শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল থেকে নামিয়ে দিল ছাত্রলীগ
jugantor
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল থেকে নামিয়ে দিল ছাত্রলীগ

  রাবি প্রতিনিধি  

২৫ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই হলের ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টার দিকে ২৪৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মুন্না ইসলাম। তিনি রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর হল ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের নাম শামীম হোসেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুন্না জানান, তিনি আগে হলের তৃতীয় ব্লকের ৩৫২ নম্বর কক্ষের ফ্লোরিং করে থাকতেন। চলতি মাসের ১২ তারিখে হলের ২৪৮ নম্বর কক্ষটি ফাঁকা হওয়ায় সেই কক্ষে ওঠার জন্য হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তিনি হলের এক আবাসিক শিক্ষকের সুপারিশ নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষকে লিখিত আবেদন দেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই রুমে তাকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৫ জুন তিনি কক্ষে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, ‘১৫ জুন থেকে আমি ২৪৮ নম্বর কক্ষেই অবস্থান করছি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আমার রুমে আসেন। এখনি রুম থেকে বের হয়ে যাবি- এই বলে আমাকে হুমকি দিতে থাকেন। বের হতে না চাওয়ায় আমার ঘার ধরে ধাক্কা মেরে দরজার বাহিরে বের করে দেন তৌহিদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। আমাকে কিল-ঘুষিও মারেন। এরপর বিছানাপত্র বাইরে বের করে দিয়ে আমার সিটে বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আসিফ নামের এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে তুলে দেন।

জানতে চাইলে শামীম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাউকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই রুমে আমি যাকে উঠাতে চেয়েছি সেই ছেলেটি খুব দরিদ্র। যার কারণে আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে মুন্না নামের ওই ছেলেটির সঙ্গে তাকে বেড শেয়ার করে থাকতে বলেছিলাম। সেখানে মারধর ও বের করে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ ড. এএইচএম মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি শোনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তাকে আবার তার সিটে উঠিয়ে দিয়েছি। যদি মারধর করার মতো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেলা ১১টার দিকে আব্দুল লতিফ হলে অবস্থান নেন এবং হল প্রভোস্টের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন।

শিক্ষকরা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে চলতে পারে না। প্রতিনিয়ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমরা শিক্ষক হয়ে সেটা মেনে নিতে পারি না। এ ঘটনায় শিক্ষকরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। হল প্রভোস্ট এএইচএম ড. মাহবুবুর রহমান তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আসাবুল হক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব, রাসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. কুদরত-ই জাহান, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান প্রমুখ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল থেকে নামিয়ে দিল ছাত্রলীগ

 রাবি প্রতিনিধি 
২৫ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই হলের ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টার দিকে ২৪৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মুন্না ইসলাম। তিনি রসায়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আর হল ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের নাম শামীম হোসেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুন্না জানান, তিনি আগে হলের তৃতীয় ব্লকের ৩৫২ নম্বর কক্ষের ফ্লোরিং করে থাকতেন। চলতি মাসের ১২ তারিখে হলের ২৪৮ নম্বর কক্ষটি ফাঁকা হওয়ায় সেই কক্ষে ওঠার জন্য হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তিনি হলের এক আবাসিক শিক্ষকের সুপারিশ নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষকে লিখিত আবেদন দেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই রুমে তাকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১৫ জুন তিনি কক্ষে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, ‘১৫ জুন থেকে আমি ২৪৮ নম্বর কক্ষেই অবস্থান করছি। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন হলের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আমার রুমে আসেন। এখনি রুম থেকে বের হয়ে যাবি- এই বলে আমাকে হুমকি দিতে থাকেন। বের হতে না চাওয়ায় আমার ঘার ধরে ধাক্কা মেরে দরজার বাহিরে বের করে দেন তৌহিদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। আমাকে কিল-ঘুষিও মারেন। এরপর বিছানাপত্র বাইরে বের করে দিয়ে আমার সিটে বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আসিফ নামের এক অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে তুলে দেন।

জানতে চাইলে শামীম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাউকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই রুমে আমি যাকে উঠাতে চেয়েছি সেই ছেলেটি খুব দরিদ্র। যার কারণে আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে মুন্না নামের ওই ছেলেটির সঙ্গে তাকে বেড শেয়ার করে থাকতে বলেছিলাম। সেখানে মারধর ও বের করে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ ড. এএইচএম মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি শোনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তাকে আবার তার সিটে উঠিয়ে দিয়েছি। যদি মারধর করার মতো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেলা ১১টার দিকে আব্দুল লতিফ হলে অবস্থান নেন এবং হল প্রভোস্টের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন।

শিক্ষকরা বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এভাবে চলতে পারে না। প্রতিনিয়ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমরা শিক্ষক হয়ে সেটা মেনে নিতে পারি না। এ ঘটনায় শিক্ষকরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। হল প্রভোস্ট এএইচএম ড. মাহবুবুর রহমান তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আসাবুল হক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব, রাসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. কুদরত-ই জাহান, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন