মেয়র পদে ছয় প্রার্থী আ.লীগের বিদ্রোহী আফজলপুত্র ইমরান
jugantor
কুসিক নির্বাচন
মেয়র পদে ছয় প্রার্থী আ.লীগের বিদ্রোহী আফজলপুত্র ইমরান

  কুমিল্লা ব্যুরো  

১৮ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিএনপির দুই নেতা কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিনে সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) হিসাবে আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কুসিক নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ছয়জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৩৮ এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ১২০ জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন স্কুলশিক্ষক জসিম উদ্দিন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তিনি জানান, দলের নেতাকর্মীরা ইমরানকে চান। তাই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ইমরান খান অধ্যক্ষ আফজল খানের বড় ছেলে এবং আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।

মনোনয়নপত্র দাখিল করার বিষয়ে ইমরান খান বলেন, আমি বিদ্রোহী প্রার্থী নই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনের মাঠে থাকব। দলের অনেক নেতাকর্মী, অনুসারী ও সাধারণ জনগণ চাচ্ছে আমি নির্বাচনে থাকি। তাদের অনুরোধে আমাকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর নগরী রীতিমতো একটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন করে আমি বিজয়ী হতে পারলে যানজট, জলাবদ্ধতাসহ নাগরিকদের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেব।

ইমরান খানের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বলেন, আওয়ামী লীগের একজন ছোট কর্মীও যদি দলের মনোনয়নের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করে, এটা ‘স্বতন্ত্র’ নয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসাবেই ধরে নেওয়া হয়। সুতরাং কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতারা দেখবেন। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।

গত দুই নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েও ইমরানের বাবা বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খান এবং ইমরানের বোন আঞ্জুম সুলতানা সীমা বিএনপি নেতা সাক্কুর কাছে পরাজিত হন। এরপর এবার কেন ইমরান নির্বাচন করছেন-এমন প্রশ্নে জসিম উদ্দিন বলেন, এর জবাব দিতে আমি প্রস্তুত নই। উল্লেখ্য, এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত।

মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাক্কুর ভাই অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, মানুষের কথা ভেবে সাক্কু নির্বাচন করছেন। কুমিল্লার মানুষের জন্য ১০ বছর তিনি কী করেছেন তা মানুষ জানেন। এ নির্বাচনে মানুষ এসবের প্রতিদান দেবেন। দলের প্রতি আস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সাক্কু আমৃত্যু একদলই করবেন। তবে মানুষের কথা ভেবে যদি দল ছাড়তে হয় তিনি তাও করবেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, যে কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারে। আমার মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর দলের কাছে অব্যাহতি চাইব। কিন্তু এর আগে আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করলে কিছু করার নেই।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কারণ সদ্য সাবেক মেয়রকে আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবেই দেখি। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি আমার দল ও কুমিল্লার মানুষের আস্থার প্রতি সম্মান রেখে। আমি কোনো একজনের প্রতিদ্বন্দ্বী নই। দলের সিদ্ধান্তের কথা জানতে চাইলে কায়সার আরও বলেন, দল আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেনি। তবে এ নির্বাচনে আমি অংশ না নিলে একটি নিশ্চিত চেয়ার অন্য দলের দখলে চল যাবে। তাই আমি নির্বাচন করছি। এজন্য দল কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা আমি মেনে নেব। কায়সার আরও বলেন, নগরবাসী পরিবর্তন চায়। এখন তারুণ্যের সময়। আমার ভক্ত-অনুসারী ও সাধারণ ভোটারদের অনুরোধে প্রার্থী হয়েছি। আশা করি বিজয়ী হব।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থী : কুসিক নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে যাচ্ছেন। একাধিক প্রার্থী না থাকায় কাগজপত্র ঠিক থাকলে নগরীর ৫নং ওয়ার্ডে সৈয়দ রায়হান আহমেদ এবং ১০নং ওয়ার্ডে মঞ্জুর কাদের মনির বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুসিক নির্বাচন

মেয়র পদে ছয় প্রার্থী আ.লীগের বিদ্রোহী আফজলপুত্র ইমরান

 কুমিল্লা ব্যুরো 
১৮ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিএনপির দুই নেতা কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিনে সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) হিসাবে আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ খান ইমরান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কুসিক নির্বাচনে মেয়র পদে মোট ছয়জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে ৩৮ এবং সাধারণ ওয়ার্ডে ১২০ জন কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

মঙ্গলবার সকালে আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদ পারভেজ খান ইমরানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন স্কুলশিক্ষক জসিম উদ্দিন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তিনি জানান, দলের নেতাকর্মীরা ইমরানকে চান। তাই তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ইমরান খান অধ্যক্ষ আফজল খানের বড় ছেলে এবং আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।

মনোনয়নপত্র দাখিল করার বিষয়ে ইমরান খান বলেন, আমি বিদ্রোহী প্রার্থী নই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনের মাঠে থাকব। দলের অনেক নেতাকর্মী, অনুসারী ও সাধারণ জনগণ চাচ্ছে আমি নির্বাচনে থাকি। তাদের অনুরোধে আমাকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর নগরী রীতিমতো একটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। নির্বাচন করে আমি বিজয়ী হতে পারলে যানজট, জলাবদ্ধতাসহ নাগরিকদের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেব।

ইমরান খানের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বলেন, আওয়ামী লীগের একজন ছোট কর্মীও যদি দলের মনোনয়নের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করে, এটা ‘স্বতন্ত্র’ নয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসাবেই ধরে নেওয়া হয়। সুতরাং কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতারা দেখবেন। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।

গত দুই নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েও ইমরানের বাবা বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খান এবং ইমরানের বোন আঞ্জুম সুলতানা সীমা বিএনপি নেতা সাক্কুর কাছে পরাজিত হন। এরপর এবার কেন ইমরান নির্বাচন করছেন-এমন প্রশ্নে জসিম উদ্দিন বলেন, এর জবাব দিতে আমি প্রস্তুত নই। উল্লেখ্য, এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত।

মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাক্কুর ভাই অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, মানুষের কথা ভেবে সাক্কু নির্বাচন করছেন। কুমিল্লার মানুষের জন্য ১০ বছর তিনি কী করেছেন তা মানুষ জানেন। এ নির্বাচনে মানুষ এসবের প্রতিদান দেবেন। দলের প্রতি আস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সাক্কু আমৃত্যু একদলই করবেন। তবে মানুষের কথা ভেবে যদি দল ছাড়তে হয় তিনি তাও করবেন। বিএনপি থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, যে কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারে। আমার মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর দলের কাছে অব্যাহতি চাইব। কিন্তু এর আগে আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করলে কিছু করার নেই।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আমার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কারণ সদ্য সাবেক মেয়রকে আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবেই দেখি। নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি আমার দল ও কুমিল্লার মানুষের আস্থার প্রতি সম্মান রেখে। আমি কোনো একজনের প্রতিদ্বন্দ্বী নই। দলের সিদ্ধান্তের কথা জানতে চাইলে কায়সার আরও বলেন, দল আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেনি। তবে এ নির্বাচনে আমি অংশ না নিলে একটি নিশ্চিত চেয়ার অন্য দলের দখলে চল যাবে। তাই আমি নির্বাচন করছি। এজন্য দল কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা আমি মেনে নেব। কায়সার আরও বলেন, নগরবাসী পরিবর্তন চায়। এখন তারুণ্যের সময়। আমার ভক্ত-অনুসারী ও সাধারণ ভোটারদের অনুরোধে প্রার্থী হয়েছি। আশা করি বিজয়ী হব।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থী : কুসিক নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে যাচ্ছেন। একাধিক প্রার্থী না থাকায় কাগজপত্র ঠিক থাকলে নগরীর ৫নং ওয়ার্ডে সৈয়দ রায়হান আহমেদ এবং ১০নং ওয়ার্ডে মঞ্জুর কাদের মনির বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন