সিলেট বিভাগে সাড়ে ৩শ কিমি সড়ক ধ্বংস
jugantor
আকস্মিক বন্যার প্রভাব
সিলেট বিভাগে সাড়ে ৩শ কিমি সড়ক ধ্বংস

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৬ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সিলেট বিভাগে প্রায় সাড়ে তিনশ কিলোমিটার সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ জেলা। দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পানি নেমে গেলেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় বড় ধরনের গর্ত ও নালা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে কোনো ধরনের পরিবহণ চলাচল করতে পারছে না। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবহণের অভাবে বন্যাদুর্গতদের জন্য জরুরি ত্রাণ সরবরাহও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন-দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুরের সঙ্গে জেলা সদরের সংযোগ সড়ক চালু করতে কাজ করাতেই হবে। এই কটি উপজেলা কার্যত এখন বিচ্ছিন্ন রয়েছে বন্যার পানিতে সড়ক ধ্বংসের কারণে। স্বল্প মেয়াদের জন্য এসব সড়ক চালু করতে অন্তত ২৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। আর দীর্ঘমেয়াদি কাজের জন্য লাগবে তিনশ কোটি টাকা। কারণ অধিকাংশ সড়কের দুই পাশে ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। না হয় প্রতিবছরই সড়কগুলো এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুন মাসের শেষ সপ্তাহের কারণে নতুন করে কোনো কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আশা করছি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি সিদ্ধান্ত দেবেন।

ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথের (সওজ) সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলে রব্বে সিলেট বিভাগের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়েছেন। এতে বলা হয়, বন্যার প্রবল স্রোতে সড়ক বাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিসি ব্লক ধ্বংস হয়ে গেছে। বিভিন্ন সড়ক বাঁধের কয়েকটি স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে শত শত মিটার ফুটপাত সড়ক বাঁধ ওয়াশআউট (চলাচলের অনুপযোগী) হয়ে গেছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ১৮৪ কিলোমিটার, সিলেট সড়ক বিভাগে ৯৮ কিলোমিটার ও মৌলভীবাজারে ৭৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সামনে ঈদুল আজহা। এর আগে সড়কগুলো মেরামত ও চলাচলের উপযোগী করা না হলে ঘরমুখী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে। কারণ কুরবানির পশুবাহী পরিবহণ চলাচল ছাড়াও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বানভাসি মানুষ আটকে পড়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে সড়কগুলো সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আকস্মিক বন্যার প্রভাব

সিলেট বিভাগে সাড়ে ৩শ কিমি সড়ক ধ্বংস

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৬ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সিলেট বিভাগে প্রায় সাড়ে তিনশ কিলোমিটার সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ জেলা। দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পানি নেমে গেলেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় বড় ধরনের গর্ত ও নালা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে কোনো ধরনের পরিবহণ চলাচল করতে পারছে না। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিবহণের অভাবে বন্যাদুর্গতদের জন্য জরুরি ত্রাণ সরবরাহও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন-দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও তাহিরপুরের সঙ্গে জেলা সদরের সংযোগ সড়ক চালু করতে কাজ করাতেই হবে। এই কটি উপজেলা কার্যত এখন বিচ্ছিন্ন রয়েছে বন্যার পানিতে সড়ক ধ্বংসের কারণে। স্বল্প মেয়াদের জন্য এসব সড়ক চালু করতে অন্তত ২৬ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। আর দীর্ঘমেয়াদি কাজের জন্য লাগবে তিনশ কোটি টাকা। কারণ অধিকাংশ সড়কের দুই পাশে ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। না হয় প্রতিবছরই সড়কগুলো এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুন মাসের শেষ সপ্তাহের কারণে নতুন করে কোনো কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তবে মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আশা করছি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ একটি সিদ্ধান্ত দেবেন।

ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথের (সওজ) সিলেট জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলে রব্বে সিলেট বিভাগের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়েছেন। এতে বলা হয়, বন্যার প্রবল স্রোতে সড়ক বাঁধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিসি ব্লক ধ্বংস হয়ে গেছে। বিভিন্ন সড়ক বাঁধের কয়েকটি স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে শত শত মিটার ফুটপাত সড়ক বাঁধ ওয়াশআউট (চলাচলের অনুপযোগী) হয়ে গেছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ১৮৪ কিলোমিটার, সিলেট সড়ক বিভাগে ৯৮ কিলোমিটার ও মৌলভীবাজারে ৭৪ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সামনে ঈদুল আজহা। এর আগে সড়কগুলো মেরামত ও চলাচলের উপযোগী করা না হলে ঘরমুখী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়বে। কারণ কুরবানির পশুবাহী পরিবহণ চলাচল ছাড়াও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বানভাসি মানুষ আটকে পড়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে সড়কগুলো সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন