হারুনের মেডিকেল রিপোর্ট চেয়েছেন হাইকোর্ট
jugantor
ডেসটিনিকাণ্ড
হারুনের মেডিকেল রিপোর্ট চেয়েছেন হাইকোর্ট

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩০ জুন ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুদকের মামলায় চার বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট।

মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তার (হারুন-অর-রশিদ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মেডিকেল বোর্ড গঠনের আবেদন করা হয় মঙ্গলবার। বুধবার আবেদনের শুনানিতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, বিএসএমএমইউর প্রিজন সেল কক্সবাজারের রিসোর্টে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ভিআইপি বন্দিরা কারাগারে গেলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে আসেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, যেন প্রিজন সেল রিসোর্টে পরিণত হয়েছে। এ চর্চা বন্ধ করতে হবে।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের দায়ে ১২ মে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনকে ১২ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় কোম্পানির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান’র কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালত তার সাজা কমিয়ে দেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এই রায়ে ৪৫ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করেন।

ডেসটিনি মালটিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রায় ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই কলাবাগান থানায় মামলা করেছিল দুদক। ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট অভিযোগ গঠন করে আদালত আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন।

২০০০ সালে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড নামের মালটিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি দিয়ে এ গ্রুপের যাত্রা শুরু। পরের বছরে বিমান পরিবহণ, আবাসন, মিডিয়া, পাটকল, কোল্ড স্টোরেজ, বনায়নসহ বিভিন্ন খাতে ৩৪টি কোম্পানিতে ডেসটিনির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়। পরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে চার হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে এ কোম্পানির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মালটিপারপাস কো-অপারেটিভের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল ডেসটিনি। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তাতে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খানসহ ৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ : এদিন ডেসটিনির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খানসহ ৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। আসামিরা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন জানান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন দুদকের পিপি আব্দুস সালাম মীর।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অপর তিন আসামি হলো- ডেসটিনি গ্রুপের বেস্ট এভিয়েশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোল্লা আল আমিন, হেড অব ফাইন্যান্স কাজী মোহাম্মদ ফজলুর করিম ও সুনীল বরণ কর্মকার।

ডেসটিনিকাণ্ড

হারুনের মেডিকেল রিপোর্ট চেয়েছেন হাইকোর্ট

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩০ জুন ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুদকের মামলায় চার বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট।

মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তার (হারুন-অর-রশিদ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

মেডিকেল বোর্ড গঠনের আবেদন করা হয় মঙ্গলবার। বুধবার আবেদনের শুনানিতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, বিএসএমএমইউর প্রিজন সেল কক্সবাজারের রিসোর্টে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ভিআইপি বন্দিরা কারাগারে গেলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউর প্রিজন সেলে আসেন। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, যেন প্রিজন সেল রিসোর্টে পরিণত হয়েছে। এ চর্চা বন্ধ করতে হবে।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের দায়ে ১২ মে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনকে ১২ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় কোম্পানির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান’র কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালত তার সাজা কমিয়ে দেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এই রায়ে ৪৫ আসামির সবাইকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করেন।

ডেসটিনি মালটিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রায় ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই কলাবাগান থানায় মামলা করেছিল দুদক। ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট অভিযোগ গঠন করে আদালত আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন।

২০০০ সালে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড নামের মালটিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি দিয়ে এ গ্রুপের যাত্রা শুরু। পরের বছরে বিমান পরিবহণ, আবাসন, মিডিয়া, পাটকল, কোল্ড স্টোরেজ, বনায়নসহ বিভিন্ন খাতে ৩৪টি কোম্পানিতে ডেসটিনির নামে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়। পরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে চার হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে এ কোম্পানির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মালটিপারপাস কো-অপারেটিভের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল ডেসটিনি। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। তাতে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন।

ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খানসহ ৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ : এদিন ডেসটিনির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খানসহ ৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। আসামিরা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন জানান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন দুদকের পিপি আব্দুস সালাম মীর।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অপর তিন আসামি হলো- ডেসটিনি গ্রুপের বেস্ট এভিয়েশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মোল্লা আল আমিন, হেড অব ফাইন্যান্স কাজী মোহাম্মদ ফজলুর করিম ও সুনীল বরণ কর্মকার।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন