববোয়ালরা। তাদের ধরছে না কেন? এ থেকে সরকারের আসল উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। বেআইনি ক্রসফায়ারে হত্যা বন্ধের দাবি জানিয়ে সব বিচারবহির্ভূত হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন রিজভী। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি সব মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজকে গুম-খুন-বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর বনানীর বাসায় গভীর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ তাণ্ডব চালিয়েছে অভিযোগ করে এর নিন্দা জানান রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাহেব বাজারের মার্কেটে মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নামে টানানো শুভেচ্ছা ব্যানার খুলে ফেলা ও মেয়রের সঙ্গে পুলিশের অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনার নিন্দা জানান তিনি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.