চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালের কাণ্ড!

আবর্জনা থেকে তুলে বুঝিয়ে দেয়া হল শিশুর লাশ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আবর্জনা থেকে তুলে বুঝিয়ে দেয়া হল শিশুর লাশ
প্রতীকী ছবি

নগরীর পাঁচলাইশে পিপলস হাসপাতালের বিরুদ্ধে নবজাতক চুরির অভিযোগ উঠেছে। যমজ নবজাতকের একটিকে চুরির অভিযোগ করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনাগার থেকে শিশুটির মৃতদেহ এনে পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দিয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে চান্দগাঁও এলাকার আমেনা বেগমের (২৬) প্রসব বেদনা শুরু হলে পিপলস হাসপাতালে তাকে নেয়া হয়। যমজ সন্তানের জন্ম দেন আমেনা (২৬)। অস্ত্রোপচারের পর তাকে তার যমজ সন্তান হয়েছে বলে জানানো হয়। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। কিছুক্ষণ পর জানানো হয়, মেয়ে শিশুটি সুস্থ আছে তবে ছেলেটি মারা গেছে। আমেনা ছেলের মুখ দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গড়িমসি শুরু করে। একেকবার একেক রকম উত্তর দেয়ার পর একপর্যায়ে নবজাতকটির লাশ ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। এ থেকে নবজাতকটিকে চুরি করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তারা জীবিত বা মৃত যাই হোক না কেন তাদের নবজাতককে বুঝিয়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে পাঁচলাইশ থানায় মৌখিক অভিযোগও জানানো হয়।

সন্তান চুরির অভিযোগের পর সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনা থেকে শিশুটির মৃতদেহ এনে পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। শিশু চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভুলবশত নার্স মৃত নবজাতককে হাসপাতালের ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। পরে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ডাস্টবিনের আবর্জনার সঙ্গে শিশুটির লাশ হালিশহর আবর্জনাগারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে আনা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিপলস হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. আহাদ যুগান্তরকে বলেন, ‘সিজারের পর ওই নারীর একটি সুস্থ ও একটি মৃত বাচ্চা হয়। মৃত বাচ্চা হওয়ার বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। তবে মৃত শিশুটি অর্ধগলিত ছিল বলে নার্স ভয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। সেখান থেকে আবর্জনাবাহী গাড়ি হাসপাতালের বর্জ্যসহ শিশুটিকে হালিশহর এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনাগারে নিয়ে যায়। তবে সেখানে আবর্জনা ফেলে দেয়ার আগেই আমরা গাড়িটি শনাক্ত করি এবং শিশুটির মরদেহ খুঁজে এনে সন্ধ্যায় তার চাচা মো. ইরফানের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এটা কোনো চুরির ঘটনা নয়। অসাবধানতাবশত হয়েছে।’

পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘পিপলস হাসপাতালে জন্ম দেয়া যমজ দুই বাচ্চার মধ্যে একটি চুরি হয়েছে- এমন একটি অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি।’ চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালকে শোকজ করা হবে।

এর আগে গত ১৭ এপ্রিল ফেনী থেকে আসা রোকসানা আকতার (২১) নামের এক মায়ের নবজাতক কন্যাশিশুকে রেখে অপর একটি শিশুর মরদেহ দেয়া হয়। পরে জানাজার জন্য গোসল করানোর সময় সবাই দেখতে পান সেটি ছেলে শিশু। তার পরদিন পাঁচলাইশ থানার হস্তক্ষেপে ১৮ এপ্রিল শিশুর লাশ ফিরিয়ে নিয়ে এলে কন্যাসন্তান ফেরত দিতে বাধ্য হয় চাইল্ড কেয়ার কর্তৃপক্ষ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×