কাঁদলেন নির্যাতনের বর্ণনা শুনে

রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে খেললেন প্রিয়াংকা

  উখিয়া ও টেকনাফ প্রতিনিধি ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে উঠলেন ইউনিসেফ শুভেচ্ছাদূত ভারতীয় অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া। শুনলেন তাদের কথা। এ সময় মিয়ানমারে তাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। প্রিয়াংকা তাদের কাছে জানতে চান- ‘এখানে কেমন আছ?’ রোহিঙ্গা শিশুরা জানায়, নিজ বাড়িতে গিয়ে এভাবে খেলাধুলা করতে পারলে তাদের ভালো লাগত।

মঙ্গলবার উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-১-এ কোডেক ও ইউনিসেফ পরিচালিত শিশুবান্ধব কেন্দ্রের চিত্র ছিল এটি। এর আগে এ বিশ্বসুন্দরী টেকনাফের হারিয়াখালী রোহিঙ্গা ত্রাণ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। সেখান থেকে প্রিয়াংকা যান ভাঙ্গার সেই স্থানে- রাখাইন থেকে যে পথে রোহিঙ্গারা পালিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশে। সেখানে স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের স্বাস্থ্য ও পড়ালেখার খোঁজ নেন তিনি।

বেলা ১১টায় চোপড়া বালুখালী ক্যাম্প-১ শিশুবান্ধব কেন্দ্রে আসেন। রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গে লুডু, ভাগাডুলি, রান্নাবাটি, রশি লাফ, ক্যারম, স্বাস্থ্যলুডু, দাবা, পৃথিবী ভ্রমণ ইত্যাদি খেলায় অংশ নেন। শিশুদের সঙ্গে ফুটবলও খেলেন তিনি। রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের হাতে আঁকা ছবি দেখেন। তাদের অনুভূতি জানতে চান। আলোচনার মাধ্যমে এসব শিশু ও কিশোরদের দক্ষতা যাছাই করেন।

মিয়ানমারে তারা কী পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল তা জানতে চান প্রিয়াংকা। শিশুবান্ধব কেন্দ্রের ছাত্রী, মিয়ানমার বলি বাজারের বাসিন্দা খুরশেদা খাতুন (১৪) বলিউড অভিনেত্রীকে জানায়, অসহনীয় শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এজন্য তাদের পুরো পরিবার পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। একই গ্রামের মনজুর আলী (১৩) জানায়, মিয়ানমার সেনারা তাদের চোখের সামনে মা-বোনকে ধর্ষণ করেছে। গ্রামের লোকজনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে। শিশুদের আগুণে নিক্ষেপ করে মেরেছে। এসব শুনে প্রিয়াংকা চোপড়া আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

পরে তিনি শিশুবান্ধব কেন্দ্রের শিশু-কিশোরদের বলেন, আমি আমার দক্ষতা, সক্ষমতা ও ক্ষমতার সবটুকু দিয়ে ইউনিসেফের পক্ষ হয়ে তোমাদের এসব কথা ও দাবি বিশ্বের কাছে তুলে ধরব। তোমরা যেন মিয়ানমারে ফিরে নতুন জীবন শুরু করতে পার সেজন্য চেষ্টা করব।

এ সময় শিশুবান্ধব কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক নাছির উদ্দিন ও যোগাযোগ কর্মকর্তা লুৎফুর রহমানের কাছে প্রিয়াংকা জানতে চান, এখানে রোহিঙ্গা ছেলেমেয়েরা কী ধরনের সেবা পাচ্ছে? তারা বলেন, শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মাঝে যে আতঙ্ক ছিল শিশুবান্ধব কেন্দ্রে বিভিন্ন খেলাধুলার মাধ্যমে দিন দিন তা ভুলে যেতে বসেছে। তারা এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ালেখা ও খেলাধুলা করতে পেরে আনন্দবোধ করছে।

বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প নেতা লালু মাঝি বলেন, ‘রাখাইনে শিক্ষার হার কম হলেও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুর সঙ্গে তারা পরিচিত। টিভি, ভিসিডি ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এ নিয়ে ভালো ধারণা রাখেন রোহিঙ্গারা। বিশেষ করে ভারতীয় ছবিতে ছেয়ে গেছে রাখাইন প্রদেশ। এ কারণে প্রিয়াংকা চোপড়া রোহিঙ্গাদের খুবই পরিচিত মুখ।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রিয়াংকা চোপড়া মেরিন ড্রাইভ হয়ে টেকনাফের হারিয়াখালী রোহিঙ্গা ত্রাণ কেন্দ্রে যান। ঘুরে দেখেন। এরপর রোহিঙ্গারা যে পথে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছেন, ভাঙ্গার সেই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। গাড়ি থেকে নেমে সেই পথে তিনি কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করেন। সেখান থেকে নাফ নদী আর মিয়ানমার দেখা যায়। এখানে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন, হাসাহাসি করেন, ছবি তোলেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রিয়াংকা কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশে টেকনাফ ত্যাগ করেন। পথে টেকনাফের উঠনি নামক পাহাড়ি সড়ক এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে নাফ নদীর ওপারে রাখাইন রাজ্য দেখেন। এদিন তার লেদা ও উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা থাকলেও তিনি ওই দুটি ক্যাম্পে ঢোকেননি। তবে ল্যাদা বিজিবি চৌকির কাছে ইউনিসেফ পরিচালিত শিশুদের খেলাধুলার জন্য তৈরি স্থান ঘুরে দেখেন। ৪ দিনের সফরে সোমবার প্রিয়াংকা কক্সবাজারে পৌঁছান। তিনি ইনানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ওঠেন। সেখান থেকে ওই দিন বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে এবং খেঁাঁজখবর নিতে টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ৪ দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন এ অভিনেত্রী।

কড়া নিরাপত্তা : ‘প্লিজ, আমার জন্য এত নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। সামনে-পেছনে এত গাড়ি থাকতে হবে না। একটা গাড়ি থাকলেই চলবে।’ মঙ্গলবার হারিয়াখালিতে পুলিশকে একথা বলেন তিনি। প্রিয়াংকা চোপড়ার জন্য কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয় এদিন। তার সফরসূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে আর তা গোপন রাখছেন ইউনিসেফের স্থানীয় কর্মকর্তারা। প্রিয়াংকা চোপড়া যেখানে যাচ্ছেন, তার আশপাশে সংবাদ মাধ্যমের কোনো কর্মীকে যেতে দেয়া হচ্ছে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×