শর্তের মারপ্যাঁচে করপোরেট কর
jugantor
শর্তের মারপ্যাঁচে করপোরেট কর

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান  

৩০ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শর্তের মারপ্যাঁচে করপোরেট কর

আগামী অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হচ্ছে। এই ছাড় পেতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকার বাইরের কোম্পানিগুলোকে একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে কর হার কমার পরিবর্তে ক্ষেত্রবিশেষে আড়াই শতাংশ বাড়বে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগামী বাজেটে এটি কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রথম শর্ত হচ্ছে-যেসব কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বাজারে ছেড়েছে তারাই শুধু এ সুবিধা পাবে। আর দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে-বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে করতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে পুঁজিবাজারে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া থাকলেও ওই কোম্পানিকে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে করপোরেট কর দিতে হবে। অন্যদিকে যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের কম শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হয়েছে তাদের কর হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশই অপরিবর্তিত থাকছে। উলটো বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে না করলে অথবা ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানির করপোরেট কর হবে ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ করপোরেট কর বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, হ্রাসকৃত কর সুবিধা নিতে চাইলে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার যে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, সেটা যৌক্তিক। যে কোম্পানির ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া নেই, সেটা নন-লিস্টেডের মতোই। কিন্তু দ্বিতীয় শর্ত একেবারেই অযৌক্তিক। এমন অনেক কোম্পানি আছে যাদের বার্ষিক টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। ছোটখাটো অনেক কাজের বিল নগদে পরিশোধ করতে হয়। এছাড়াও অনেক কাজে নগদ লেনদেন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ১২ লাখ টাকার যে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে, তা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। এ শর্ত রাখা সঠিক হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এ শর্ত রাখা হলে কোম্পানিগুলো কর ছাড়ের সুফল ভোগ করতে পারবে না।

এছাড়া বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকা কোম্পানির করপোরেট কর কমানো হচ্ছে। বর্তমানের ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে কর হার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও শর্ত পূরণ করতে হবে। বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে না করলে অথবা ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানির করপোরেট কর ৩০ শতাংশই থাকবে। একক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানির (ওপিসি) ক্ষেত্রেও একই শর্ত দিয়ে করপোরেট আড়াই শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে একক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানি কর ২৫ শতাংশ থেকে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু নগদ ব্যয়ের যে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে করা হয়নি। কারণ এক হাজার কোটি টাকার কোম্পানি এবং এক কোটি টাকার কোম্পানির নগদ ব্যয়ের সীমা কখনোই এক হতে পারে না। এক্ষেত্রে কোম্পানির আকারের ওপর ‘শতাংশ’ হিসাবে শর্ত বেঁধে দেওয়া উচিত ছিল।

বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংকের কর হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ও তালিকাবহির্ভূত ব্যাংকের কর হার ৪০ শতাংশ। মার্চেন্ট ব্যাংকের কর ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও তামাক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর ৪৫ শতাংশ। মোবাইল অপারেট কোম্পানির কর তালিকাভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত হলে ৪৫ শতাংশ কর দিতে হয়। সমবায় প্রতিষ্ঠান (কো-অপারেটিভ সোসাইটি) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের কর ১২ শতাংশ। এর বাইরে তৈরি পোশাক খাতের সবুজ প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ ও সাধারণ প্রতিষ্ঠানের কর ১২ শতাংশ। টেক্সটাইল শিল্পের করপোরেট কর হার ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ শতাংশ বহাল রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় আনতে চলতি (২০২১-২২) বাজেটে কর ছাড় সুবিধা দেওয়া হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটেও প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কঠিন শর্তের বেড়াজালে এ সুবিধা নিতে পারেনি কোন প্রতিষ্ঠানই। তাই আগামী বাজেটে শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে বলা হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান মোট জনবলের ১০ শতাংশ অথবা ১০০ জনের বেশি হিজড়াকে চাকরি দিলে কোম্পানির প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা হিজড়াদের দেওয়া মোট বেতনের ৭৫ শতাংশ কর ছাড় পাবে। অথচ শ্রমিক হিসাবে দক্ষ হিজড়া বা প্রতিবন্ধী না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দিতে পারেনি। আবার অনেকে নিয়োগ দিলেও শর্ত পূরণ না করায় কর ছাড় পায়নি।

রিজওয়ান রহমান বলেন, উদ্যোক্তারা হিজড়া ও প্রতিবন্ধীদের চাকরি দিতে চায়। কিন্তু তাদের দক্ষ শ্রমিক হিসাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ। আবার বাজেটে কর ছাড়ের সুবিধার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা কারও পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব নয়। মোট জনবলের ১০ শতাংশ হিজড়া বা প্রতিবন্ধীকে নিয়োগ দেওয়া কী কোনো কোম্পানির পক্ষে আদৌ সম্ভব! সত্যিকার অর্থে হিজড়াদের মূলধারায় আনতে চাইলে ১০০ জন বা ২৫ জনের শর্ত তুলে দিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যতজন হিজড়াকে নিয়োগ দেবে, তাদের বেতনের একটি অংশ কর ছাড় দিলেই শুধু উদ্যোক্তারা হিজড়া চাকরি দিতে উৎসাহ পাবে।

শর্তের মারপ্যাঁচে করপোরেট কর

 সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
৩০ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শর্তের মারপ্যাঁচে করপোরেট কর
প্রতীকী ছবি

আগামী অর্থবছরের বাজেটে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হচ্ছে। এই ছাড় পেতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকার বাইরের কোম্পানিগুলোকে একাধিক শর্ত পূরণ করতে হবে। এতে ব্যর্থ হলে কর হার কমার পরিবর্তে ক্ষেত্রবিশেষে আড়াই শতাংশ বাড়বে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগামী বাজেটে এটি কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রথম শর্ত হচ্ছে-যেসব কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বাজারে ছেড়েছে তারাই শুধু এ সুবিধা পাবে। আর দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে-বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে করতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে পুঁজিবাজারে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া থাকলেও ওই কোম্পানিকে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ হারে করপোরেট কর দিতে হবে। অন্যদিকে যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের কম শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হয়েছে তাদের কর হার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশই অপরিবর্তিত থাকছে। উলটো বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে না করলে অথবা ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানির করপোরেট কর হবে ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ করপোরেট কর বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, হ্রাসকৃত কর সুবিধা নিতে চাইলে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার যে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে, সেটা যৌক্তিক। যে কোম্পানির ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়া নেই, সেটা নন-লিস্টেডের মতোই। কিন্তু দ্বিতীয় শর্ত একেবারেই অযৌক্তিক। এমন অনেক কোম্পানি আছে যাদের বার্ষিক টার্নওভার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। ছোটখাটো অনেক কাজের বিল নগদে পরিশোধ করতে হয়। এছাড়াও অনেক কাজে নগদ লেনদেন করতে হয়। সে ক্ষেত্রে ১২ লাখ টাকার যে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে, তা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। এ শর্ত রাখা সঠিক হয়নি। প্রকৃতপক্ষে এ শর্ত রাখা হলে কোম্পানিগুলো কর ছাড়ের সুফল ভোগ করতে পারবে না।

এছাড়া বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকা কোম্পানির করপোরেট কর কমানো হচ্ছে। বর্তমানের ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে কর হার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও শর্ত পূরণ করতে হবে। বার্ষিক সর্বমোট ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ ব্যয় ও বিনিয়োগ ছাড়া সব ধরনের লেনদেন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে না করলে অথবা ব্যর্থ হলে ওই কোম্পানির করপোরেট কর ৩০ শতাংশই থাকবে। একক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানির (ওপিসি) ক্ষেত্রেও একই শর্ত দিয়ে করপোরেট আড়াই শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে একক ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানি কর ২৫ শতাংশ থেকে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, ক্যাশলেস সোসাইটি গড়তে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু নগদ ব্যয়ের যে সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে করা হয়নি। কারণ এক হাজার কোটি টাকার কোম্পানি এবং এক কোটি টাকার কোম্পানির নগদ ব্যয়ের সীমা কখনোই এক হতে পারে না। এক্ষেত্রে কোম্পানির আকারের ওপর ‘শতাংশ’ হিসাবে শর্ত বেঁধে দেওয়া উচিত ছিল।

বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্যাংকের কর হার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ও তালিকাবহির্ভূত ব্যাংকের কর হার ৪০ শতাংশ। মার্চেন্ট ব্যাংকের কর ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও তামাক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর ৪৫ শতাংশ। মোবাইল অপারেট কোম্পানির কর তালিকাভুক্ত হলে ৪০ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত হলে ৪৫ শতাংশ কর দিতে হয়। সমবায় প্রতিষ্ঠান (কো-অপারেটিভ সোসাইটি) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের কর ১২ শতাংশ। এর বাইরে তৈরি পোশাক খাতের সবুজ প্রতিষ্ঠানকে ১০ শতাংশ ও সাধারণ প্রতিষ্ঠানের কর ১২ শতাংশ। টেক্সটাইল শিল্পের করপোরেট কর হার ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৫ শতাংশ বহাল রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় আনতে চলতি (২০২১-২২) বাজেটে কর ছাড় সুবিধা দেওয়া হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটেও প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কঠিন শর্তের বেড়াজালে এ সুবিধা নিতে পারেনি কোন প্রতিষ্ঠানই। তাই আগামী বাজেটে শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে বলা হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান মোট জনবলের ১০ শতাংশ অথবা ১০০ জনের বেশি হিজড়াকে চাকরি দিলে কোম্পানির প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা হিজড়াদের দেওয়া মোট বেতনের ৭৫ শতাংশ কর ছাড় পাবে। অথচ শ্রমিক হিসাবে দক্ষ হিজড়া বা প্রতিবন্ধী না পাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দিতে পারেনি। আবার অনেকে নিয়োগ দিলেও শর্ত পূরণ না করায় কর ছাড় পায়নি।

রিজওয়ান রহমান বলেন, উদ্যোক্তারা হিজড়া ও প্রতিবন্ধীদের চাকরি দিতে চায়। কিন্তু তাদের দক্ষ শ্রমিক হিসাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিচ্ছে না কেউ। আবার বাজেটে কর ছাড়ের সুবিধার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা কারও পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব নয়। মোট জনবলের ১০ শতাংশ হিজড়া বা প্রতিবন্ধীকে নিয়োগ দেওয়া কী কোনো কোম্পানির পক্ষে আদৌ সম্ভব! সত্যিকার অর্থে হিজড়াদের মূলধারায় আনতে চাইলে ১০০ জন বা ২৫ জনের শর্ত তুলে দিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যতজন হিজড়াকে নিয়োগ দেবে, তাদের বেতনের একটি অংশ কর ছাড় দিলেই শুধু উদ্যোক্তারা হিজড়া চাকরি দিতে উৎসাহ পাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন