পাঁচ বোলারে চার উইকেট
jugantor
পাঁচ বোলারে চার উইকেট
প্রথমদিন শেষে শ্রীলংকা ২৫৮/৪

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল, চট্টগ্রাম থেকে  

১৬ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

উইকেট

ভোরের আলো তখন ফোটার অপেক্ষায়। চট্টগ্রাম শহরে প্রাণচাঞ্চল্য শুরু হয়নি। ক্রিকেটবিশ্বে তার আগেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্রেকিং নিউজ দিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো জানাচ্ছে, দুবারের বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সেই শোক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা টেস্ট ম্যাচেও। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলংকা। মাঠে নামার আগে দুদলের খেলোয়াড়রা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সাইমন্ডস স্মরণে। এটা ছিল দিনের শুরুর চিত্র। সাগরিকায় শেষ বিকালে পশ্চিমাকাশে সূর্য রক্তবরণ ধারণ করার আগেই প্রথমদিনের খেলা শেষ। তার সাত ওভার আগেই মোহাম্মদ শরীফুলকে দারুণ এক ফ্লিক করে ক্যারিয়ারের ১২তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে উল্লাসে মাতেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। দিনশেষে তিনি অপরাজিত ১১৪ রানে। দিনেশ চান্দিমাল অপারিজত ৩৪ রানে। দিনের প্রথম সেশনে নাঈম হাসান দুটি ও শেষ সেশনে তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান একটি করে উইকেট নেন। প্রথমদিন শেষে ওই চার উইকেটে শ্রীলংকার সংগ্রহ ২৫৮ রান। তবুও দিনটা সমানে সমান বলে মনে করছেন স্বাগতিক দলের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ।

কয়েকদিন ধরেই চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে। কালও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু মেঘ-রোদ্দুরের খেলা হলেও শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি নামেনি। বাংলাদেশ অনেকদিন পর পাঁচ বোলার নিয়ে টেস্ট ম্যাচের একাদশ সাজিয়েছে। সেটা সম্ভব হয়েছে অনিশ্চয়তায় থাকা সাকিব দলে ফেরায়। তবে পাঁচ বোলার নিয়ে প্রথমদিনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ফ্লাট উইকেটে দুই পেসার শরীফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদ কার্যকরী হতে পারেননি। টস হারায় শুরুতেই কিছুটা পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দুটি উইকেট নিয়ে প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের করে ফেলেছিলেন নাঈম হাসান। পেসাররা সাত ওভার বোলিং করার পর বল হাতে নিয়েই লংকান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন নাঈম। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার তিন ওভার আগে আরেক ওপেনার ওশাদা ফার্নান্দোকেও ফেরান তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচাতে পারেননি এই টপ-অর্ডার ব্যাটার। প্রথম সেশনে দুটি রিভিউ নষ্ট হয় শরীফুল ইসলামের বলে। প্রথম সেশনে ২৪ ওভারে মাত্র ৭৩ রান করতে পারে শ্রীলংকা।

সাকিব প্রথম সেশনে বোলিংয়েই আসেননি। দ্বিতীয় সেশনের ১১ ওভার পার হলে তাকে বোলিংয়ে আনেন মুমিনুল হক। উইকেট দেখে আগেই ঠিক করে ফেলেন কী করতে হবে। নিয়মিত গতির চেয়ে অনেক কম গতিতে বোলিং করেন সাকিব। টানা ১০ ওভারের স্পেলে পাঁচ মেডেনে দেন মাত্র নয় রান। এই সময়ে তাইজুলও খারাপ করেননি। দ্বিতীয় সেশনে রান কম দিলেও উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। তাইজুলের বলে ম্যাথিউসকে একবার আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। ৩৮ রানে থাকা ম্যাথিউস বেঁচে যান রিভিউ নিয়ে। এই সেশনে ৩২ ওভারে তারা তুলতে পারে ৮৫ রান।

চা বিরতির পর প্রথম বলেই মেলে সাফল্য। দ্বিতীয় সেশনে দুর্দান্ত খেলা কুশাল মেন্ডিসকে ৫৪ রানে থামান তাইজুল। ৬৫তম ওভারে আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান ম্যাথিউসকেও ফেরাতে পারতেন তাইজুল। প্রথম স্লিপে মাহমুদুল হাসান ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। পরের ওভারে অবশ্য সেই মাহমুদুলই আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন। শেষ সেশনেও সাকিব বোলিং আসেন নয় ওভার পর। দ্বিতীয় বলেই পেয়ে যান সাফল্য। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাট প্যাডে লেগে বল চলে যায় প্রথম স্লিপে। প্রথম স্লিপ থেকে দৌড়ে দারুণ ড্রাইভে ক্যাচ নেন মাহমুদুল। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায় বাংলাদেশ।

১৮৩ রানে চার উইকেট তুলে নিয়ে দিনটা বাংলাদেশের হতে যাচ্ছিল। তবে দিনের বাকিটা সময় শুধুই হতাশায় কেটেছে স্বাগতিক বোলারদের। ম্যাথিউস ও দিনেশ চান্দিমালকে ফেরানোর তেমন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা। অনায়াসে বাংলাদেশের পেসারদের খেলেছেন শ্রীলংকার দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। প্রথম সেশনে দুটি উইকেট পেলেও প্রথমদিনে সবচেয়ে বেশি গড়ে রান দিয়েছেন নাঈম। ম্যাথিউস ধীরে ধীরে রানের গতিও বাড়িয়েছেন। ৮১তম ওভারে শরীফুলকে দারুণ এক ফ্লিক করে বাউন্ডারি, তাতেই ১৮৩ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান ম্যাথিউস। তাকে আর আটকাতে পারেনি স্বাগতিকরা। ম্যাথিউস শেষ পর্যন্ত ১১৪* রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। উইকেটে থিতু হওয়ার লড়াইয়ে টিকে গিয়ে ৭৭ বলে ৩৪ রানে দিন শেষ করেছেন চান্দিমাল। সাকিব ১৯ ওভারে সাত মেডেনে এক উইকেট নিয়ে দেন মাত্র ২৭ রান।

পাঁচ বোলারে চার উইকেট

প্রথমদিন শেষে শ্রীলংকা ২৫৮/৪
 জ্যোতির্ময় মণ্ডল, চট্টগ্রাম থেকে 
১৬ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
উইকেট
দুই উইকেট নেওয়া নাঈম হাসানই চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশের সফলতম বোলার -যুগান্তর

ভোরের আলো তখন ফোটার অপেক্ষায়। চট্টগ্রাম শহরে প্রাণচাঞ্চল্য শুরু হয়নি। ক্রিকেটবিশ্বে তার আগেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্রেকিং নিউজ দিয়ে টিভি চ্যানেলগুলো জানাচ্ছে, দুবারের বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সেই শোক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা টেস্ট ম্যাচেও। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলংকা। মাঠে নামার আগে দুদলের খেলোয়াড়রা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সাইমন্ডস স্মরণে। এটা ছিল দিনের শুরুর চিত্র। সাগরিকায় শেষ বিকালে পশ্চিমাকাশে সূর্য রক্তবরণ ধারণ করার আগেই প্রথমদিনের খেলা শেষ। তার সাত ওভার আগেই মোহাম্মদ শরীফুলকে দারুণ এক ফ্লিক করে ক্যারিয়ারের ১২তম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে উল্লাসে মাতেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। দিনশেষে তিনি অপরাজিত ১১৪ রানে। দিনেশ চান্দিমাল অপারিজত ৩৪ রানে। দিনের প্রথম সেশনে নাঈম হাসান দুটি ও শেষ সেশনে তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান একটি করে উইকেট নেন। প্রথমদিন শেষে ওই চার উইকেটে শ্রীলংকার সংগ্রহ ২৫৮ রান। তবুও দিনটা সমানে সমান বলে মনে করছেন স্বাগতিক দলের স্পিন বোলিং কোচ রঙ্গনা হেরাথ।

কয়েকদিন ধরেই চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছে। কালও সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু মেঘ-রোদ্দুরের খেলা হলেও শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি নামেনি। বাংলাদেশ অনেকদিন পর পাঁচ বোলার নিয়ে টেস্ট ম্যাচের একাদশ সাজিয়েছে। সেটা সম্ভব হয়েছে অনিশ্চয়তায় থাকা সাকিব দলে ফেরায়। তবে পাঁচ বোলার নিয়ে প্রথমদিনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিকরা। ফ্লাট উইকেটে দুই পেসার শরীফুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদ কার্যকরী হতে পারেননি। টস হারায় শুরুতেই কিছুটা পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দুটি উইকেট নিয়ে প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের করে ফেলেছিলেন নাঈম হাসান। পেসাররা সাত ওভার বোলিং করার পর বল হাতে নিয়েই লংকান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নেকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন নাঈম। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার তিন ওভার আগে আরেক ওপেনার ওশাদা ফার্নান্দোকেও ফেরান তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচাতে পারেননি এই টপ-অর্ডার ব্যাটার। প্রথম সেশনে দুটি রিভিউ নষ্ট হয় শরীফুল ইসলামের বলে। প্রথম সেশনে ২৪ ওভারে মাত্র ৭৩ রান করতে পারে শ্রীলংকা।

সাকিব প্রথম সেশনে বোলিংয়েই আসেননি। দ্বিতীয় সেশনের ১১ ওভার পার হলে তাকে বোলিংয়ে আনেন মুমিনুল হক। উইকেট দেখে আগেই ঠিক করে ফেলেন কী করতে হবে। নিয়মিত গতির চেয়ে অনেক কম গতিতে বোলিং করেন সাকিব। টানা ১০ ওভারের স্পেলে পাঁচ মেডেনে দেন মাত্র নয় রান। এই সময়ে তাইজুলও খারাপ করেননি। দ্বিতীয় সেশনে রান কম দিলেও উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। তাইজুলের বলে ম্যাথিউসকে একবার আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। ৩৮ রানে থাকা ম্যাথিউস বেঁচে যান রিভিউ নিয়ে। এই সেশনে ৩২ ওভারে তারা তুলতে পারে ৮৫ রান।

চা বিরতির পর প্রথম বলেই মেলে সাফল্য। দ্বিতীয় সেশনে দুর্দান্ত খেলা কুশাল মেন্ডিসকে ৫৪ রানে থামান তাইজুল। ৬৫তম ওভারে আরেক হাফ সেঞ্চুরিয়ান ম্যাথিউসকেও ফেরাতে পারতেন তাইজুল। প্রথম স্লিপে মাহমুদুল হাসান ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। পরের ওভারে অবশ্য সেই মাহমুদুলই আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়েছেন। শেষ সেশনেও সাকিব বোলিং আসেন নয় ওভার পর। দ্বিতীয় বলেই পেয়ে যান সাফল্য। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাট প্যাডে লেগে বল চলে যায় প্রথম স্লিপে। প্রথম স্লিপ থেকে দৌড়ে দারুণ ড্রাইভে ক্যাচ নেন মাহমুদুল। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায় বাংলাদেশ।

১৮৩ রানে চার উইকেট তুলে নিয়ে দিনটা বাংলাদেশের হতে যাচ্ছিল। তবে দিনের বাকিটা সময় শুধুই হতাশায় কেটেছে স্বাগতিক বোলারদের। ম্যাথিউস ও দিনেশ চান্দিমালকে ফেরানোর তেমন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি স্বাগতিকরা। অনায়াসে বাংলাদেশের পেসারদের খেলেছেন শ্রীলংকার দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। প্রথম সেশনে দুটি উইকেট পেলেও প্রথমদিনে সবচেয়ে বেশি গড়ে রান দিয়েছেন নাঈম। ম্যাথিউস ধীরে ধীরে রানের গতিও বাড়িয়েছেন। ৮১তম ওভারে শরীফুলকে দারুণ এক ফ্লিক করে বাউন্ডারি, তাতেই ১৮৩ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান ম্যাথিউস। তাকে আর আটকাতে পারেনি স্বাগতিকরা। ম্যাথিউস শেষ পর্যন্ত ১১৪* রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। উইকেটে থিতু হওয়ার লড়াইয়ে টিকে গিয়ে ৭৭ বলে ৩৪ রানে দিন শেষ করেছেন চান্দিমাল। সাকিব ১৯ ওভারে সাত মেডেনে এক উইকেট নিয়ে দেন মাত্র ২৭ রান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন