বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে দক্ষিণ এশিয়া
jugantor
বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে দক্ষিণ এশিয়া
জাপান ও ফ্রান্সে বিদ্যুতে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৮ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এশিয়া অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। শ্রীলংকায় জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টায় সরকারি কর্মচারীদের ঘরে বসে অফিসের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এক সপ্তাহ ধরে কলম্বো ও আশপাশের এলাকাগুলোয় স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বাংলাদেশে দোকানপাট রাত ৮টার পর বন্ধ রাখা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সংকটে ভারত ও পাকিস্তানের অনেক স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং বাড়িঘরে এসি না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাপান ও ফ্রান্স সরকার। খবর সিএনএন, বিবিসি ও রয়টার্সের।

জ্বালানি তেল ও কয়লা সংকটে অনেক দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধার মুখে পড়েছে। শ্রীলংকা ও পাকিস্তানে জ্বালানি তেল সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রোববার শ্রীলংকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসেকারা বলেন, দেশটিতে এখন প্রায় ৯ হাজার টন ডিজেল ও ৬ হাজার টন পেট্রোলের মজুত রয়েছে। আপাতত জ্বালানির কোনো চালান আসার কথা নেই। মজুত জ্বালানি দিয়ে কতদিন চলা যাবে, তা সরকার জানে না। সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়া শ্রীলংকায় চলছে ব্যাপক জ্বালানি সংকট। কলম্বোয় স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘরে বসে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের। সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পেট্রোলপাম্পের লাইনে দাঁড়ানোর একটি টোকেন পেয়েছেন ৬৭ বছর বয়সি অটোরিকশাচালক ডব্লিউডি শেলটন। পেট্রোল এলে অন্যদের মতো তিনিও পেট্রোল পাবেন। শেলটন বলেন, আমি চার দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এই চার দিন আমি পর্যাপ্ত ঘুম, এমনকি পর্যাপ্ত খেতেও পারিনি। চরম দুর্দশাকে চরম দুঃখের বিষয় হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটা একটা ট্র্যাজেডি। আমরা জানি না এর শেষ কোথায়। জ্বালানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে জ্বালানি পাচ্ছেন না। কেউ কয়েকদিন লাইনে থাকার পর অল্প জ্বালানি পাচ্ছেন। রোববার জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী টোকিও ও এর আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। টোকিও এবং এর আশপাশের এলাকার লোকজনকে অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ খরচ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রয়োজন না হলে লাইট বন্ধ রাখা উচিত। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। তবে হিটস্ট্রোক এড়াতে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়। টোকিওতে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইসেসাকি শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। জুনে রেকর্ড করা এটাই জাপানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

ফ্রান্সের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা বলছেন, খরচ কমাতে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি ইলেকট্রিকিট ডি ফ্রান্স (ইডিএফ), ইউটিলিটি কোম্পানি ইঞ্জি ও পেট্রোলিয়াম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জির প্রধান নির্বাহীরা শীতকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ ব্যয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। এক চিঠিতে কোম্পানিগুলো রাশিয়ান গ্যাসের চালান কমে আসার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে শীতের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং তেল সংরক্ষণ করতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্সের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বোর্ন বলেছেন, ফ্রান্সের লক্ষ্য শরতের শুরুতেই গ্যাস স্টোরেজ পূরণ করা। ফ্রান্সের গ্যাস স্টোরেজ বর্তমানে ৫৯ শতাংশ। এর আগে, ১৬ জুন জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় নিউ সাউথ ওয়েলসের বাসিন্দাদের সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাতি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন। যতটা সম্ভব বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বের অন্যতম কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু গত মাস থেকে দেশটি ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। সেখানকার তিন-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ এখনো কয়লা ব্যবহার করে উৎপাদিত হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে কয়লা সরবরাহে ব্যাঘাত, বেশ কয়েকটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিভ্রাট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি শক্তির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশটি বেশ সংকটে পড়েছে।

বিদ্যুৎ জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে দক্ষিণ এশিয়া

জাপান ও ফ্রান্সে বিদ্যুতে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এশিয়া অঞ্চলে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। শ্রীলংকায় জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের চেষ্টায় সরকারি কর্মচারীদের ঘরে বসে অফিসের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এক সপ্তাহ ধরে কলম্বো ও আশপাশের এলাকাগুলোয় স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বাংলাদেশে দোকানপাট রাত ৮টার পর বন্ধ রাখা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ সংকটে ভারত ও পাকিস্তানের অনেক স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং বাড়িঘরে এসি না চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাপান ও ফ্রান্স সরকার। খবর সিএনএন, বিবিসি ও রয়টার্সের।

জ্বালানি তেল ও কয়লা সংকটে অনেক দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধার মুখে পড়েছে। শ্রীলংকা ও পাকিস্তানে জ্বালানি তেল সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। রোববার শ্রীলংকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিবিষয়ক মন্ত্রী কাঞ্চনা উইজেসেকারা বলেন, দেশটিতে এখন প্রায় ৯ হাজার টন ডিজেল ও ৬ হাজার টন পেট্রোলের মজুত রয়েছে। আপাতত জ্বালানির কোনো চালান আসার কথা নেই। মজুত জ্বালানি দিয়ে কতদিন চলা যাবে, তা সরকার জানে না। সাত দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়া শ্রীলংকায় চলছে ব্যাপক জ্বালানি সংকট। কলম্বোয় স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘরে বসে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের। সেনাবাহিনীর কাছ থেকে পেট্রোলপাম্পের লাইনে দাঁড়ানোর একটি টোকেন পেয়েছেন ৬৭ বছর বয়সি অটোরিকশাচালক ডব্লিউডি শেলটন। পেট্রোল এলে অন্যদের মতো তিনিও পেট্রোল পাবেন। শেলটন বলেন, আমি চার দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এই চার দিন আমি পর্যাপ্ত ঘুম, এমনকি পর্যাপ্ত খেতেও পারিনি। চরম দুর্দশাকে চরম দুঃখের বিষয় হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এটা একটা ট্র্যাজেডি। আমরা জানি না এর শেষ কোথায়। জ্বালানির জন্য লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে জ্বালানি পাচ্ছেন না। কেউ কয়েকদিন লাইনে থাকার পর অল্প জ্বালানি পাচ্ছেন। রোববার জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানী টোকিও ও এর আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। টোকিও এবং এর আশপাশের এলাকার লোকজনকে অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ খরচ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রয়োজন না হলে লাইট বন্ধ রাখা উচিত। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। তবে হিটস্ট্রোক এড়াতে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়। টোকিওতে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে। অপরদিকে রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইসেসাকি শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। জুনে রেকর্ড করা এটাই জাপানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

ফ্রান্সের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরা বলছেন, খরচ কমাতে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি ইলেকট্রিকিট ডি ফ্রান্স (ইডিএফ), ইউটিলিটি কোম্পানি ইঞ্জি ও পেট্রোলিয়াম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জির প্রধান নির্বাহীরা শীতকে সামনে রেখে বিদ্যুৎ ব্যয়ে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। এক চিঠিতে কোম্পানিগুলো রাশিয়ান গ্যাসের চালান কমে আসার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে জ্বালানি ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে শীতের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়ার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং তেল সংরক্ষণ করতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্সের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বোর্ন বলেছেন, ফ্রান্সের লক্ষ্য শরতের শুরুতেই গ্যাস স্টোরেজ পূরণ করা। ফ্রান্সের গ্যাস স্টোরেজ বর্তমানে ৫৯ শতাংশ। এর আগে, ১৬ জুন জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় নিউ সাউথ ওয়েলসের বাসিন্দাদের সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাতি বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন। যতটা সম্ভব বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিশ্বের অন্যতম কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু গত মাস থেকে দেশটি ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। সেখানকার তিন-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ এখনো কয়লা ব্যবহার করে উৎপাদিত হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে কয়লা সরবরাহে ব্যাঘাত, বেশ কয়েকটি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিভ্রাট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি শক্তির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশটি বেশ সংকটে পড়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন