হ্যাটট্রিক জয় চায় আ’লীগ বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার

  এসএ মাহমুদ সেলিম, পঞ্চগড় ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হ্যাটট্রিক জয় চায় আ’লীগ বিএনপি চায় পুনরুদ্ধার
ছবি সংগৃহীত

জেলার বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে পঞ্চগড়-২ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

মনোনয়নের প্রত্যাশায় তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার পাশাপাশি কেন্দ্রের সঙ্গেও লবিংয়ে ব্যস্ত অনেকে। প্রার্থীরা ঘন ঘন এলাকায় যাচ্ছেন এবং যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে। কদর বেড়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সক্রিয়। বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে মোবাইল এসএমএস দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন কেউ কেউ। এলাকায় প্রার্থীদের ঘন ঘন আনাগোনা দেখে ভোটাররাও নির্বাচন নিয়ে অনেকটা কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি চায়ের আড্ডায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুটিও প্রাধান্য পেতে শুরু করেছে।

৪ লাখ ২৫ হাজার ভোটার অধ্যুষিত পঞ্চগড়-২ আসনে কোনো একক দলের প্রভাব সেভাবে নেই। বিশেষ করে নব্বইয়ের পট পরিবর্তনের পর প্রথম ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দল বদলকারী নেতা প্রয়াত মোজাহার হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও উপনির্বাচনসহ ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের দুটিতেই পাস করেন আ’লীগ থেকে বিএনপিতে আসা মোজাহার হোসেন।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের জাতীয় নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ এমপি হন। এক বছর পর ফরহাদের মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির মোজাহার হোসেন।

২০০১ সালের নির্বাচনেও ধানের শীষ নিয়ে মোজাহার হোসেন জয়লাভ করেন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনপ্রিয় নেতা চার বারের এমপি মোজাহারকে হারিয়ে বিজয়ী হন পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম সুজন। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও নূরুল ইসলাম সুজন এমপি নির্বাচিত হন। টানা দুই টার্ম এমপি থাকায় এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাব বেড়েছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নূরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী। আগামী নির্বাচনে নূরুল ইসলাম সুজনের দলীয় মনোনয়ন মোটামুটি নিশ্চিত। পরপর দু’বার এমপি হওয়ায় আওয়ামী লীগের এ এমপি দল মোটামুটি গুছিয়ে এনেছেন। দলীয় কোন্দল না থাকার বিষয়টিও তার জন্য প্লাস পয়েন্ট।

বর্তমান এমপি ছাড়াও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মালেক চিশতী ও প্রজন্ম লীগের ব্যানারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাহান। জেনারেল (অব.) শাহজাহান আগামী নির্বাচনে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন আগেই।

আগামী নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় বর্তমান এমপি নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। এলাকার মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করছি অবিরাম। মানুষ আমাকে ভালোবাসেন। এলাকায় দলে কোনো কোন্দলও নেই। বোদা ও দেবীগঞ্জ আওয়ামী লীগের অবস্থান এখন অনেক শক্ত।

আগামী নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ভোটাররা নৌকা পক্ষেই তাদের রায় দেবেন।এদিকে নানামুখী চাপে থাকা বিএনপি আগামী নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। হামলা-মামলায় কাবু বিএনপি নানামুখী চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বন্দিজীবন তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এরপরও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে নেমে পড়েছেন যুবদলের সাবেক নেতা ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. ফরহাদ হোসেন আজাদ। নানা প্রতিকূলতা এবং দলের চরম দুঃসময়েও তিনি দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন, তাদের পাশে থেকেছেন। তিনিই দলের হাল ধরে রেখেছেন শক্তভাবে। মাঠের বাতাস তার দিকেই। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

মোজাহার হোসেনের মৃত্যুর পর বিএনপির নিয়ন্ত্রণ ফরহাদ আজাদের কাছেই- এমন মন্তব্য স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছাড়াও তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুনজরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি ছাড়াও বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেন- জামায়াত নেতা ও বোদা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শফিউল্ল্যাহ সুফী। তিনি ধানের শীর্ষ নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক নেতা ও সাবেক ইউপির চেয়ারম্যান নিতীষ কুমার বকসী মুকুলকে প্রার্থী করার কথা বলছেন।

নির্বাচন নিয়ে কথা হয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে জীবনের প্রায় পুরোটা সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে মাটি ও মানুষের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। সুখ-দুঃখে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আগামী নির্বাচনে ভোটাররা ধানের শীষকে বেছে নেবে বলে আমার বিশ্বাস।

পঞ্চগড়-২ আসনে এবার নতুন চমক দেখাতে পারেন বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রয়াত নেতা শফিউল আলম প্রধানের কন্যা ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান জুঁই। এ প্রসঙ্গে জুঁই বলেন, তার বাবা পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ এলাকার বাাসিন্দা। এই এলাকার মানুষ আমার বাবাকে ভালোবাসেন। আমাদের পরিবারের গ্রহণযোগ্যতাও আছে। এছাড়া দেবীগঞ্জবাসী কখনও এমপি পায়নি। তাই দেবীগঞ্জের মেয়ে হিসেবে এবং আমার বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সফলতার আলোকে আমি পঞ্চগড়-২ আসনে প্রার্থী হব। আশা করি এলাকার লোকজন আমাকেই তাদের ম্যান্ডেট দেবেন।

এছাড়াও এ আসনে কমিউনিস্ট পার্টির জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. আশরাফুল ইসলাম আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন। এই এলাকায় সিপিবির অবস্থান ভালো বলে জানা গেছে। কেননা ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আ’লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ এমপিও নির্বাচিত হন। অবশ্য মাত্র ১ বছরের মাথায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে এ আসনে সিপিবিতে শুণ্যতা নেমে আসে। তার পর থেকেই মো. আশরাফুল ইসলাম দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। গত নির্বাচনে তিনি দল থেকে ভোটে অংশ নিয়েছিলেন।

এদিকে পঞ্চগড়-২ আসনে বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক এমরান আল আমীন জাসদের দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও নির্বাচনের গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। গতবারের মতো আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে মোটামুটি নিশ্চিত করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×