ল্যাংড়া-লুলা কমিটির দিকে আর তাকিয়ে থাকব না
jugantor
পদবঞ্চিত বিএনপি নেতারা
ল্যাংড়া-লুলা কমিটির দিকে আর তাকিয়ে থাকব না

  বরিশাল ব্যুরো  

২২ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল নগর বিএনপির নতুন নেতৃত্বকে ল্যাংড়া-লুলা আখ্যায়িত করেছেন পদবঞ্চিতরা। ঈদ পুনর্মিলনী সভা থেকে তারা কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এমন মন্তব্য করেন। শুক্রবার রাতে নগরীর অভিজাত কমিউনিটি সেন্টার ‘পার্টি হাইজ’ পুনর্মিলনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএনপির পদবঞ্চিত নেতারা বলেন, ল্যাংড়া-লুলা কমিটির দিকে আমরা আর তাকিয়ে থাকব না। সভায় বড় ধরনের কর্মী জমায়েত করা হয়।

সভায় পদবঞ্চিতরা অভিযোগ করেন, বরিশাল নগর আহ্বায়ক কমিটিতে কোনো শৃঙ্খলা নেই। শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায় কমিটির সদস্যরা ইফতারের নামে চাঁদাবাজি করেছেন। চাঁদাবাজিতে তারা রেকর্ডও করেছেন। আগামী দিনে দলের আন্দোলন কর্মসূচি আলাদাভাবে করারও ঘোষণা দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। নতুন কমিটিকে অকার্যকর দাবি করে এর বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য তারা আহ্বান জানান। এ সময় ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দলের নেতাকর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

সভায় মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ আহসানুল কবির হাসান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু বলেন, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নতুন কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে চলবে না। ল্যাংড়া-লুলা কমিটির দিকে আমরা আর তাকিয়ে থাকব না। নিশিরাতের ভোট ঠেকাতে রাজপথে থাকতে হবে। সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আকবর বলেন, বিএনপির বিগত দুঃসময়ে দুজন একসঙ্গে যখন চলা যায়নি তখন এ দলকে ধরে রেখেছি। ১৫ বছর ধরে যারা দলের খবর রাখেননি তাদের এখন নেতৃত্ব আনা হয়েছে। ইফতারির নামে চাঁদাবাজি করে তারা রেকর্ড করেছেন। বরং সভা-সমাবেশে এখন কর্মীরা অংশ নেন না। সাবেক সহসম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, নতুন কমিটির কেউ কেউ নাকি বলেন-আমরা নাকি বিএনপির কেউ নই। আরে আমরা বরিশালে বিএনপির জন্ম দিয়েছি। আমরা কারও ফলোয়ার না, আমরা তারেক রহমানের ফলোয়ার। সভায় উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহিদ, আব্বাস উদ্দিন বাবলা, সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ নোমান, প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহিন, যুবদল নেতা আলাউদ্দিন, শ্রমিক দল নেতা রফিক আকন, মহিলা দল নেত্রী তাছলিমা কালাম পলি প্রমুখ।

এদিকে, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেছেন-চেয়ারম্যান নতুন নেতৃত্বের কাজের তদারকি করছেন। তার দেওয়া কমিটিকে এমনভাবে কটাক্ষ করা সমীচীন নয়। তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে তারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের আমরা স্বাগত জানাব। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি পরিচিত নন। দীর্ঘদিন নগর বিএনপির সম্পাদক থাকাকালে এ ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ কখনো আসেনি। যারা এ ধরনের অভিযোগ করেছেন তাদের কাছে প্রমাণ থাকলে হাইকমান্ডের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির বলেন, বরিশালবাসী দেখছে কমিটি ল্যাংড়া-লুলা কিনা। দলের প্রতি কমিটমেন্ট থাকলে তারা এ ধরনের কথা বলতে পারতেন না। পারলে তারা শক্তিশালী কমিটি নিয়ে আসুক। তিনি আরও বলেন, ইফতারিকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। বরং বড় ইফতার পার্টির আয়োজন দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচার করছেন।

পদবঞ্চিত বিএনপি নেতারা

ল্যাংড়া-লুলা কমিটির দিকে আর তাকিয়ে থাকব না

 বরিশাল ব্যুরো 
২২ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল নগর বিএনপির নতুন নেতৃত্বকে ল্যাংড়া-লুলা আখ্যায়িত করেছেন পদবঞ্চিতরা। ঈদ পুনর্মিলনী সভা থেকে তারা কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এমন মন্তব্য করেন। শুক্রবার রাতে নগরীর অভিজাত কমিউনিটি সেন্টার ‘পার্টি হাইজ’ পুনর্মিলনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএনপির পদবঞ্চিত নেতারা বলেন, ল্যাংড়া-লুলা কমিটির দিকে আমরা আর তাকিয়ে থাকব না। সভায় বড় ধরনের কর্মী জমায়েত করা হয়।

সভায় পদবঞ্চিতরা অভিযোগ করেন, বরিশাল নগর আহ্বায়ক কমিটিতে কোনো শৃঙ্খলা নেই। শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায় কমিটির সদস্যরা ইফতারের নামে চাঁদাবাজি করেছেন। চাঁদাবাজিতে তারা রেকর্ডও করেছেন। আগামী দিনে দলের আন্দোলন কর্মসূচি আলাদাভাবে করারও ঘোষণা দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। নতুন কমিটিকে অকার্যকর দাবি করে এর বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য তারা আহ্বান জানান। এ সময় ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মহিলা দলের নেতাকর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

সভায় মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ আহসানুল কবির হাসান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখা যাবে না। সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু বলেন, আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নতুন কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে চলবে না। ল্যাংড়া-লুলা কমিটির দিকে আমরা আর তাকিয়ে থাকব না। নিশিরাতের ভোট ঠেকাতে রাজপথে থাকতে হবে। সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আকবর বলেন, বিএনপির বিগত দুঃসময়ে দুজন একসঙ্গে যখন চলা যায়নি তখন এ দলকে ধরে রেখেছি। ১৫ বছর ধরে যারা দলের খবর রাখেননি তাদের এখন নেতৃত্ব আনা হয়েছে। ইফতারির নামে চাঁদাবাজি করে তারা রেকর্ড করেছেন। বরং সভা-সমাবেশে এখন কর্মীরা অংশ নেন না। সাবেক সহসম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, নতুন কমিটির কেউ কেউ নাকি বলেন-আমরা নাকি বিএনপির কেউ নই। আরে আমরা বরিশালে বিএনপির জন্ম দিয়েছি। আমরা কারও ফলোয়ার না, আমরা তারেক রহমানের ফলোয়ার। সভায় উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহিদ, আব্বাস উদ্দিন বাবলা, সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ নোমান, প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শাহিন, যুবদল নেতা আলাউদ্দিন, শ্রমিক দল নেতা রফিক আকন, মহিলা দল নেত্রী তাছলিমা কালাম পলি প্রমুখ।

এদিকে, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেছেন-চেয়ারম্যান নতুন নেতৃত্বের কাজের তদারকি করছেন। তার দেওয়া কমিটিকে এমনভাবে কটাক্ষ করা সমীচীন নয়। তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে তারা তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের আমরা স্বাগত জানাব। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি পরিচিত নন। দীর্ঘদিন নগর বিএনপির সম্পাদক থাকাকালে এ ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ কখনো আসেনি। যারা এ ধরনের অভিযোগ করেছেন তাদের কাছে প্রমাণ থাকলে হাইকমান্ডের কাছে তুলে ধরতে পারেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির বলেন, বরিশালবাসী দেখছে কমিটি ল্যাংড়া-লুলা কিনা। দলের প্রতি কমিটমেন্ট থাকলে তারা এ ধরনের কথা বলতে পারতেন না। পারলে তারা শক্তিশালী কমিটি নিয়ে আসুক। তিনি আরও বলেন, ইফতারিকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। বরং বড় ইফতার পার্টির আয়োজন দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচার করছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন