ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

অসঙ্গতি দূর করার আশ্বাস সংসদীয় কমিটির

আটটি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব সাংবাদিক প্রতিনিধিদের

  সংসদ রিপোর্টার ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে যেসব অসঙ্গতি রয়েছে, তা দূর করার আশ্বাস দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটির সঙ্গে সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের এক বৈঠকে এই আশ্বাস দেয়া হয়। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সম্পাদক পরিষদ, বিএফইউজে এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন- অ্যাটকোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে সাংবাদিক প্রতিনিধিরা ডিজিটাল আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তবে তারা এ আইনের সংজ্ঞায় স্পষ্টকরণসহ আটটি সুনির্দিষ্ট ধারা তুলে ধরে তা সংশোধনের প্রস্তাব করেন। এ বিষয়গুলো সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক প্রতিনিধিরা যে ধারাগুলোর ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে, সে ক্ষেত্রে আমরা একমত হয়েছি। এ বিষয়টি সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে যাতে কোনো বাধা না হয় এবং গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় সংশোধন আনব।’

সাংবাদিকতা ব্যাহত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়- আইনমন্ত্রী : বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, সাংবাদিকতা ব্যাহত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। সাংবাদিকদের টার্গেট করে কোনো আইন করাও আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে বাক-স্বাধীনতার কথা বলা আছে। তাই সংবিধানের বিপরীতে বা সাংঘর্ষিক কোনো আইন করতেই পারি না।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮ নিয়ে আলোচনা হয়। এই আইনের ৩২ ধারা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এতে সাংবাদিক বা যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কাঠামোতে বারবার অনুপ্রবেশ করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দিয়ে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সংস্থার তথ্য-উপাত্ত, ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করা বা করতে সহায়তা করাকে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ জন্য ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনটি সংসদে উত্থাপনের পর সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। এজন্য সাংবাদিকদের সংগঠন এডিটরস কাউন্সিল, বিএফইউজে এবং অ্যাটকো নেতাদের মতামত নেয়া হয়।

বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা যে আইনটা করতে চাই সেটা সারা দেশের জন্য করতে চাই। কোনো গোষ্ঠী বা পেশার জন্য আইন করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। বৈঠকে ৮টি ধারা বিশেষ করে ১৫, ২১, ২৫, ২৮, ২৯ ,৩১, ৩২ এবং ৪৩ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে যে কথাগুলো উঠে আসছে তা হল- বৈঠকে আমরা একমত হয়েছি ওই আইনের কিছু শব্দ সংজ্ঞায়িত করা উচিত। এগুলো স্পষ্ট নয়। এগুলো এতই বিস্তৃত যে, যে কাউকে এই নেটের মধ্যে আনা যাবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রস্তাবিত আইনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু সেটা বলতে কি বোঝায়- এটি কিন্তু সাংবাদিকদের প্রস্তাবনায় পরিষ্কার উল্লেখ আছে। এ রকম আটটি ধারা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এডিটরস কাউন্সিল, বিএফইউজে এবং অ্যাটকোর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব ব্যাপারে সুস্পষ্ট সুপারিশ করব। এগুলো সংজ্ঞার প্রয়োজন। যেসব শব্দ এই আইনের মধ্যে আনা বা ঢুকানোর প্রয়োজন, সেগুলো আমরা সুপারিশ করব। এরপর আবারও যেন এই নিয়ে আলাপ-আলোচনা না হয়, এটা নিয়ে ক্রিটিসিজম (সমালোচনা) না হয়, আজ সে উদ্দীপনায় আমরা আলোচনা করেছি। যেসব সংযোজন-বিয়োজন দরকার, তা করে আমরা সুপারিশ করব। তখন আমরা গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আবারও বসে এটি সংসদে পাস করার জন্য প্রেরণ করব।’

আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই এই আইনটি পাস হবে কিনা- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা আমার হাতে নয়। বাজেট অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। এই অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছাড়া সাধারণত কোনো আইন পাস হয় না। এই অধিবেশন বাজেট নিয়ে আলোচনার জন্য। তাই আমি এ রকম কথা বলতে পারব না, এটা এই অধিবেশনেই পাস হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫৭ ধারা অপব্যবহার রোধে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশের সেল থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মামলা রুজু হবে না। এটা করার পর ৫৭ ধারায় মামলার সংখ্যা ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এই আইনটা যখন হবে তখন নিশ্চয় ৫৭ ধারা বাতিল হবে।

কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), কাজী ফিরোজ রশীদ, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া এবং বিশেষ আমন্ত্রণে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং আইনমন্ত্রী আনিসুল হক অংশ নেন। এছাড়া কমিটির আমন্ত্রণে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, অ্যাটকোর প্রেসিডেন্ট সালমান এফ রহমান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল হক বাবু বৈঠকে অংশ নেন। স্যাটেলাইটের সুবিধা পেতে আরও তিন মাস লাগবে : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সুবিধা পেতে আরও তিনি মাস লাগবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেছেন, ‘এটিকে আমরা আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর অবস্থায় নিয়ে যেতে পারব।’ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় সুখবর যেটি এর মধ্যে এখন পর্যন্ত আমরা কোনো ত্র“টি পাইনি। তিনি বলেন, এটি ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেশের দিকে দিচ্ছি। বিশেষ করে যারা স্যাটেলাইট চ্যানেল চালান তাদের দিকে। এরপর আমরা আন্তর্জাতিকভাবে এটি ব্যবহার করব। সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আপনাদের সুসংবাদ দিতে চাই। আপনারা জানেন বাংলাদেশি সময় ১২ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই-১ উত্থাপন করা হয়। সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর আমরা অপেক্ষা করেছিলাম এটি কখন আমাদের সুনির্দিষ্ট কক্ষপথে এসে দাঁড়াবে। আপনাদের জন্য সুসংবাদ হচ্ছে গত (সোমবার) রাতে নির্দিষ্ট যে কক্ষপথ ১১৯ দশমিক ১ সেই জায়গাতে স্থাপিত হয়েছে। এটিই তার দুনির্দিষ্ট জায়গা।’ তিনি বলেন, এটির সুফল হিসেবে আমি বলতে চাই, এর ফলে আমরা বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা করতে পারব। আমাদের কিছুটা সময় লাগবে একে বাণিজ্যিভাবে ব্যবহার করার জন্য। আমরা প্রত্যাশা করি প্রায় তিন মাসের মতো সময় লাগবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে স্যাটেলাইটের চূড়ান্ত যুগে প্রবেশ করেছি। এটি হচ্ছে এই জাতির গর্ব। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ দিয়ে সারা পৃথিবীকে আমরা বলতে পারি আমরা আমাদের কক্ষপথে অবস্থান করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter