কালীগঞ্জে ২ শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি
jugantor
কালীগঞ্জে ২ শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি

  ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ প্রতিনিধি  

২২ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার শিকার দুই শিক্ষক আদালতে মামলা করবেন বলে জানা গেছে। আজ (রোববার) ঝিনাইদহের আদালতে মামলাটি করা হতে পারে। তিন শিক্ষকসহ অন্তত ছয়জনকে আসামি করা হচ্ছে। আইনি বাধা না থাকলে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারকে এক নম্বর আসামি করা হতে পারে। এ খবর নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহাবুবুর রহমান।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। পুলিশের গোয়েন্দারা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, শনিবার দুপুরে সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেছেন। ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বলেন, কলেজের খাতা চুরির ঘটনা নিয়ে একটা ঝামেলা হয়েছে। শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কষ্টে আছেন। এমন খবর শুনে বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে যাই। সেখানে শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। যা হয়েছে সবার সামনেই। সেখানে কোনো উচ্চস্বরে কথাও হয়নি। কাউকে মানসিক বা শারীরিকভাবে আঘাত করার কোনো ঘটনাও ঘটেনি। এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক অবস্থান নষ্ট করার জন্য এগুলো করা হয়েছে।

ঘটনার শিকার শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৭-৮ বস্তা সাদা খাতা কলেজ থেকে চুরি হওয়ায় সম্প্রতি আদালতে মামলা করেছেন কলেজ অধ্যক্ষ। ওই মামলার সাক্ষী আমি। বৃহস্পতিবার কলেজে কাগজপত্রের কাজ করছিলাম। হঠাৎ এমপি সাহেব রুমে আসেন। বাইরে থেকে ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী গেট আটকে দেন। সেসময় এমপি সাহেব বলেন, আমি ডাকছি আসছেন না কেন? বলেই আমাকে থাপ্পড় মারেন। বলেন শিবির, করে বেড়াস, গ্রুপ করে বেড়াস। মাহাবুবুরের (অধ্যক্ষ) কাজ করে বেড়াস বলে আরও কয়েকটি চড় মারেন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে এমপি সাহেব অন্য রুমে নিয়ে যান। সেখানে মিটিং চলছিল। এরপর আরেক দফায় মারধর করা হলে এক পর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক তা ঠেকিয়ে দেন। মিটিং শেষে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হই এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ১৫ দিনের বিশ্রামে আছি।

অপর শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন জানান, দুদকের একটি ফাইল হাতিয়ে নিতে সুব্রত ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মন্ডল তাকে অপমান অপদস্ত এবং মারধর করতে উদ্যত হন। ওই দিন বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত সুবিধা করতে না পেরে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। তিনি আরও জানান, ১৬ মে অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন তাকে। কিন্তু তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে জোরপূর্বক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন সুব্রত কুমার নন্দী নামের নন এমপিও শিক্ষক।

অধ্যক্ষ ড. মাহাবুবুর রহমান জানান, সম্প্রতি একটি চিহ্নিত চক্রকে রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। আব্দুল মজিদ মণ্ডল, সুব্রতসহ কয়েকজন শিক্ষকের চক্রান্তে শিক্ষক লাঞ্ছনার এ ঘটনা ঘটিয়েছেন সংসদ-সদস্য আনার। এমন কাজের তীব্র নিন্দা ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে ৯ ডিসেম্বর বর্তমান অধ্যক্ষ মাহাবুবুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে উচ্চ আদালতের আদেশে ২০১৯ সালে চাকরি ফিরে পান তিনি। এরপরও ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলেজে ঢুকতে পারেননি। এখনো তিনি যশোরের বাড়িতে বসে বেতন-ভাতাসহ কাগজপত্র স্বাক্ষর করছেন। এমপি ও অধ্যক্ষর মধ্যে দৃশ্যমান কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু এ পর্যন্ত অন্তত ৫ জন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কলেজ ফান্ডের কোটি টাকা লুটের হিসাব চাওয়া এবং এমপিপন্থি শিক্ষক-কর্মচারীদের দাপটে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম যুগান্তরকে শনিবার বিকালে জানান, এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

কালীগঞ্জে ২ শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি

 ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জ প্রতিনিধি 
২২ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দীন কলেজের দুই সহকারী অধ্যাপক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার শিকার দুই শিক্ষক আদালতে মামলা করবেন বলে জানা গেছে। আজ (রোববার) ঝিনাইদহের আদালতে মামলাটি করা হতে পারে। তিন শিক্ষকসহ অন্তত ছয়জনকে আসামি করা হচ্ছে। আইনি বাধা না থাকলে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারকে এক নম্বর আসামি করা হতে পারে। এ খবর নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহাবুবুর রহমান।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। পুলিশের গোয়েন্দারা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, শনিবার দুপুরে সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার সংবাদ মাধ্যমে কথা বলেছেন। ঘটনা অস্বীকার করে তিনি বলেন, কলেজের খাতা চুরির ঘটনা নিয়ে একটা ঝামেলা হয়েছে। শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কষ্টে আছেন। এমন খবর শুনে বৃহস্পতিবার সকালে কলেজে যাই। সেখানে শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। যা হয়েছে সবার সামনেই। সেখানে কোনো উচ্চস্বরে কথাও হয়নি। কাউকে মানসিক বা শারীরিকভাবে আঘাত করার কোনো ঘটনাও ঘটেনি। এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার রাজনৈতিক অবস্থান নষ্ট করার জন্য এগুলো করা হয়েছে।

ঘটনার শিকার শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৭-৮ বস্তা সাদা খাতা কলেজ থেকে চুরি হওয়ায় সম্প্রতি আদালতে মামলা করেছেন কলেজ অধ্যক্ষ। ওই মামলার সাক্ষী আমি। বৃহস্পতিবার কলেজে কাগজপত্রের কাজ করছিলাম। হঠাৎ এমপি সাহেব রুমে আসেন। বাইরে থেকে ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী গেট আটকে দেন। সেসময় এমপি সাহেব বলেন, আমি ডাকছি আসছেন না কেন? বলেই আমাকে থাপ্পড় মারেন। বলেন শিবির, করে বেড়াস, গ্রুপ করে বেড়াস। মাহাবুবুরের (অধ্যক্ষ) কাজ করে বেড়াস বলে আরও কয়েকটি চড় মারেন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে এমপি সাহেব অন্য রুমে নিয়ে যান। সেখানে মিটিং চলছিল। এরপর আরেক দফায় মারধর করা হলে এক পর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষক তা ঠেকিয়ে দেন। মিটিং শেষে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হই এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ১৫ দিনের বিশ্রামে আছি।

অপর শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন জানান, দুদকের একটি ফাইল হাতিয়ে নিতে সুব্রত ও অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মন্ডল তাকে অপমান অপদস্ত এবং মারধর করতে উদ্যত হন। ওই দিন বিকাল পৌনে ৫টা পর্যন্ত সুবিধা করতে না পেরে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে। তিনি আরও জানান, ১৬ মে অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন তাকে। কিন্তু তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে জোরপূর্বক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন সুব্রত কুমার নন্দী নামের নন এমপিও শিক্ষক।

অধ্যক্ষ ড. মাহাবুবুর রহমান জানান, সম্প্রতি একটি চিহ্নিত চক্রকে রক্ষা করার চেষ্টা চলছে। আব্দুল মজিদ মণ্ডল, সুব্রতসহ কয়েকজন শিক্ষকের চক্রান্তে শিক্ষক লাঞ্ছনার এ ঘটনা ঘটিয়েছেন সংসদ-সদস্য আনার। এমন কাজের তীব্র নিন্দা ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাই।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে ৯ ডিসেম্বর বর্তমান অধ্যক্ষ মাহাবুবুরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে উচ্চ আদালতের আদেশে ২০১৯ সালে চাকরি ফিরে পান তিনি। এরপরও ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলেজে ঢুকতে পারেননি। এখনো তিনি যশোরের বাড়িতে বসে বেতন-ভাতাসহ কাগজপত্র স্বাক্ষর করছেন। এমপি ও অধ্যক্ষর মধ্যে দৃশ্যমান কোনো দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু এ পর্যন্ত অন্তত ৫ জন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কলেজ ফান্ডের কোটি টাকা লুটের হিসাব চাওয়া এবং এমপিপন্থি শিক্ষক-কর্মচারীদের দাপটে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম যুগান্তরকে শনিবার বিকালে জানান, এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন