জুনের শেষ সপ্তাহে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব
jugantor
জুনের শেষ সপ্তাহে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু জুন মাসের শেষ সপ্তাহে উদ্বোধন হবে। তবে উদ্বোধনের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন। আর সেতুর নাম পদ্মা সেতুই থাকছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেতু জুন মাসের শেষে উদ্বোধন হচ্ছে, এটা তিনি বলে দিয়েছেন। আর সেতুর নাম পদ্মা সেতুই হবে। এটিও প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ক্লিয়ার করবেন।

সেতুর টোলের বিষয়ে তিনি বলেন, টোল বেশি ধরা হয়নি। সাধারণ প্র্যাকটিস হচ্ছে, ফেরির চেয়ে ব্রিজের টোল দেড় গুণ হয়। আর বঙ্গবন্ধু ব্রিজ হলো প্রায় ৫ কিলোমিটার, পদ্মা সেতু হলো ৯ দশমিক ৮৬ (সংযোগ সড়কসহ)। অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ।

তিনি আরও বলেন, ধারণা ছিল পদ্মা সেতু ১ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি আনবে। এটা ২ এর কাছাকাছি চলে যাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে। ফিজিবিলিটি স্টাডিতে যেমন ছিল যে, ২৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে টাকাটা (পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়) উঠে আসবে। এখন মনে হচ্ছে ১৬-১৭ বছরের মধ্যেই টাকা উঠে আসবে। ওই পাড়ের যেসব কাজকর্ম এবং যেগুলো আছে সেগুলো ফিজিবিলিটি স্টাডিতে আসেনি। মোংলা পোর্ট যে এত স্ট্রং হবে, পায়রা বন্দর হবে, এত শিল্পায়ন হবে- এগুলো কিন্তু আসেনি।

বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দ্রব্যের দাম কেন বেড়ে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে কী করতে হবে, কীভাবে দাম কমানো যাবে-এসব বিষয় নিয়ে পুরোপুরি একটা সামারি করে দিতে বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় কী করণীয় সেটার বিষয় নিয়েও কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে দুই মন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দ্রব্যের দামের সার্বিক বিষয় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে একটা পরিকল্পনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লাক্সারি পণ্য আমদানি না করার বিষয়ে পরিকল্পনা করারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ডলারের দাম বাড়ার বিষয়ে কী করা যায়, সেটা নিয়েও কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বৈঠকে ‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, ‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, ‘ভূমি সংস্কার আইন, ২০২২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি, বাংলাদেশ-২০২২’-এর খসড়া অনুমোদন, গত ৭ হতে ১২ মার্চ-২০২২ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ এবং গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হতে ১ মার্চ-২০২২ মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল কর্তৃক কমিশন ওয়ান দ্য লিমিটস অব দ্য কন্টিনেন্টাল সেল্ফ (সিএলসিএস)-এর ৫৪তম অধিবেশনে বাংলাদেশ কর্তৃক মহীসোপানের অ্যামেন্ডমেন্ট সাবমিশন উপস্থাপন সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।

হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইনের খসড়া সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো হাটবাজার বসানো যাবে না। স্থানীয় হাট-বাজারের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে। কেউ যদি সরকারের অনুমতি ছাড়া হাটবাজার বসায় তাহলে সেটা সরকার খাস জমি হিসাবে নিয়ে নেবে। এছাড়া ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুনের শেষ সপ্তাহে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু জুন মাসের শেষ সপ্তাহে উদ্বোধন হবে। তবে উদ্বোধনের তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে আগামী ৫-৬ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন। আর সেতুর নাম পদ্মা সেতুই থাকছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেতু জুন মাসের শেষে উদ্বোধন হচ্ছে, এটা তিনি বলে দিয়েছেন। আর সেতুর নাম পদ্মা সেতুই হবে। এটিও প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় ক্লিয়ার করবেন।

সেতুর টোলের বিষয়ে তিনি বলেন, টোল বেশি ধরা হয়নি। সাধারণ প্র্যাকটিস হচ্ছে, ফেরির চেয়ে ব্রিজের টোল দেড় গুণ হয়। আর বঙ্গবন্ধু ব্রিজ হলো প্রায় ৫ কিলোমিটার, পদ্মা সেতু হলো ৯ দশমিক ৮৬ (সংযোগ সড়কসহ)। অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ।

তিনি আরও বলেন, ধারণা ছিল পদ্মা সেতু ১ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি আনবে। এটা ২ এর কাছাকাছি চলে যাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে। ফিজিবিলিটি স্টাডিতে যেমন ছিল যে, ২৪ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে টাকাটা (পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়) উঠে আসবে। এখন মনে হচ্ছে ১৬-১৭ বছরের মধ্যেই টাকা উঠে আসবে। ওই পাড়ের যেসব কাজকর্ম এবং যেগুলো আছে সেগুলো ফিজিবিলিটি স্টাডিতে আসেনি। মোংলা পোর্ট যে এত স্ট্রং হবে, পায়রা বন্দর হবে, এত শিল্পায়ন হবে- এগুলো কিন্তু আসেনি।

বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দ্রব্যের দাম কেন বেড়ে যাচ্ছে, সে ক্ষেত্রে কী করতে হবে, কীভাবে দাম কমানো যাবে-এসব বিষয় নিয়ে পুরোপুরি একটা সামারি করে দিতে বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় কী করণীয় সেটার বিষয় নিয়েও কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে দুই মন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দ্রব্যের দামের সার্বিক বিষয় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে একটা পরিকল্পনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লাক্সারি পণ্য আমদানি না করার বিষয়ে পরিকল্পনা করারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ডলারের দাম বাড়ার বিষয়ে কী করা যায়, সেটা নিয়েও কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বৈঠকে ‘হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, ‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, ‘ভূমি সংস্কার আইন, ২০২২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন, ‘জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতি, বাংলাদেশ-২০২২’-এর খসড়া অনুমোদন, গত ৭ হতে ১২ মার্চ-২০২২ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ এবং গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হতে ১ মার্চ-২০২২ মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল কর্তৃক কমিশন ওয়ান দ্য লিমিটস অব দ্য কন্টিনেন্টাল সেল্ফ (সিএলসিএস)-এর ৫৪তম অধিবেশনে বাংলাদেশ কর্তৃক মহীসোপানের অ্যামেন্ডমেন্ট সাবমিশন উপস্থাপন সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।

হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইনের খসড়া সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো হাটবাজার বসানো যাবে না। স্থানীয় হাট-বাজারের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে। কেউ যদি সরকারের অনুমতি ছাড়া হাটবাজার বসায় তাহলে সেটা সরকার খাস জমি হিসাবে নিয়ে নেবে। এছাড়া ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন