আল্লাহ ডাকছেন আমরা সাড়া দিচ্ছি কী
jugantor
নাজাতের দশ দিন
আল্লাহ ডাকছেন আমরা সাড়া দিচ্ছি কী

  মুফতি সুহাইল আহমদ  

২৩ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ২১ রমজান। রহমত ও মাগফিরাতের দুই দশক পেরিয়ে নাজাতের দশকে কদম রাখলেন সায়েম বান্দারা। আজ থেকে ক্ষমা ও মুক্তির বিশেষ দুয়ার খোলা হলো। এ দশকে মুমিনের জন্য রয়েছে মহামান্বিত ‘শবেকদর’ এবং ইতিকাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমল।

শবেকদর সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি মাহাত্ম্যপূর্ণ রাতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় রাত কী? তা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফিরিশতা ও জিবরাইল (আ.) রবের আদেশে প্রতিটি কাজের (সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার) জন্য অবতরণ করেন। এ শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা উদয় পর্যন্ত।’ (সূরা কদর : ১-৫)।

লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য নবিজি (সা.) ইতিকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘ওফাতের আগ পর্যন্ত প্রত্যেক রমজানের শেষের ১০ দিন রাসুল (সা.) ইতিকাফ করতেন।’ (বুখারি : ২৩২৬, মুসলিম : ১১৭২)। ‘কিন্তু তিনি যে বছর ওফাত পান, সে বছর ২০ দিন ইতিকাফ করেন।’ (বুখারি : ৪৯৯৮)।

এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহতায়ালা প্রথম আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের ডেকে বলেন, কে আছ অসুস্থ আমার কাছে চাও আমি শেফা দান করব, কে আছ অভাবগ্রস্ত আমার কাছে চাও আমি প্রাচুর্য দান করব, কে আছ বিপদগ্রস্ত আমার কাছে চাও আমি বিপদমুক্ত করে দেব।

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন; তুমি বলবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা-ফু আন্নি। ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনে মাজাহ)।

বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে মুক্তি ও ক্ষমাপ্রাপ্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো উপহার হতে পারে না। বান্দা যত বড়ই অপরাধী হোক না কেন-আল্লাহ বাহানা তালাশ করেন তার বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য। অফুরান সুযোগ তৈরি করে দেন-বান্দা যেন নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পারে।

শবেকদর, ইতিকাফের মাধ্যমে সিয়াম সাধকরা নিজেকে আল্লাহর প্রেমের সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন করার প্রচেষ্টা করেন। ইতিকাফে দশ দিন চলে নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত বন্দেগি। এতে আল্লাহর অসীম প্রেম সরোবরে সিক্ত ইতিকাফকারীর জীবনাচরণে স্বাভাবিকভাবেই ফুটে ওঠে দুনিয়াবিমুখতা ও আল্লাহর জন্য সব কিছু উজাড় করার মানসিকতা। যে মানসিকতা বা আচার-আচরণকে বলা হয় আখলাকে হাসানা বা উত্তম চরিত্র। আল্লাহতায়ালা আমাদের ক্ষমা ও মুক্তির পাশাপাশি এ দশকে আখলাকে হাসানার মহান নিয়ামতে ধন্য করুন। আমিন।

লেখক : আলেম ও ধর্মীয় প্রবন্ধকার

নাজাতের দশ দিন

আল্লাহ ডাকছেন আমরা সাড়া দিচ্ছি কী

 মুফতি সুহাইল আহমদ 
২৩ এপ্রিল ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ ২১ রমজান। রহমত ও মাগফিরাতের দুই দশক পেরিয়ে নাজাতের দশকে কদম রাখলেন সায়েম বান্দারা। আজ থেকে ক্ষমা ও মুক্তির বিশেষ দুয়ার খোলা হলো। এ দশকে মুমিনের জন্য রয়েছে মহামান্বিত ‘শবেকদর’ এবং ইতিকাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমল।

শবেকদর সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি মাহাত্ম্যপূর্ণ রাতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় রাত কী? তা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। সে রাতে ফিরিশতা ও জিবরাইল (আ.) রবের আদেশে প্রতিটি কাজের (সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার) জন্য অবতরণ করেন। এ শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা উদয় পর্যন্ত।’ (সূরা কদর : ১-৫)।

লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য নবিজি (সা.) ইতিকাফ করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘ওফাতের আগ পর্যন্ত প্রত্যেক রমজানের শেষের ১০ দিন রাসুল (সা.) ইতিকাফ করতেন।’ (বুখারি : ২৩২৬, মুসলিম : ১১৭২)। ‘কিন্তু তিনি যে বছর ওফাত পান, সে বছর ২০ দিন ইতিকাফ করেন।’ (বুখারি : ৪৯৯৮)।

এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহতায়ালা প্রথম আসমানে অবতরণ করে বান্দাদের ডেকে বলেন, কে আছ অসুস্থ আমার কাছে চাও আমি শেফা দান করব, কে আছ অভাবগ্রস্ত আমার কাছে চাও আমি প্রাচুর্য দান করব, কে আছ বিপদগ্রস্ত আমার কাছে চাও আমি বিপদমুক্ত করে দেব।

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে আমি ওই রাতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন; তুমি বলবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা-ফু আন্নি। ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করা পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনে মাজাহ)।

বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে মুক্তি ও ক্ষমাপ্রাপ্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো উপহার হতে পারে না। বান্দা যত বড়ই অপরাধী হোক না কেন-আল্লাহ বাহানা তালাশ করেন তার বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য। অফুরান সুযোগ তৈরি করে দেন-বান্দা যেন নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নিতে পারে।

শবেকদর, ইতিকাফের মাধ্যমে সিয়াম সাধকরা নিজেকে আল্লাহর প্রেমের সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন করার প্রচেষ্টা করেন। ইতিকাফে দশ দিন চলে নিরবচ্ছিন্ন ইবাদত বন্দেগি। এতে আল্লাহর অসীম প্রেম সরোবরে সিক্ত ইতিকাফকারীর জীবনাচরণে স্বাভাবিকভাবেই ফুটে ওঠে দুনিয়াবিমুখতা ও আল্লাহর জন্য সব কিছু উজাড় করার মানসিকতা। যে মানসিকতা বা আচার-আচরণকে বলা হয় আখলাকে হাসানা বা উত্তম চরিত্র। আল্লাহতায়ালা আমাদের ক্ষমা ও মুক্তির পাশাপাশি এ দশকে আখলাকে হাসানার মহান নিয়ামতে ধন্য করুন। আমিন।

লেখক : আলেম ও ধর্মীয় প্রবন্ধকার

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন