মাদকবিরোধী অভিযান

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আরও ৪

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক

ফাইল ছবি

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও চারজন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে রংপুর ও বগুড়ায় একজন করে এবং ময়মনসিংহে দু’জন নিহত হয়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলবা বাহিনী জানিয়েছে। এ নিয়ে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৪৩ জন নিহত হল। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কাউনিয়া (রংপুর) : কাউনিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানকালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহজাহান হোসেন দবির ওরফে দবিরুল (৪৮) নামে একজন নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি দবিরুল মাদক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বানুপাড়া ছোটপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দবিরুল পৌর এলাকার ৫নং ওয়ার্ডের চেংটারী নিউ মুনশি পাড়া গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সাইফুর রহমান জানান, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য পাচার করা হচ্ছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে শাহজাহান হোসেন দবির (৫০) ওরফে দবিরুল মারা যায় এবং অন্যারা পালিয়ে যায়। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি পিস্তল, ১২৬ পিস ইয়াবা, ১৪৩ পিস ফেনসিডিল ও ৩টি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দবিরুলের বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে ১০টি মামলা রয়েছে।

বগুড়া : বগুড়ায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ লিটন ওরফে রিটেন (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে শহরতলির মাটিডালি বিমান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তার কাছে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী জানান, শহরের চকসূত্রাপুর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে রিটন পরিবার নিয়ে ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ায় বসবাস করত। সে মাদক চোরাকারবারি দলের সক্রিয় সদস্য ছিল। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় মাদক আইনে ৫টি মামলা রয়েছে।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ শহরতলী চরকালীবাড়ী এলাকার কেওয়াটখালী রেলওয়ে ব্রিজের নিচ থেকে মঙ্গলবার সকালে দু’জনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হল- শহরের পুরোহিত পাড়া এলাকার মুন্না মিয়া (৩৫) ও ইদ্রিস আলী (৪৫)। এরা শহরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজন শহরতলী চর কালীবাড়ী এলাকার কেওয়াটখালী রেলওয়ে ব্রিজের নিচে দুটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ে ভাগাভাগির জেরে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে। নিহত মুন্না মিয়ার বিরুদ্ধে ১২টি ও ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা এরা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে।