এবার করোনার চতুর্থ ঢেউয়ের শঙ্কা
jugantor
এবার করোনার চতুর্থ ঢেউয়ের শঙ্কা
শনাক্ত হার ১১ শতাংশ * সামাজিক সংক্রমণের আশঙ্কা, একজনের মৃত্যু * যবিপ্রবির গবেষণায় নতুন উপধরন শনাক্ত

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২২ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে দিন যত যাচ্ছে ফের করোনার প্রকোপ ততই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা এটাকে চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত বলে আশঙ্কা করছেন। তারা যুগান্তরকে বলছেন, টানা ১৬ সপ্তাহের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৭৪ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

তিন সপ্তাহ পর গত দুদিনে দুজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ১১ শতাংশে পৌঁছে গেছে। চতুর্থ ঢেউয়ের কারণে এমনটা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই সামাজিক সংক্রমণ শুরু হবে।

এছাড়া শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জিনোম সিকোয়েন্সিং করে মঙ্গলবার দুজনের শরীরে ভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ইঅ.৪/৫ শনাক্তের তথ্য দিয়েছেন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বেনজীর আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, দেশে গত কয়েকদিন করোনা সংক্রমণ ও শনাক্ত বাড়ছে। বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে।

কারণ অনেকের উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করছে না। এদিকে ভারত, ম্যাকাও, চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডেও রোগী বাড়ছে। বুস্টার ডোজ নিয়েও মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন।

তাতে মনে হচ্ছে চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই ঢেউ কত ছোট রাখা যায় সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমে একটি জিনোম সিকোয়েন্সিং বা রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দরকার। তাতে বোঝা যাবে বর্তমান ভেরিয়েন্ট কোনটি।

দ্বিতীয়ত কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। যেমন, কেউ টিকা নেয়নি, কেউ এক ডোজ নিয়েছেন, কেউ দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার সম্পন্ন করেছেন। অর্থাৎ টিকার শেষ ডোজ থেকে সংক্রমণ পর্যন্ত সময় হিসাব করতে হবে।

এগুলো জানা গেলে পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। দ্রুত টিকা আওতায় আনা অথবা আরেকটি বুস্টার ডোজ লাগবে কিনা জানা যাবে। পাশাপাশি যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের আইসোলেশনে নেওয়া দরকার।

উৎস নির্ণয় করতে পারলে নিয়ন্ত্রণের লাগাম টানা সম্ভব হবে। মনে রাখতে হবে, বুস্টার নিয়েও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। এখনো ১২ বছরের নিচের শিশুরা টিকা পায়নি। তাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ালে মৃত্যু বাড়বে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত এক সপ্তাহ যে হারে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, এটি চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত।

তিনি বলেন, রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী একজন রোগী শনাক্ত হলে অন্তত পাঁচজন শনাক্তের বাইরে থাকে। এ হিসাবে অনেক সংক্রামিত ব্যক্তি শনাক্তের বাইরে রয়েছে। কিন্তু বড় একটি জনগোষ্ঠী টিকা নেওয়ায় মারাত্মক আক্রান্ত কম হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু কম হচ্ছে। তবে যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক মৃত্যু তিন থেকে পাঁচের ঘরে চলে যাবে। এটি প্রতিরোধে এখনই স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং টিকা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ছে।

দেশে করোনা সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর ২০ জুন অর্থাৎ দীর্ঘ ৪ মাস পর প্রথমবারের মতো দৈনিক শনাক্তের হার দশ শতাংশ (১০ দশমিক ৮৭) ছাড়িয়ে যায়।

তার আগের দিন (১৯ জুন) এই হার ছিল ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সর্বশেষ মঙ্গলবার ১১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা এই মুহূর্তে আরেকটি ঢেউসহ রোগী বৃদ্ধির শঙ্কা জাগাচ্ছে।

কারণ ২০ জুন ৮ হাজার ৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মঙ্গলবার নুমনা পরীক্ষা কমলেও (৭ হাজার ৮৯৩টি) শনাক্ত হার ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। পরীক্ষা বাড়লে শনাক্তও বাড়বে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৮৭৪ নতুন রোগী নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪ জন। একদিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি।

সেদিন ৮৯৭ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। আর করোনায় আরেকজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৩৩ জনে। এর আগে সর্বশেষ মৃত্যুর খবর মিলেছিল ৩০ মে।

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন বলেন, সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি তাতে বলা যায় আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই সামাজিক সংক্রমণ ঢুকবে।

প্রথমে ঢাকা এরপরে চট্টগ্রাম, ধীরে ধীরে সারা দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। নমুনা পরীক্ষা অনেক কম হচ্ছে জানিয়ে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে।

যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া যথাসময়ে টিকা নিয়ে নিতে হবে। মাস্ক পরিধান করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সামাজিক দূরত্ব।

এদিকে মঙ্গলবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ইঅ.৪/৫ শনাক্ত হয়েছে।

জিনোম সেন্টারের একদল গবেষক যশোরের দুজন আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সংগৃহীত ভাইরাসের আংশিক (স্পাইক প্রোটিন) জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে করোনার নতুন এই উপধরনটি শনাক্ত করে।

যবিপ্রবির গবেষক দল সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির একজন করোনা টিকার বুস্টার ডোজ এবং অপরজন দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন।

গবেষক দলটি আরও জানায়, ইঅ.৪/৫ সাব-ভ্যারিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনে ওমিক্রনের মতোই মিউটেশন দেখা যায়।

তবে তার সঙ্গে এই সাব-ভ্যারিয়েন্টে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো স্পাইক প্রোটিনের ৪৫২ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডে মিউটেশন থাকে। এছাড়াও এই সাব ভ্যারিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ৪৮৬ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডেও মিউটেশন দেখা যায়।

করোনার এই নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য ও জেনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এই সাব-ভ্যারিয়েন্টটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম।

টিকা নেওয়া ব্যক্তিরাও এই সাব ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। আগামী দিনে এই সাব-ভ্যারিয়েন্ট বর্তমানে সংক্রমণশীল অন্যান্য সাব-ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি সংক্রমণ ঘটাতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। এ জন্য মাস্ক ব্যবহারসহ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা সংক্রমণ বিষয়ক তথ্য বিশ্লেণ করে দেখা যায় এর আগে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রমণের দাপট কমলে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে দৈনিক শনাক্ত হাজারের নিচে নেমে আসে।

ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে একপর্যায়ে ২৬ মার্চ তা একশর নিচে নেমে এসেছিল। সংক্রমণ কমার ধারায় ৫ মে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নেমেছিল ৪ জনে।

তবে ২২ মের পর থেকে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোন দেশে করোনা শনাক্ত রোগীর হার ৫ শতাংশের উপরে থাকলে সেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে বলে ধরা হয়।

এবার করোনার চতুর্থ ঢেউয়ের শঙ্কা

শনাক্ত হার ১১ শতাংশ * সামাজিক সংক্রমণের আশঙ্কা, একজনের মৃত্যু * যবিপ্রবির গবেষণায় নতুন উপধরন শনাক্ত
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২২ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে দিন যত যাচ্ছে ফের করোনার প্রকোপ ততই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা এটাকে চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত বলে আশঙ্কা করছেন। তারা যুগান্তরকে বলছেন, টানা ১৬ সপ্তাহের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৭৪ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

তিন সপ্তাহ পর গত দুদিনে দুজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। দৈনিক রোগী শনাক্তের হার ১১ শতাংশে পৌঁছে গেছে। চতুর্থ ঢেউয়ের কারণে এমনটা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে শিগগিরই সামাজিক সংক্রমণ শুরু হবে।

এছাড়া শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জিনোম সিকোয়েন্সিং করে মঙ্গলবার দুজনের শরীরে ভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ইঅ.৪/৫ শনাক্তের তথ্য দিয়েছেন।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. বেনজীর আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, দেশে গত কয়েকদিন করোনা সংক্রমণ ও শনাক্ত বাড়ছে। বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হবে।

কারণ অনেকের উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষা করছে না। এদিকে ভারত, ম্যাকাও, চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডেও রোগী বাড়ছে। বুস্টার ডোজ নিয়েও মানুষ করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন।

তাতে মনে হচ্ছে চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এই ঢেউ কত ছোট রাখা যায় সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমে একটি জিনোম সিকোয়েন্সিং বা রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দরকার। তাতে বোঝা যাবে বর্তমান ভেরিয়েন্ট কোনটি।

দ্বিতীয়ত কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। যেমন, কেউ টিকা নেয়নি, কেউ এক ডোজ নিয়েছেন, কেউ দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার সম্পন্ন করেছেন। অর্থাৎ টিকার শেষ ডোজ থেকে সংক্রমণ পর্যন্ত সময় হিসাব করতে হবে।

এগুলো জানা গেলে পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। দ্রুত টিকা আওতায় আনা অথবা আরেকটি বুস্টার ডোজ লাগবে কিনা জানা যাবে। পাশাপাশি যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের আইসোলেশনে নেওয়া দরকার।

উৎস নির্ণয় করতে পারলে নিয়ন্ত্রণের লাগাম টানা সম্ভব হবে। মনে রাখতে হবে, বুস্টার নিয়েও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। এখনো ১২ বছরের নিচের শিশুরা টিকা পায়নি। তাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ালে মৃত্যু বাড়বে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকার পর গত এক সপ্তাহ যে হারে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, এটি চতুর্থ ঢেউয়ের ইঙ্গিত।

তিনি বলেন, রোগতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী একজন রোগী শনাক্ত হলে অন্তত পাঁচজন শনাক্তের বাইরে থাকে। এ হিসাবে অনেক সংক্রামিত ব্যক্তি শনাক্তের বাইরে রয়েছে। কিন্তু বড় একটি জনগোষ্ঠী টিকা নেওয়ায় মারাত্মক আক্রান্ত কম হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু কম হচ্ছে। তবে যে হারে রোগী বাড়ছে তাতে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক মৃত্যু তিন থেকে পাঁচের ঘরে চলে যাবে। এটি প্রতিরোধে এখনই স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং টিকা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ছে।

দেশে করোনা সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারির পর ২০ জুন অর্থাৎ দীর্ঘ ৪ মাস পর প্রথমবারের মতো দৈনিক শনাক্তের হার দশ শতাংশ (১০ দশমিক ৮৭) ছাড়িয়ে যায়।

তার আগের দিন (১৯ জুন) এই হার ছিল ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সর্বশেষ মঙ্গলবার ১১ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা এই মুহূর্তে আরেকটি ঢেউসহ রোগী বৃদ্ধির শঙ্কা জাগাচ্ছে।

কারণ ২০ জুন ৮ হাজার ৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। মঙ্গলবার নুমনা পরীক্ষা কমলেও (৭ হাজার ৮৯৩টি) শনাক্ত হার ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। পরীক্ষা বাড়লে শনাক্তও বাড়বে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৮৭৪ নতুন রোগী নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪ জন। একদিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি।

সেদিন ৮৯৭ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। আর করোনায় আরেকজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৩৩ জনে। এর আগে সর্বশেষ মৃত্যুর খবর মিলেছিল ৩০ মে। 

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন বলেন, সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি তাতে বলা যায় আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই সামাজিক সংক্রমণ ঢুকবে।

প্রথমে ঢাকা এরপরে চট্টগ্রাম, ধীরে ধীরে সারা দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। নমুনা পরীক্ষা অনেক কম হচ্ছে জানিয়ে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়াতে হবে।

যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া যথাসময়ে টিকা নিয়ে নিতে হবে। মাস্ক পরিধান করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সামাজিক দূরত্ব।

এদিকে মঙ্গলবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট ইঅ.৪/৫ শনাক্ত হয়েছে। 

জিনোম সেন্টারের একদল গবেষক যশোরের দুজন আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সংগৃহীত ভাইরাসের আংশিক (স্পাইক প্রোটিন) জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে করোনার নতুন এই উপধরনটি শনাক্ত করে।

যবিপ্রবির গবেষক দল সংশ্লিষ্টরা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির একজন করোনা টিকার বুস্টার ডোজ এবং অপরজন দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন।

গবেষক দলটি আরও জানায়, ইঅ.৪/৫ সাব-ভ্যারিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনে ওমিক্রনের মতোই মিউটেশন দেখা যায়।

তবে তার সঙ্গে এই সাব-ভ্যারিয়েন্টে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো স্পাইক প্রোটিনের ৪৫২ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডে মিউটেশন থাকে। এছাড়াও এই সাব ভ্যারিয়েন্টে স্পাইক প্রোটিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ৪৮৬ নম্বর অ্যামাইনো অ্যাসিডেও মিউটেশন দেখা যায়। 

করোনার এই নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের বিষয়ে যবিপ্রবির উপাচার্য ও জেনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এই সাব-ভ্যারিয়েন্টটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম।

টিকা নেওয়া ব্যক্তিরাও এই সাব ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। আগামী দিনে এই সাব-ভ্যারিয়েন্ট বর্তমানে সংক্রমণশীল অন্যান্য সাব-ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় বেশি সংক্রমণ ঘটাতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। এ জন্য মাস্ক ব্যবহারসহ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা সংক্রমণ বিষয়ক তথ্য বিশ্লেণ করে দেখা যায় এর আগে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রমণের দাপট কমলে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে দৈনিক শনাক্ত হাজারের নিচে নেমে আসে।

ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে একপর্যায়ে ২৬ মার্চ তা একশর নিচে নেমে এসেছিল। সংক্রমণ কমার ধারায় ৫ মে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নেমেছিল ৪ জনে।

তবে ২২ মের পর থেকে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোন দেশে করোনা শনাক্ত রোগীর হার ৫ শতাংশের উপরে থাকলে সেখানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে বলে ধরা হয়।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

১৮ জুন, ২০২২