প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচ্ছন্নভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি : ফখরুল
jugantor
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচ্ছন্নভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি : ফখরুল

  নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  

২০ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অশালীন ও অরাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এ বক্তব্য প্রচ্ছন্নভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি। আমরা যারা রাজনীতি করি, রাজনীতি নিয়ে ভাবি, রাজনৈতিক চিন্তা করি-তারা কল্পনাও করতে পারি না একজন প্রধানমন্ত্রী এভাবে বিরোধী দলের নেত্রীকে হুমকি দিতে পারেন। বৃহস্পতিবার নীলফামারীর সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি আয়োজিত এক কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেভাবেই আসুন না কেন তিনি (শেখ হাসিনা) দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এমন বক্তব্য দিতে পারেন না। এছাড়া পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কূটনৈতিক ব্যক্তি, যিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ড. ইউনূস, তাকেও প্রধানমন্ত্রী পদ্মায় চুবানোর কথা বলেছেন। সেতু থেকে ফেলে দেওয়া-এটা কখনোই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। কি ভয়ংকর মানসিকতার হলে এমন কথা বলতে পারেন। তার এ বক্তব্যে আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। প্রচণ্ডভাবে এমন বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশ আজ ডুবতে বসেছে। বিদ্যুতের দাম ৫৮ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাদের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ডলারের মূল্য ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কমে গেছে রিজার্ভ। আমরা আশঙ্কা করছি আমাদের অবস্থা শ্রীলংকার মতো হচ্ছে কিনা।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই লুটপাট শুরু করায় দেশের বারোটা বেজেছে। তারা জনগণের কণ্ঠরোধ করতে একের পর এক গণবিরোধী আইন করেছে। ফলে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা আর নেই।

তিনি বলেন, সারা দেশে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। যাদের কোনো খোঁজ আজও মেলেনি। হত্যা করা হয়েছে শত শত নেতাকর্মীকে। বিনা অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে। তাই এ অগণতান্ত্রিক সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে সব নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। বিএনপি নেতা শওকত হায়াত শাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহীন আকতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বিএনপি নেতা জিয়াউল হক জিয়া, কাজী একরামুল হক, শামসুল আলম প্রমুখ। সমাবেশে রংপুর, সৈয়দপুর জেলা বিএনপিসহ যুবদল, ছাত্রদল, তাঁতী দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দলসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সৈয়দপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সদ্যপ্রয়াত রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বিপুর স্ত্রী ও তার সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাদের সান্ত্বনা দেওয়াসহ দলের নেতাকর্মীরা তার পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রয়াত নেতা বিপুর স্ত্রীর হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন। এ সময় রংপুর জেলা বিএনপির নেতা সাইফুল ইসলাম, আনিসুর রহমান লাকু, সামসুজ্জামান সামু প্রমুখ তার সঙ্গে ছিলেন।

এদিন বিকালে ঠাঁকুরগাঁওয়ে বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, পদ্মা সেতু কারও বাবার টাকায় তৈরি হয়নি। দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে। এখানেও তারা লুটপাট করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তো নির্বাচন লুট করে নিয়ে যায়। বিদেশিদের সঙ্গে তারাই যোগাযোগ করে। বিএনপিকে ভোটে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়েছে। আমরা বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করি না, তারাই যোগাযোগ করে। তার অনেক প্রমাণ রয়েছে।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল জব্বার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহদাৎ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রচ্ছন্নভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি : ফখরুল

 নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 
২০ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অশালীন ও অরাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এ বক্তব্য প্রচ্ছন্নভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি। আমরা যারা রাজনীতি করি, রাজনীতি নিয়ে ভাবি, রাজনৈতিক চিন্তা করি-তারা কল্পনাও করতে পারি না একজন প্রধানমন্ত্রী এভাবে বিরোধী দলের নেত্রীকে হুমকি দিতে পারেন। বৃহস্পতিবার নীলফামারীর সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি আয়োজিত এক কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেভাবেই আসুন না কেন তিনি (শেখ হাসিনা) দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এমন বক্তব্য দিতে পারেন না। এছাড়া পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কূটনৈতিক ব্যক্তি, যিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ড. ইউনূস, তাকেও প্রধানমন্ত্রী পদ্মায় চুবানোর কথা বলেছেন। সেতু থেকে ফেলে দেওয়া-এটা কখনোই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। কি ভয়ংকর মানসিকতার হলে এমন কথা বলতে পারেন। তার এ বক্তব্যে আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। প্রচণ্ডভাবে এমন বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশ আজ ডুবতে বসেছে। বিদ্যুতের দাম ৫৮ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের লুটপাটের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তাদের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ডলারের মূল্য ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কমে গেছে রিজার্ভ। আমরা আশঙ্কা করছি আমাদের অবস্থা শ্রীলংকার মতো হচ্ছে কিনা।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই লুটপাট শুরু করায় দেশের বারোটা বেজেছে। তারা জনগণের কণ্ঠরোধ করতে একের পর এক গণবিরোধী আইন করেছে। ফলে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা আর নেই।

তিনি বলেন, সারা দেশে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। যাদের কোনো খোঁজ আজও মেলেনি। হত্যা করা হয়েছে শত শত নেতাকর্মীকে। বিনা অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে। তাই এ অগণতান্ত্রিক সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে সব নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার। বিএনপি নেতা শওকত হায়াত শাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহীন আকতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, বিএনপি নেতা জিয়াউল হক জিয়া, কাজী একরামুল হক, শামসুল আলম প্রমুখ। সমাবেশে রংপুর, সৈয়দপুর জেলা বিএনপিসহ যুবদল, ছাত্রদল, তাঁতী দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দলসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সৈয়দপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সদ্যপ্রয়াত রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বিপুর স্ত্রী ও তার সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাদের সান্ত্বনা দেওয়াসহ দলের নেতাকর্মীরা তার পরিবারের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে প্রয়াত নেতা বিপুর স্ত্রীর হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন। এ সময় রংপুর জেলা বিএনপির নেতা সাইফুল ইসলাম, আনিসুর রহমান লাকু, সামসুজ্জামান সামু প্রমুখ তার সঙ্গে ছিলেন।

এদিন বিকালে ঠাঁকুরগাঁওয়ে বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, পদ্মা সেতু কারও বাবার টাকায় তৈরি হয়নি। দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে। এখানেও তারা লুটপাট করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তো নির্বাচন লুট করে নিয়ে যায়। বিদেশিদের সঙ্গে তারাই যোগাযোগ করে। বিএনপিকে ভোটে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সাহায্য চেয়েছে। আমরা বিদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করি না, তারাই যোগাযোগ করে। তার অনেক প্রমাণ রয়েছে।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল জব্বার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহদাৎ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন