১২ লাখ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১২ লাখ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

১৯ শতাংশ ঘাটতি অর্থায়নের সুপারিশ করে আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য বিশাল ব্যয়ের বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। সমিতির কর্মকর্তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাত মিলে আগামী অর্থবছরের বাজেট হতে পারে ১২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার।

সরকারের সম্ভাব্য প্রস্তাবিত বাজেট ৪ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এ বাজেটের তুলনায় বিকল্প বাজেটের ব্যয়ের আকার আড়াইগুণ বেশি। তবে সমিতি প্রস্তাবিত এ বাজেট বাস্তবায়নে ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮২০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে- যা মোট বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮১ শতাংশ।

সরকারের আয়ের তুলনায় বিকল্প বাজেটে রাজস্বের আকার তিনগুণ বেশি। এ কারণে বাড়তি আয় আসার উৎস হিসেবে বিকল্প বাজেটে ২২টি নতুন খাতেরও সন্ধান দেয়া হয়েছে।

এতে বাজেটের গুণগতমান বৃদ্ধি, সঠিক সময়ে বাজেট বাস্তবায়ন, ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে অধিকতর কর্মকৌশল এবং বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শনিবার ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বাজেট প্রস্তাবনা ২০১৮-১৯’ শীর্ষক এ বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেন যৌথভাবে সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত ও সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষে তারা এ বিকল্প বাজেট উপস্থাপন করেন। এ সময় সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. হান্নানা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

বিকল্প বাজেট উপস্থাপন করে ড. আবুল বারকাত বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তির বিচারে প্রস্তাবিত বাজেটে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

এজন্য আয় বাড়ানোর ২২টি নতুন খাতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি এ বিশাল আকৃতির ব্যয়ের বাজেট বাস্তবায়নে ১৪টি ইস্যুতে জোর দিতে হবে। এজন্য কোথায় কোথায় মৌলিক পরিবর্তন জরুরি সেগুলোও তিনি তুলে ধরেন।

অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাবিত এ বাজেট অনেকের কাছে হাস্যকর হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সরকারের কাছে বিবেচিত নাও হতে পারে। এরপরও জেনে-বুঝে এবং অত্যন্ত বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়েই অর্থনীতি সমিতি এ সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ২০১২ সালে অর্থনীতি সমিতির পক্ষে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার প্রস্তাব আমি যখন করেছিলাম তখনও অনেকে হেসেছিলেন। সমালোচনামুখর অনেকে পাগলও বলেছিলেন। কিন্তু দেখুন ২০১৮ সালের চিত্র। পদ্মা সেতু এখন দেশীয় অর্থায়নে হচ্ছে। মৌলবাদের অর্থনীতি দেশে এখন প্রতিফলিত হচ্ছে। অর্থনীতির ৪২-৮৪ শতাংশ পর্যন্ত কালো টাকা এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা।

ড. বারকাত আরও বলেন, বিকল্প বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর জোগান সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব খাত থেকে পাওয়া সম্ভব।

এর মধ্যে ৪৫ হাজার কোটি টাকা আসবে বন্ড মার্কেট থেকে, ৬০ হাজার কোটি টাকা আসবে সঞ্চয়পত্র থেকে ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা।

রাজস্ব আয় বাড়ানোর নতুন খাত থেকে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আসতে পারে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এর মধ্যে অর্থপাচার খাত থেকে আসতে পারে ৩০ হাজার কোটি টাকা, কালো টাকা থেকে ২৫ হাজার কোটি, সম্পদ কর খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা আসতে পারে।

অনুরূপভাবে বিদেশি নাগরিকের ওপর কর, বন্ড মার্কেট, সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব, সেবা প্রাপ্তির কর, সম্পদ কর, বিমান ভ্রমণ কর, তার ও টেলিফোন বোর্ড, টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি কমিশন, বিআইডব্লিউটিএ, বেসরকারি হাসপাতাল নবায়ন ফি, সরকারি স্টেশনারি বিক্রয়, পৌর হোল্ডিং করও রাজস্ব আয় বাড়ানোর কার্যকরী পথ হতে পারে।

অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত এ বাজেট বাস্তবায়ন করা গেলে উন্নয়ন-অনুন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের অনুপাত হবে ৫৫:৪৫।

বর্তমান উন্নয়ন-অনুন্নয়ন বরাদ্দের (৩৯:৬১) তুলনায় উন্নয়ন বরাদ্দ ৪ দশমিক ৩ গুণ বেড়ে উন্নয়ন বরাদ্দ হবে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। একইভাবে ‘অনুন্নয়ন বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে হবে ৫ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা।

ফলে আয় কাঠামোতে বিত্তশালী ও ধনীদের ওপর করের বোঝা অতীতের তুলনায় অনেকগুণ বেড়ে যাবে। এতে সমাজে ধন-বৈষম্য, সম্পদ বৈষম্য ও ক্রমবর্ধমান অসমতা হ্রাস পাবে।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে চলতি বাজেটের উন্নয়ন ও অনুন্নয়নের তুলনায় আগামী বাজেটে ৪ গুণ বেশি ব্যয় করার প্রস্তাব করা হয়। স্বাস্থ্য খাতে ৪ দশমিক ১ গুণ বৃদ্ধি করে ৮৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে বরাদ্দ ৭ গুণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১২ গুণ, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ২ দশমিক ৬ গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় অর্থনীতি সমিতি।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter