বৈশ্বিক সংকট ঠেকাতে কর ছাড়ের প্রস্তাব
jugantor
পোলট্রি শিল্প খাত
বৈশ্বিক সংকট ঠেকাতে কর ছাড়ের প্রস্তাব
বিনিয়োগ বাড়াতে শূন্য শুল্কে যন্ত্রপাতি আমদানি, করপোরেট কর ৫ শতাংশ করার সুপারিশ * বিনিয়োগ বাড়াতে শূন্য শুল্কে যন্ত্রপাতি আমদানি, করপোরেট কর ৫ শতাংশ করার সুপারিশ

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৫ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশ্বিক সংকটে বিশ্ববাজারে পোলট্রি শিল্পের কাঁচামালের নানা উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এ শিল্পের মেশিনারিজের মূল্যও বেড়েছে অনেক। ফলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগও হচ্ছে না।

এ পরিস্থিতিতে পোলট্রি শিল্পের কাঁচামাল ও বিনিয়োগের জন্য মেশিনারিজ আমদানিতে কয়েক ধরনের শুল্ক ও কর রেয়াত সুবিধা চান বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। পাশাপাশি তারা ২০৩০ সাল পর্যন্ত থ্রাস্ট সেক্টর হিসাবে কর অবকাশ সুবিধা চেয়েছেন। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এ খাতের পুরোনো এবং নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা দিতে হবে। আগে এক শতাংশ দিয়ে এ শিল্পের যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ আমদানির সুযোগ ছিল। এরপর তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে নতুন বিনিয়োগকারীরা আসতে ভয় পাচ্ছেন।

এসব দিক বিবেচনা করে আসন্ন বাজেটে এটি শূন্য শতাংশ করতে হবে। আর এই সুবিধা না দেওয়া হলে বিনিয়োগ বাড়বে না। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ভুট্টাসহ কাঁচামাল কেনা হয় কৃষকের কাছ থেকে। ওই সময় সোর্স কর দিতে হয়। এটি অবাস্তব পদক্ষেপ। এটি দিতে চাইলেও দিতে পারি না। কারণ কৃষক ট্যাক্স দেয় না। এটি প্রত্যাহার করতে হবে।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ (অঞ্জন) জানান, লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বিগত সময়ে পোলট্রি শিল্পে যে কর সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তা ফের দিতে হবে। এছাড়া ২০৩০ সাল পর্যন্ত ট্যাক্স হোলিডে সুবিধা দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করতে হবে। সরকারের কাছে সরাসরি ভর্তুকি চাচ্ছি না। এই খাতকে থ্রাস্ট সেক্টর হিসাবে ঘোষণা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি করা না হলে আগামী দিনে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হবে। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, পোলট্রি খাতে বছরে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে প্রায় ১০ শতাংশ। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণসহ বিগত সময়ে ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে এ খাত, যা সংকটের দিকে নিয়ে গেছে। ফলে সাশ্রয়ীমূল্যে ডিম ও মুরগির মাংস উৎপাদন ও বিতরণ অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি নিশ্চিত করতে আসন্ন বাজেট ঘিরে কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, বৈশ্বিক সংকটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাঁস-মুরগির কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। এজন্য ফিড তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র কৃষক ও উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কেনা পণ্যের পর টিডিএস (ট্যাক্স ডিডেক্ট অ্যাট সোর্স) কর্তন রহিত করার কথা বলা হয়।

এছাড়া পোলট্রি শিল্পে বিনিয়োগের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও আগাম কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, আমদানীকৃত হাঁস-মুরগির খামারের যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি অগ্রিম আয়করমুক্ত ছিল। কিন্তু ২০১৯-২০ বাজেটে এটি প্রত্যাহার করা হয়। ফলে এ শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন শিল্প স্থাপনে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন অনেকে।

এছাড়া অন্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পোলট্রি শিল্পের করপোরেট কর ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ নামিয়ে আনা, শিল্পে অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তন অব্যাহতি ও হ্যাচিং ইনকিউবেটর মেশিনের যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির সুপারিশ। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় হাঁস-মুরগি খামার ও ফিড ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হওয়া যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও উপকরণ শুল্কমুক্ত আমদানির সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়, আসন্ন বাজেটে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসাবে পোলট্রি খাত (হাঁস-মুরগির খামার, হ্যাচারি ও ডিম) সম্প্রসারণের জন্য সরকার সহায়তা করবেন। বর্তমান বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বিদ্যমান সুবিধা বহাল ও প্রস্তাবিত সুবিধা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা হয়েছে। দেশের মোট মাংসের চাহিদার অর্ধেক পূরণ করছে পোলট্রি খাত।

পোলট্রি শিল্প খাত

বৈশ্বিক সংকট ঠেকাতে কর ছাড়ের প্রস্তাব

বিনিয়োগ বাড়াতে শূন্য শুল্কে যন্ত্রপাতি আমদানি, করপোরেট কর ৫ শতাংশ করার সুপারিশ * বিনিয়োগ বাড়াতে শূন্য শুল্কে যন্ত্রপাতি আমদানি, করপোরেট কর ৫ শতাংশ করার সুপারিশ
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৫ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বৈশ্বিক সংকটে বিশ্ববাজারে পোলট্রি শিল্পের কাঁচামালের নানা উপকরণের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এ শিল্পের মেশিনারিজের মূল্যও বেড়েছে অনেক। ফলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগও হচ্ছে না।

এ পরিস্থিতিতে পোলট্রি শিল্পের কাঁচামাল ও বিনিয়োগের জন্য মেশিনারিজ আমদানিতে কয়েক ধরনের শুল্ক ও কর রেয়াত সুবিধা চান বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। পাশাপাশি তারা ২০৩০ সাল পর্যন্ত থ্রাস্ট সেক্টর হিসাবে কর অবকাশ সুবিধা চেয়েছেন। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে বিপিআইসিসির সভাপতি মসিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, এ খাতের পুরোনো এবং নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের জন্য যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা দিতে হবে। আগে এক শতাংশ দিয়ে এ শিল্পের যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ আমদানির সুযোগ ছিল। এরপর তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে নতুন বিনিয়োগকারীরা আসতে ভয় পাচ্ছেন।

এসব দিক বিবেচনা করে আসন্ন বাজেটে এটি শূন্য শতাংশ করতে হবে। আর এই সুবিধা না দেওয়া হলে বিনিয়োগ বাড়বে না। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ভুট্টাসহ কাঁচামাল কেনা হয় কৃষকের কাছ থেকে। ওই সময় সোর্স কর দিতে হয়। এটি অবাস্তব পদক্ষেপ। এটি দিতে চাইলেও দিতে পারি না। কারণ কৃষক ট্যাক্স দেয় না। এটি প্রত্যাহার করতে হবে।

ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ (অঞ্জন) জানান, লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বিগত সময়ে পোলট্রি শিল্পে যে কর সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তা ফের দিতে হবে। এছাড়া ২০৩০ সাল পর্যন্ত ট্যাক্স হোলিডে সুবিধা দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করতে হবে। সরকারের কাছে সরাসরি ভর্তুকি চাচ্ছি না। এই খাতকে থ্রাস্ট সেক্টর হিসাবে ঘোষণা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এটি করা না হলে আগামী দিনে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হবে। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, পোলট্রি খাতে বছরে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে প্রায় ১০ শতাংশ। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণসহ বিগত সময়ে ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে এ খাত, যা সংকটের দিকে নিয়ে গেছে। ফলে সাশ্রয়ীমূল্যে ডিম ও মুরগির মাংস উৎপাদন ও বিতরণ অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি নিশ্চিত করতে আসন্ন বাজেট ঘিরে কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, বৈশ্বিক সংকটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাঁস-মুরগির কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। এজন্য ফিড তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র কৃষক ও উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কেনা পণ্যের পর টিডিএস (ট্যাক্স ডিডেক্ট অ্যাট সোর্স) কর্তন রহিত করার কথা বলা হয়।

এছাড়া পোলট্রি শিল্পে বিনিয়োগের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও আগাম কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, আমদানীকৃত হাঁস-মুরগির খামারের যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি অগ্রিম আয়করমুক্ত ছিল। কিন্তু ২০১৯-২০ বাজেটে এটি প্রত্যাহার করা হয়। ফলে এ শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি নতুন শিল্প স্থাপনে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন অনেকে।

এছাড়া অন্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পোলট্রি শিল্পের করপোরেট কর ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ নামিয়ে আনা, শিল্পে অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তন অব্যাহতি ও হ্যাচিং ইনকিউবেটর মেশিনের যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানির সুপারিশ। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় হাঁস-মুরগি খামার ও ফিড ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হওয়া যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও উপকরণ শুল্কমুক্ত আমদানির সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়।

ওই প্রস্তাবে বলা হয়, আসন্ন বাজেটে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসাবে পোলট্রি খাত (হাঁস-মুরগির খামার, হ্যাচারি ও ডিম) সম্প্রসারণের জন্য সরকার সহায়তা করবেন। বর্তমান বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বিদ্যমান সুবিধা বহাল ও প্রস্তাবিত সুবিধা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা হয়েছে। দেশের মোট মাংসের চাহিদার অর্ধেক পূরণ করছে পোলট্রি খাত।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন