রিজার্ভের তুলনায় বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে বেশি
jugantor
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
রিজার্ভের তুলনায় বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে বেশি
এফডিআই বেড়েছে ১৫ শতাংশ * মাথাপিছু ঋণ ১শ ডলার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক বছরের ব্যবধানে দেশের রিজার্ভের অনুপাতে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে বেশি হারে। একই সঙ্গে মাথাপিছু ঋণও বেড়েছে ১০০ ডলার বা ৮ হাজার ৮৮০ টাকার বেশি।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণ কমলেও স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে। বৈদেশিক ঋণের স্ফীতি বেড়ে ৯ হাজার ৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এদিকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

বুধবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতি ছয় মাস পরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক ঋণ ও বিনিয়োগবিষয়ক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলোচ্য প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

সূত্র জানায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৪ হাজার ১৯০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে বৈদেশিক ঋণের স্ফীতি ৯ হাজার ৮০ কোটি ডলার। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার দ্বিগুণের বেশি। ২০২০ সালে মোট ঋণের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৫৯ শতাংশ। ২০২১ সালে তা ৮ শতাংশ কমে ৫১ শতাংশ হয়েছে। আলোচ্য সময়ে বৈদেশিক ঋণ বাড়া ও রিজার্ভ কমার কারণে ঋণে অনুপাতে রিজার্ভ কমেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১০০ ডলারের বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮ হাজার ৮৮০ টাকা। ২০২০ সালে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ ছিল ৪৩৫ ডলারের বেশি। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৬ ডলারের বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে ঋণের হার বেশি বাড়ায় মাথাপিছু ঋণ বেড়েছে।

২০২০ সালে মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৭ হাজার ২৯৪ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৭৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের ঋণ ২০২০ সালে ছিল ১ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলার। গত বছর তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩০৮ কোটি ডলার। সরকারি খাতের ঋণ ৫ হাজার ৮১৮ কোটি ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৭৭২ কোটি ডলার।

মোট ঋণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৭ হাজার ২৭১ কোটি ডলার। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ৭৬১ কোটি ডলার ও সরকারি খাতে ৬ হাজার ৫০৯ কোটি ডলার। মোট স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১ হাজার ৮০৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি ডলার ও সরকারি খাতে ২৬২ কোটি ডলার। মোট বৈদেশিক ঋণের ২৫ শতাংশ বেসরকারি খাতে ও সরকারি খাতে ৭৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৮৫ শতাংশ থেকে কমে ৮০ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশ হয়েছে।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা স্বল্পমেয়াদি ঋণ বাড়াকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। কেননা স্বল্পমেয়াদি ঋণ দ্রুত পরিশোধ করতে হয়। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করে। বর্তমানে ডলার সংকটের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ ২০ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। যদিও সরকারি খাতের ঋণ ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ শতাংশ হয়েছে। তবে পরিমাণে বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা, বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়াকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে। কেননা বেসরকারি খাত কোনো কারণে খেলাপি হলে ঘুরেফিরে এর দায় সরকারের ওপরই চাপবে। অর্থাৎ দেশের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে নেওয়া বেশ কিছু বৈদেশিক ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে দেশের মোট জিডিপির সাড়ে ১৯ শতাংশ ছিল বৈদেশিক ঋণ। এখন তা বেড়ে ২২ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। নিট হিসাবে বেড়েছে ১৩ শতাংশ। তবে ২০১৯ সালের তুলনায় কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। ২০২০ সালে বিনিয়োগ এসেছিল ৩৩৮ কোটি ডলার। ২০২১ সালে এসেছে ৩৮৮ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

রিজার্ভের তুলনায় বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে বেশি

এফডিআই বেড়েছে ১৫ শতাংশ * মাথাপিছু ঋণ ১শ ডলার
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক বছরের ব্যবধানে দেশের রিজার্ভের অনুপাতে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে বেশি হারে। একই সঙ্গে মাথাপিছু ঋণও বেড়েছে ১০০ ডলার বা ৮ হাজার ৮৮০ টাকার বেশি।

দীর্ঘমেয়াদি ঋণ কমলেও স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেড়েছে। বৈদেশিক ঋণের স্ফীতি বেড়ে ৯ হাজার ৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এদিকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

বুধবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতি ছয় মাস পরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক ঋণ ও বিনিয়োগবিষয়ক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলোচ্য প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

সূত্র জানায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৪ হাজার ১৯০ কোটি ডলার। এর বিপরীতে বৈদেশিক ঋণের স্ফীতি ৯ হাজার ৮০ কোটি ডলার। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার দ্বিগুণের বেশি। ২০২০ সালে মোট ঋণের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৫৯ শতাংশ। ২০২১ সালে তা ৮ শতাংশ কমে ৫১ শতাংশ হয়েছে। আলোচ্য সময়ে বৈদেশিক ঋণ বাড়া ও রিজার্ভ কমার কারণে ঋণে অনুপাতে রিজার্ভ কমেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরের ব্যবধানে দেশের মানুষের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১০০ ডলারের বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৮ হাজার ৮৮০ টাকা। ২০২০ সালে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ ছিল ৪৩৫ ডলারের বেশি। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩৬ ডলারের বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে ঋণের হার বেশি বাড়ায় মাথাপিছু ঋণ বেড়েছে।

২০২০ সালে মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৭ হাজার ২৯৪ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৭৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের ঋণ ২০২০ সালে ছিল ১ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলার। গত বছর তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩০৮ কোটি ডলার। সরকারি খাতের ঋণ ৫ হাজার ৮১৮ কোটি ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৭৭২ কোটি ডলার।

মোট ঋণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৭ হাজার ২৭১ কোটি ডলার। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ৭৬১ কোটি ডলার ও সরকারি খাতে ৬ হাজার ৫০৯ কোটি ডলার। মোট স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১ হাজার ৮০৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি ডলার ও সরকারি খাতে ২৬২ কোটি ডলার। মোট বৈদেশিক ঋণের ২৫ শতাংশ বেসরকারি খাতে ও সরকারি খাতে ৭৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৮৫ শতাংশ থেকে কমে ৮০ শতাংশ হয়েছে। কিন্তু স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০ শতাংশ হয়েছে।

দেশের শীর্ষ স্থানীয় অর্থনীতিবিদরা স্বল্পমেয়াদি ঋণ বাড়াকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। কেননা স্বল্পমেয়াদি ঋণ দ্রুত পরিশোধ করতে হয়। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করে। বর্তমানে ডলার সংকটের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচ্য সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণ ২০ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। যদিও সরকারি খাতের ঋণ ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ শতাংশ হয়েছে। তবে পরিমাণে বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা, বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়াকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে। কেননা বেসরকারি খাত কোনো কারণে খেলাপি হলে ঘুরেফিরে এর দায় সরকারের ওপরই চাপবে। অর্থাৎ দেশের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি খাতে নেওয়া বেশ কিছু বৈদেশিক ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে দেশের মোট জিডিপির সাড়ে ১৯ শতাংশ ছিল বৈদেশিক ঋণ। এখন তা বেড়ে ২২ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। নিট হিসাবে বেড়েছে ১৩ শতাংশ। তবে ২০১৯ সালের তুলনায় কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। ২০২০ সালে বিনিয়োগ এসেছিল ৩৩৮ কোটি ডলার। ২০২১ সালে এসেছে ৩৮৮ কোটি ডলার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন