ডিআইজি পদোন্নতিতে রেকর্ড বঞ্চিত
jugantor
ডিআইজি পদোন্নতিতে রেকর্ড বঞ্চিত
আমার কিছু করার ছিল না, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনিয়র সচিবরা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  সিরাজুল ইসলাম  

১৪ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পুলিশের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) পদে একসঙ্গে ৩২ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে গত বুধবার। এর আগে কখনো এতসংখ্যক ডিআইজিকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।

২০২০ সালে ১১ জন, ২০১৯ সালে আটজন, ২০১৮ সালে ১৭ জন, ২০১৭ সালে ১৫ জন এবং ২০১৬ সালে ১৮ জনকে এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। এবার সর্বোচ্চসংখ্যক পদোন্নতি দেওয়া হলেও রেকর্ডসংখ্যক পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছে।

এ সংখ্যা শতাধিক। এবার যাদের এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তারা বিসিএস পুলিশের ১৮তম এবং ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা। উভয় ব্যাচ থেকেই ১৬ জন করে পদোন্নতি পেয়েছেন।

অথচ অষ্টম, ১২তম, ১৫তম এবং ১৭তম ব্যাচের কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া যে দুটি ব্যাচ থেকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে সেখানেও অনেককে সুপারসিড করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পুলিশ এখন একটি বড় বাহিনী। এই বাহিনীর পৃথক পদোন্নতি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। নীতিমালা হলে পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকবে।

ইচ্ছে করলেই যখন-তখন জ্যেষ্ঠদের ডিঙিয়ে কনিষ্ঠদের পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বঞ্চিতদের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শুক্রবার যুগান্তরকে জানান, এবারের পদোন্নতিতে আমার কিছু করার ছিল না।

সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনিয়র সচিবরা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের জন্য পদোন্নতি এবং পদায়নের পৃথক নীতিমালা প্রক্রিয়াধীন আছে।

জানতে চাইলে ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা মাহবুব হাকিম যুগান্তরকে বলেন, আমি ট্যুরিস্ট পুলিশে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত। অথচ আমার ব্যাচমেটদের ৮-১০ জন অতিরিক্ত আইজিপি পদে অধিষ্ঠিত।

এমনকি ১৫তম ব্যাচ থেকেও পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি হিসাবে ইতোপূর্বে পদোন্নতি পেয়েছেন। এবার যখন ডিআইজি পদে পদোন্নতির তালিকা করা হলো তখন ভেবেছিলাম অন্তত ডিআইজি হওয়ার সুযোগ পাব।

কারণ তালিকায় আমার নাম শুরুর দিকে ছিল। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার পদোন্নতি না হওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস ১৫তম ব্যাচের এক কর্মকর্তা হতাশার কথা জানিয়ে বললেন, আমার ব্যাচমেটরা অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি। অথচ আমি অতিরিক্ত ডিআইজি।

এবার যেহেতু পদোন্নতি হলো না, ভবিষ্যতে আর আমার পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। তিনি বলেন, ব্যাচের মেধা তালিকায় আমি ছিলাম ৪০-এর মধ্যে। মেধায় যিনি ৬০-এর পরে ছিলেন তিনিও অনেকদিন ধরে ডিআইজি হিসাবে কর্মরত।

যেহেতু ২০ ব্যাচ থেকে ডিআইজি বানানো হলো-তাহলে এটা পরিষ্কার যে, ১৫, ১৭ এবং ১৮তম ব্যাচের বঞ্চিতরা আর ডিআইজি হওয়ার সুযোগ পাবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের পদোন্নতিতে অষ্টম ব্যাচের আনছার উদ্দিন খান পাঠান এবং আওরঙ্গজেব মাহবুব চরমভাবে বঞ্চিত হয়েছেন।

১২তম ব্যাচের যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন মতিউর রহমান শেখ, মোহাম্মদ আবদুর রহিম, মাহবুব হাকিম, আলমগীর আলম, সরদার তমিজ উদ্দিন আহমেদ, গোলাম রসুল, ফিরোজ আল মুজাহিদ খান, দেলোয়ার হোসেন মিঞা, মোখলেছুর রহমান, শহীদুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

এ বিষয়ে মতিউর রহমান শেখ যুগান্তরকে বলেন, সারা জীবন সুনামের সঙ্গে চাকরি করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক গোয়েন্দা প্রতিবেদন আছে বলে জানা নেই। তারপরও কেন পদোন্নতি হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। এটা একান্তই সরকারের ব্যাপার।

সূত্র মতে, সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে আছেন হাসিব আজিজ, খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, মোরশেদ আলম, মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, একেএম আওলাদ হোসেন, আকরাম হোসেন, মাসুদ উল হাসান, সাখাওয়াত হোসাইন, জিএম আজিজুর রহমান, মো. সরওয়ার, মোরশেদ আলম, আব্দুল মালেক, ড. আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর, একরামুল হাবীব, মোহাম্মদ মুসলিম, তানভীর হায়দার চৌধুরী, সায়েদুর রহমান প্রমুখ। তালিকায় নাম থাকলেও ১৭তম ব্যাচের যাদের পদোন্নতি হয়নি তাদের মধ্যে আছে মীজানুর রহমান, এসএম ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ নজরুল হোসেন, ইকবাল হোসেন, কামরুল আহসান, মোহাম্মদ শাহজাহান, কামরুল আমীন, প্রলয় চিসিম, হারুন উর রশিদ হাজারী, মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, মোফাজ্জল হোসেন, আতাউল কিবরিয়া, রেজাউল করিম, গাজী মো. মোজাম্মেল হক, ইসরাইল হাওলাদার, সাজ্জাদুর রহমান বসুনিয়া, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, আব্দুর রাজ্জাক, রেজাউল করিম মল্লিক, সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমান, আবুল খায়ের, মাসুম বিল্লাহ তালুকদার এবং এসএন নজরুল ইসলাম।

১৮তম ব্যাচ থেকে এবার যারা পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন, মাসুদ করিম, আবুল বাশার তালুকদার, এসএম আইনুল বারী, ইমাম হোসেন, শফিকুল ইসলাম, খোন্দকার নাজমুল হাসান, জুলফিকার আলী হায়দার, মোহাম্মদ আশফাকুল আলম, হাসান মো. শওকত আলী, হাবিবুর রহমান খান, সুজায়েত ইসলাম, এজাজ আহমেদ, রফিকুল হাসান গণি, আমিনুল ইসলাম, একেএম নাহিদুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, সরদার রফিকুল ইসলাম, মজিদ আলী, ইকবাল হোসেন, আবু হেনা খন্দকার অহিদুল করিম, শফিকুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন, রখফার সুলতানা খানম, জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

সূত্র আরও জানায়, ২০তম ব্যাচ থেকে এর আগে কখনো কেউ ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাননি। এই ব্যাচের ১০৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১৬ জন হলেন ভাগ্যবান।

এদের মধ্যে মেধা তালিকায় এক নম্বরে থাকা আশিক সাঈদের পদোন্নতি হয়নি। মেধা তালিকায় দুই থেকে চার নম্বর সিরিয়ালে থাকা মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, একেএম এহসান উল্লাহ এবং শাহ মিজান শাফিউর রহমানের পদোন্নতি হয়েছে।

পাঁচ থেকে আট নম্বর তালিকায় থাকা কারও পদোন্নতি হয়নি। পদোন্নতি হয়েছে ৯ এবং ১০ নম্বরে থাকা মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং এসএম মোস্তাক আহমেদ খানের।

১১ ও ১২ নম্বর সিরিয়ালে থাকা ড. আল-মামুনুল আনছারী ও মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদের পদোন্নতি হয়নি। তবে ১৩ এবং ১৪ নম্বরে থাকা জিহাদুল কবির এবং মঈনুল হকের পদোন্নতি হয়েছে।

১৫ থেকে ১৯ নম্বর সিরিয়ালের মধ্যে ১৭ নম্বরে থাকা ইলিয়াছ শরীফ পদোন্নতি পেয়েছেন। ২০ নম্বরে থাকা নুরে আলম মিনা পদোন্নতি পেলেও ২১ থেকে ২৫ নম্বর পর্যন্ত কেউই বিবেচনায় আসেনি।

বিবেচনায় এসেছে ২৬ নম্বরে থাকা শাহ আবিদ হোসেন। ২৭ থেকে ৩৩ নম্বর পর্যন্ত কেউ ডিআইজি হতে না পারলেও হয়েছে ৩৪ নম্বরে থাকা জামিল হাসান। ৩৫ থেকে ৪২ নম্বর পর্যন্ত কেউ পদোন্নতি পাননি।

তবে ৪৩ নম্বরে থাকা মাহবুবুর রহমান পদোন্নতি পেয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০তম ব্যাচের ৪৪ নম্বর থেকে ৫৬ নম্বর পর্যন্ত কারও পদোন্নতি হয়নি। তবে ৫৭ নম্বরে থাকা সাইফুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়েছেন।

আবার ৫৮ থেকে ৬৪ নম্বর সিরিয়ালের কারও ভাগ্য খোলেনি। ভাগ্য খুলেছে ৬৫ নম্বর সিরিয়ালে থাকা সৈয়দ নুরুল ইসলামের।

৬৬ থেকে ৭৬ নম্বর সিরিয়ালের কেউ ডিআইজি হতে না পারলেও হয়েছেন ৭৭ নম্বরে থাকা আনিসুর রহমান। অপরদিকে ৭৮ থেকে ৮৪ নম্বর সিরিয়ালের কারও পদোন্নতি না হলেও হয়েছে ৮৫ নম্বর সিরিয়ালে থাকা হারুন অর রশীদের।

সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা সব সময়ই দেখছি পদোন্নতির সময় কিছু যোগ্য কর্মকর্তা বঞ্চিত হচ্ছেন।

এটা ওই কর্মকর্তাদের জন্য খুবই কষ্টের। কেন যোগ্যরা বাদ পড়ছেন সেটা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে খতিয়ে দেখতে হবে।

বঞ্চিরতা যাতে পরবর্তীকালে মূল্যায়িত হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিজস্ব নীতিমালার অভাবে পদোন্নতি ঘিরে বাহিনীর ভেতর অসন্তোষ রয়েছে। এটা না হলে পুলিশে হতাশা বাড়বেই।

ডিআইজি পদোন্নতিতে রেকর্ড বঞ্চিত

আমার কিছু করার ছিল না, সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনিয়র সচিবরা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
 সিরাজুল ইসলাম 
১৪ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ পুলিশের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) পদে একসঙ্গে ৩২ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে গত বুধবার। এর আগে কখনো এতসংখ্যক ডিআইজিকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।

২০২০ সালে ১১ জন, ২০১৯ সালে আটজন, ২০১৮ সালে ১৭ জন, ২০১৭ সালে ১৫ জন এবং ২০১৬ সালে ১৮ জনকে এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। এবার সর্বোচ্চসংখ্যক পদোন্নতি দেওয়া হলেও রেকর্ডসংখ্যক পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছে।

এ সংখ্যা শতাধিক। এবার যাদের এ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তারা বিসিএস পুলিশের ১৮তম এবং ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা। উভয় ব্যাচ থেকেই ১৬ জন করে পদোন্নতি পেয়েছেন।

অথচ অষ্টম, ১২তম, ১৫তম এবং ১৭তম ব্যাচের কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এছাড়া যে দুটি ব্যাচ থেকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে সেখানেও অনেককে সুপারসিড করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পুলিশ এখন একটি বড় বাহিনী। এই বাহিনীর পৃথক পদোন্নতি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। নীতিমালা হলে পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকবে।

ইচ্ছে করলেই যখন-তখন জ্যেষ্ঠদের ডিঙিয়ে কনিষ্ঠদের পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে বঞ্চিতদের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শুক্রবার যুগান্তরকে জানান, এবারের পদোন্নতিতে আমার কিছু করার ছিল না।

সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনিয়র সচিবরা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের জন্য পদোন্নতি এবং পদায়নের পৃথক নীতিমালা প্রক্রিয়াধীন আছে।

জানতে চাইলে ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা মাহবুব হাকিম যুগান্তরকে বলেন, আমি ট্যুরিস্ট পুলিশে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত। অথচ আমার ব্যাচমেটদের ৮-১০ জন অতিরিক্ত আইজিপি পদে অধিষ্ঠিত।

এমনকি ১৫তম ব্যাচ থেকেও পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি হিসাবে ইতোপূর্বে পদোন্নতি পেয়েছেন। এবার যখন ডিআইজি পদে পদোন্নতির তালিকা করা হলো তখন ভেবেছিলাম অন্তত ডিআইজি হওয়ার সুযোগ পাব।

কারণ তালিকায় আমার নাম শুরুর দিকে ছিল। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার পদোন্নতি না হওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। 

পদোন্নতিবঞ্চিত বিসিএস ১৫তম ব্যাচের এক কর্মকর্তা হতাশার কথা জানিয়ে বললেন, আমার ব্যাচমেটরা অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি। অথচ আমি অতিরিক্ত ডিআইজি।

এবার যেহেতু পদোন্নতি হলো না, ভবিষ্যতে আর আমার পদোন্নতি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না। তিনি বলেন, ব্যাচের মেধা তালিকায় আমি ছিলাম ৪০-এর মধ্যে। মেধায় যিনি ৬০-এর পরে ছিলেন তিনিও অনেকদিন ধরে ডিআইজি হিসাবে কর্মরত।

যেহেতু ২০ ব্যাচ থেকে ডিআইজি বানানো হলো-তাহলে এটা পরিষ্কার যে, ১৫, ১৭ এবং ১৮তম ব্যাচের বঞ্চিতরা আর ডিআইজি হওয়ার সুযোগ পাবে না। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবারের পদোন্নতিতে অষ্টম ব্যাচের আনছার উদ্দিন খান পাঠান এবং আওরঙ্গজেব মাহবুব চরমভাবে বঞ্চিত হয়েছেন।

১২তম ব্যাচের যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন মতিউর রহমান শেখ, মোহাম্মদ আবদুর রহিম, মাহবুব হাকিম, আলমগীর আলম, সরদার তমিজ উদ্দিন আহমেদ, গোলাম রসুল, ফিরোজ আল মুজাহিদ খান, দেলোয়ার হোসেন মিঞা, মোখলেছুর রহমান, শহীদুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ। 

এ বিষয়ে মতিউর রহমান শেখ যুগান্তরকে বলেন, সারা জীবন সুনামের সঙ্গে চাকরি করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক গোয়েন্দা প্রতিবেদন আছে বলে জানা নেই। তারপরও কেন পদোন্নতি হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। এটা একান্তই সরকারের ব্যাপার। 

সূত্র মতে, সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে আছেন হাসিব আজিজ, খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, মোরশেদ আলম, মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, একেএম আওলাদ হোসেন, আকরাম হোসেন, মাসুদ উল হাসান, সাখাওয়াত হোসাইন, জিএম আজিজুর রহমান, মো. সরওয়ার, মোরশেদ আলম, আব্দুল মালেক, ড. আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর, একরামুল হাবীব, মোহাম্মদ মুসলিম, তানভীর হায়দার চৌধুরী, সায়েদুর রহমান প্রমুখ। তালিকায় নাম থাকলেও ১৭তম ব্যাচের যাদের পদোন্নতি হয়নি তাদের মধ্যে আছে মীজানুর রহমান, এসএম ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ নজরুল হোসেন, ইকবাল হোসেন, কামরুল আহসান, মোহাম্মদ শাহজাহান, কামরুল আমীন, প্রলয় চিসিম, হারুন উর রশিদ হাজারী, মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, মোফাজ্জল হোসেন, আতাউল কিবরিয়া, রেজাউল করিম, গাজী মো. মোজাম্মেল হক, ইসরাইল হাওলাদার, সাজ্জাদুর রহমান বসুনিয়া, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, আব্দুর রাজ্জাক, রেজাউল করিম মল্লিক, সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমান, আবুল খায়ের, মাসুম বিল্লাহ তালুকদার এবং এসএন নজরুল ইসলাম।

১৮তম ব্যাচ থেকে এবার যারা পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন, মাসুদ করিম, আবুল বাশার তালুকদার, এসএম আইনুল বারী, ইমাম হোসেন, শফিকুল ইসলাম, খোন্দকার নাজমুল হাসান, জুলফিকার আলী হায়দার, মোহাম্মদ আশফাকুল আলম, হাসান মো. শওকত আলী, হাবিবুর রহমান খান, সুজায়েত ইসলাম, এজাজ আহমেদ, রফিকুল হাসান গণি, আমিনুল ইসলাম, একেএম নাহিদুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, সরদার রফিকুল ইসলাম, মজিদ আলী, ইকবাল হোসেন, আবু হেনা খন্দকার অহিদুল করিম, শফিকুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন, রখফার সুলতানা খানম, জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

সূত্র আরও জানায়, ২০তম ব্যাচ থেকে এর আগে কখনো কেউ ডিআইজি পদে পদোন্নতি পাননি। এই ব্যাচের ১০৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১৬ জন হলেন ভাগ্যবান।

এদের মধ্যে মেধা তালিকায় এক নম্বরে থাকা আশিক সাঈদের পদোন্নতি হয়নি। মেধা তালিকায় দুই থেকে চার নম্বর সিরিয়ালে থাকা মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, একেএম এহসান উল্লাহ এবং শাহ মিজান শাফিউর রহমানের পদোন্নতি হয়েছে।

পাঁচ থেকে আট নম্বর তালিকায় থাকা কারও পদোন্নতি হয়নি। পদোন্নতি হয়েছে ৯ এবং ১০ নম্বরে থাকা মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং এসএম মোস্তাক আহমেদ খানের।

১১ ও ১২ নম্বর সিরিয়ালে থাকা ড. আল-মামুনুল আনছারী ও মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদের পদোন্নতি হয়নি। তবে ১৩ এবং ১৪ নম্বরে থাকা জিহাদুল কবির এবং মঈনুল হকের পদোন্নতি হয়েছে।

১৫ থেকে ১৯ নম্বর সিরিয়ালের মধ্যে ১৭ নম্বরে থাকা ইলিয়াছ শরীফ পদোন্নতি পেয়েছেন। ২০ নম্বরে থাকা নুরে আলম মিনা পদোন্নতি পেলেও ২১ থেকে ২৫ নম্বর পর্যন্ত কেউই বিবেচনায় আসেনি।

বিবেচনায় এসেছে ২৬ নম্বরে থাকা শাহ আবিদ হোসেন। ২৭ থেকে ৩৩ নম্বর পর্যন্ত কেউ ডিআইজি হতে না পারলেও হয়েছে ৩৪ নম্বরে থাকা জামিল হাসান। ৩৫ থেকে ৪২ নম্বর পর্যন্ত কেউ পদোন্নতি পাননি।

তবে ৪৩ নম্বরে থাকা মাহবুবুর রহমান পদোন্নতি পেয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০তম ব্যাচের ৪৪ নম্বর থেকে ৫৬ নম্বর পর্যন্ত কারও পদোন্নতি হয়নি। তবে ৫৭ নম্বরে থাকা সাইফুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়েছেন।

আবার ৫৮ থেকে ৬৪ নম্বর সিরিয়ালের কারও ভাগ্য খোলেনি। ভাগ্য খুলেছে ৬৫ নম্বর সিরিয়ালে থাকা সৈয়দ নুরুল ইসলামের।

৬৬ থেকে ৭৬ নম্বর সিরিয়ালের কেউ ডিআইজি হতে না পারলেও হয়েছেন ৭৭ নম্বরে থাকা আনিসুর রহমান। অপরদিকে ৭৮ থেকে ৮৪ নম্বর সিরিয়ালের কারও পদোন্নতি না হলেও হয়েছে ৮৫ নম্বর সিরিয়ালে থাকা হারুন অর রশীদের।

সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা সব সময়ই দেখছি পদোন্নতির সময় কিছু যোগ্য কর্মকর্তা বঞ্চিত হচ্ছেন।

এটা ওই কর্মকর্তাদের জন্য খুবই কষ্টের। কেন যোগ্যরা বাদ পড়ছেন সেটা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে খতিয়ে দেখতে হবে।

বঞ্চিরতা যাতে পরবর্তীকালে মূল্যায়িত হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিজস্ব নীতিমালার অভাবে পদোন্নতি ঘিরে বাহিনীর ভেতর অসন্তোষ রয়েছে। এটা না হলে পুলিশে হতাশা বাড়বেই।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন