গুনাহগারকে ক্ষমা করো হে মাওলা

  ড. হাফেজ এবিএম হিজবুল্লাহ ২৯ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান

এ মাসেই নাজিল হয়েছে মানবজীবনের জীবন্ত পথনির্দেশক কোরআনুল কারিম। এ মাসেই যে কোনো ধরনের আমল করা হোক, এর জন্য রয়েছে দশ থেকে সাতশত বা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী আরও অনেকগুণ সওয়াব।

একটি নফল একটি ফরজের সমতুল্য। এ মহা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে আবার অপেক্ষা করতে হবে এক বছরের জন্য। কিন্তু সেই এক বছর বাঁচব না কি এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে, কে জানে। তাই বুদ্ধিমানদের দেখা যায় এ মাসে সওয়াব কামিয়ে নিতে। একটি মুহূর্তও তারা হাতছাড়া করতে রাজি নন।

আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজানের প্রথম রাতেই শয়তান ও দুষ্টু জিনদের বন্দি করা হয়। আগুনের (জাহান্নামের) ফটকগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়; সেখান থেকে একটি ফটকও খোলা হয় না। এবং জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়; একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। একজন ঘোষক ঘোষণা দিতে থাকে, ‘হে কল্যাণকামী! এগিয়ে যাও, আর ওহে অকল্যাণকামী! পিছিয়ে এসো।’ আল্লাহ জাহান্নামের আগুন থেকে প্রচুর সংখ্যক বান্দাকে মুক্তি দেন। আর প্রতি রাতেই এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে।” তিরমিজি : ৬৮২। আমরা কি মুক্তি অর্জন করতে পেরেছি?

এ মাসে প্ররোচনাদানকারী শয়তান শৃঙ্খলিত; তার পক্ষে রোজাদারকে প্রভাবিত করা অসম্ভব। এরপরও যারা পাপাচারে লিপ্ত হয়, বুঝতে হবে শয়তান আগে থেকেই এদের দীর্ঘমেয়াদি চাবি দিয়ে রেখেছে। তাছাড়া শয়তান তো বন্দি বটে, কিন্তু পাপ-পঙ্কিলতার অন্য একটি উৎস নাফস (কুপ্রবৃত্তি) তো মুক্ত; এ নাফসের ওয়াসওয়াসাতেই কিন্তু শয়তান আল্লাহর হকুম অমান্য করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। ইবলিশ ফেরেশতা জগতের একজন বড় আলিম ও আবেদ হয়েও আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হয়েছে।

সব অনাচার-পাপাচার-কামাচারের শেষ ঠিকানা জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ রয়েছে। একটি দরজাও খোলা নেই। সব ধরনের ইবাদত ও নেক আমলের শেষ আশ্রয় জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ আরহামুর রাহিমিন চান না তাঁর কোনো বান্দা জাহান্নামের অনলে দগ্ধ হোক। তিনি চান তাঁর বান্দারা শুধুই জান্নাতের স্থায়ী বাসিন্দা হোক। নিজেকে প্রশ্ন করুন, জান্নাতের বাসিন্দা হতে পেরেছেন কিনা?

এ মাসে ঘোষক ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন, কে আছো, এসো জান্নাতের পথে। শিরক, বিদআত ও নাফরমানির পথে যেও না, ওটা জাহান্নামের পথ। জাহান্নাম সে তো এক ভয়ংকর স্থান। ওখানে যাওয়ার নামটিও নিতে নেই। ওটা তোমাদের জন্য নয় হে রোজাদারেরা। তোমরা তো থাকবে চির শান্তিতে জান্নাতে। জান্নাত তোমাদের অপেক্ষায় রয়েছে। তোমরা জান্নাত কামিয়ে নাও।

তাই জান্নাতি আমলে সময় পার করছে রোজাদার। কোরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ, জিকির, তওবা ও ইস্তিগফারে যত ব্যস্ততা। গুনাহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখছে। গুনাহের উপকরণ ও উপায়গুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। নিজের নাফসকে নিয়ন্ত্রণ করছে। কুপ্রবৃত্তি যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেদিকে সদা খেয়াল রাখছে।

এর প্রভাবেই দেখা যাচ্ছে মসজিদগুলো মুসল্লিতে পরিপূর্ণ। ঘরে-বাইরে নেক আমলের প্রতিযোগিতা। অন্তরগুলোয় জেগে উঠেছে ইবাদতের স্পন্দন। দুর্বল হয়ে যাচ্ছে কৃপ্রবৃত্তি। গুনাহে মন এগোয় না এখন। অতীত কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হচ্ছে মন, অনুশোচনায় জ্বলেপুড়ে যাচ্ছে হৃদয়। কায়মনোবাক্যে রোজাদার স্মরণ করছে মাওলাকে। বিগলিতচিত্তে ফরিয়াদ করছে, হে গাফফার! দয়া করো মোরে, ক্ষমা করো এ গুনাহগারকে।

বান্দার ডাকে সাড়া দিয়ে আল্লাহ রাহমানুর রাহিম রাতে বান্দাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে দিচ্ছেন। প্রতি রাতেই রব এভাবে তাঁর বান্দাদের মুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। অতএব, কেউ কি আছেন যিনি আল্লাহর ক্ষমা চান, হে আল্লাহ আমাকেও অন্তর্ভুক্ত করুন ক্ষমাকারীদের দলে।

লেখক : অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter