মহানগর ছাত্রলীগ সম্পাদক জোবায়ের গ্রেফতার
jugantor
ঢাকায় র‌্যাবের অভিযানে বাধা
মহানগর ছাত্রলীগ সম্পাদক জোবায়ের গ্রেফতার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২০ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় বুধবার রাত ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে গ্রেফতার করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সাঈদীসহ কয়েকজনের চাঁদাবাজি করার খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। গ্রেফতারের পর তাকে নিয়ে র‌্যাবের আভিযানিক দল রাস্তায় বের হলে ছাত্রলীগের বাধা সম্মুখীন হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহাম্মেদের নেতৃত্বে ১৫০-২০০ জন সাঈদীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। র‌্যাব সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা করা হয়। এ কারণে জোবায়েরকেও র‌্যাব গ্রেফতার করে। জোবায়ের ও সাঈদীর বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিইও) লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল মাদারটেক-সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সাঈদীকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫৭৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির কথা সাঈদী স্বীকার করেছেন। এছাড়া সহযোগীদের নিয়ে তিনি সশস্ত্র মহড়া দিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিলেন।

লে. কর্নেল আরিফ জানান, অভিযান শেষে গ্রেফতার সাঈদীকে নিয়ে র‌্যাবের আভিযানিক দল রাস্তায় বের হলে জোবায়েরের নেতৃত্বে ১৫০-২০০ জন তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। র‌্যাবের আভিযানিক দলের ওপর তারা সশস্ত্র হামলা করে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় জোবায়েরকে উত্তর মাদারটেক থেকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এ সময় আহত র‌্যাব সদস্যদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সবুজবাগ জোনের সহকারী কমিশনার মনতোষ বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাঈদীর বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক মামলা হয়েছে। আর জোবায়েরের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদানের জন্য মামলা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, ভোররাতে র‌্যাব সাঈদীকে গ্রেফতার করতে গেলে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়। পরে র‌্যাবের সঙ্গে পুলিশ যুক্ত হলে তারা পিছু হটেন।

সাঈদীর সম্পর্কে জানা গেছে, এক সময় সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন সাঈদী। ‘চাঁদাবাজি, মাদক সম্পৃক্ততা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ কারণে ২০১৯ সালে তাকে ওই পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২০২১ সালের মাঝামাঝি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে সাঈদীকে মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতির পদ দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠিটি দেখা যায়। তখন থেকেই সাঈদী সহসভাপতি পরিচয়ে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাঈদী সহ-সভাপতি হয়েছেন- গত সেপ্টেম্বরে এমন একটি চিঠি ফেসবুকে দেখে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে জানিয়েছেন। কীভাবে সাঈদী দলীয় পরিচয় দেন সেটা আমার জানা নেই। তবে এক সময় তিনি সবুজবাগ থানার নেতা ছিলেন। তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

ঢাকায় র‌্যাবের অভিযানে বাধা

মহানগর ছাত্রলীগ সম্পাদক জোবায়ের গ্রেফতার

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২০ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় বুধবার রাত ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে গ্রেফতার করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সাঈদীসহ কয়েকজনের চাঁদাবাজি করার খবর পেয়ে র‌্যাব অভিযান চালায়। গ্রেফতারের পর তাকে নিয়ে র‌্যাবের আভিযানিক দল রাস্তায় বের হলে ছাত্রলীগের বাধা সম্মুখীন হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহাম্মেদের নেতৃত্বে ১৫০-২০০ জন সাঈদীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। র‌্যাব সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা করা হয়। এ কারণে জোবায়েরকেও র‌্যাব গ্রেফতার করে। জোবায়ের ও সাঈদীর বিরুদ্ধে সবুজবাগ থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিইও) লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল মাদারটেক-সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে সাঈদীকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি ও ৫৭৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির কথা সাঈদী স্বীকার করেছেন। এছাড়া সহযোগীদের নিয়ে তিনি সশস্ত্র মহড়া দিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিলেন।

লে. কর্নেল আরিফ জানান, অভিযান শেষে গ্রেফতার সাঈদীকে নিয়ে র‌্যাবের আভিযানিক দল রাস্তায় বের হলে জোবায়েরের নেতৃত্বে ১৫০-২০০ জন তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। র‌্যাবের আভিযানিক দলের ওপর তারা সশস্ত্র হামলা করে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় জোবায়েরকে উত্তর মাদারটেক থেকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এ সময় আহত র‌্যাব সদস্যদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সবুজবাগ জোনের সহকারী কমিশনার মনতোষ বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাঈদীর বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক মামলা হয়েছে। আর জোবায়েরের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদানের জন্য মামলা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, ভোররাতে র‌্যাব সাঈদীকে গ্রেফতার করতে গেলে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাবের গাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়। পরে র‌্যাবের সঙ্গে পুলিশ যুক্ত হলে তারা পিছু হটেন।

সাঈদীর সম্পর্কে জানা গেছে, এক সময় সবুজবাগ থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন সাঈদী। ‘চাঁদাবাজি, মাদক সম্পৃক্ততা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ কারণে ২০১৯ সালে তাকে ওই পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২০২১ সালের মাঝামাঝি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠিতে সাঈদীকে মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতির পদ দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠিটি দেখা যায়। তখন থেকেই সাঈদী সহসভাপতি পরিচয়ে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাঈদী সহ-সভাপতি হয়েছেন- গত সেপ্টেম্বরে এমন একটি চিঠি ফেসবুকে দেখে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে জানিয়েছেন। কীভাবে সাঈদী দলীয় পরিচয় দেন সেটা আমার জানা নেই। তবে এক সময় তিনি সবুজবাগ থানার নেতা ছিলেন। তাকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন