নেত্রকোনায় গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল
jugantor
পিটিয়ে ক্ষতস্থানে ছিটানো হয় মরিচের গুঁড়া
নেত্রকোনায় গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি  

১৯ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনায় মধ্যযুগীয় কায়দায় এক গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পর ক্ষতস্থানে দেওয়া হয় মরিচের গুঁড়া।

জ্বালা সইতে না পেরে গৃহবধূ পুকুরে ঝাঁপ দেন। এরপর পুকুরে নেমে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পেটায় স্বামী। নির্যাতনকারীর (স্বামী) নাম রাজন মিয়া ওরফে রফিকুল ইসলাম। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের ঝগড়াকান্দা গ্রামের মৃত লালচান মিয়ার ছেলে। আর গৃহবধূর নাম শিউলি আক্তার (১৯)।

তিনি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরশিহারি গ্রামের রিকশাচালক সাইদুল ইসলামের মেয়ে। নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের ঝগড়াকান্দা গ্রামে ১৩ মে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে।

পরদিন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জে রেখে আসার সময় গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে রাজন মিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রোববার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রফিকুল ইসলামকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠিনো হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে শিউলি আক্তারের সঙ্গে রাজনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় রাজনকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেন শিউলির রিকশাচালক বাবা। গত রমজানের আগে থেকে আবারও যৌতুক চেয়ে শিউলির ওপর নির্যাতন শুরু করেন রাজন। কিছুদিন আগে শিউলির বাবা একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন জামাতা রাজনকে। এরপর ২০ হাজার টাকা ও ঘরের আসবাবপত্র হিসাবে যৌতুক চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন শিউলির বাবা। এ কারণে প্রায়ই শিউলির ওপর নির্যাতন চলত। ঘটনার দিন শিউলিকে স্বামী রাজন, শাশুড়ি জরিনা খাতুন ও জা (রাজনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী) রুমা আক্তার মিলে মারধর করেন। একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পানি খেতে চাইলে শিউলিকে মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পানি দেওয়া হয়। সেই পানি খেয়ে যন্ত্রণায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় হামাগুড়ি দিয়ে বাড়ির সামনে পুকুরে ঝাঁপ দেন শিউলি। পানিতে থাকা অবস্থায় পেটানো হয় শিউলকে। নির্যাতনের পুরো ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নেত্রকোনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তাহেজা বেগম জানান, মধ্যযুগীয় কায়দায় শিউলিকে নির্যাতন করা হয়েছে। নারীরা যুগ যুগ নির্যাতিত হয়ে আসছে। ঘটনার ভিডিও না থাকলে হয়তো কেউ বিশ্বাস করত না। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলার পর রাজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

পিটিয়ে ক্ষতস্থানে ছিটানো হয় মরিচের গুঁড়া

নেত্রকোনায় গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

 নেত্রকোনা প্রতিনিধি 
১৯ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রকোনায় মধ্যযুগীয় কায়দায় এক গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পর ক্ষতস্থানে দেওয়া হয় মরিচের গুঁড়া।

জ্বালা সইতে না পেরে গৃহবধূ পুকুরে ঝাঁপ দেন। এরপর পুকুরে নেমে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পেটায় স্বামী। নির্যাতনকারীর (স্বামী) নাম রাজন মিয়া ওরফে রফিকুল ইসলাম। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের ঝগড়াকান্দা গ্রামের মৃত লালচান মিয়ার ছেলে। আর গৃহবধূর নাম শিউলি আক্তার (১৯)।

তিনি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরশিহারি গ্রামের রিকশাচালক সাইদুল ইসলামের মেয়ে। নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের ঝগড়াকান্দা গ্রামে ১৩ মে নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে।

পরদিন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জে রেখে আসার সময় গৃহবধূর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে রাজন মিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। রোববার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রফিকুল ইসলামকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠিনো হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে শিউলি আক্তারের সঙ্গে রাজনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় রাজনকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেন শিউলির রিকশাচালক বাবা। গত রমজানের আগে থেকে আবারও যৌতুক চেয়ে শিউলির ওপর নির্যাতন শুরু করেন রাজন। কিছুদিন আগে শিউলির বাবা একটি মোবাইল ফোন কিনে দেন জামাতা রাজনকে। এরপর ২০ হাজার টাকা ও ঘরের আসবাবপত্র হিসাবে যৌতুক চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন শিউলির বাবা। এ কারণে প্রায়ই শিউলির ওপর নির্যাতন চলত। ঘটনার দিন শিউলিকে স্বামী রাজন, শাশুড়ি জরিনা খাতুন ও জা (রাজনের বড় ভাইয়ের স্ত্রী) রুমা আক্তার মিলে মারধর করেন। একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পানি খেতে চাইলে শিউলিকে মরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পানি দেওয়া হয়। সেই পানি খেয়ে যন্ত্রণায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় হামাগুড়ি দিয়ে বাড়ির সামনে পুকুরে ঝাঁপ দেন শিউলি। পানিতে থাকা অবস্থায় পেটানো হয় শিউলকে। নির্যাতনের পুরো ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নেত্রকোনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তাহেজা বেগম জানান, মধ্যযুগীয় কায়দায় শিউলিকে নির্যাতন করা হয়েছে। নারীরা যুগ যুগ নির্যাতিত হয়ে আসছে। ঘটনার ভিডিও না থাকলে হয়তো কেউ বিশ্বাস করত না। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মামলার পর রাজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন