সম্পদ বাড়িয়ে ১২ কোটি টাকা কর ফাঁকি
jugantor
সম্পদ বাড়িয়ে ১২ কোটি টাকা কর ফাঁকি

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান  

০৭ জুলাই ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কালোটাকা সাদা করতে এক শিল্পপতি ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে সার্কেল থেকে স্ত্রীসহ নিজের আয়কর ফাইল চুরি করান। এরপর দুজনের নতুন রিটার্ন বানিয়ে মোট ২০ কোটি টাকার সম্পদ বাড়ানো হয় এবং ফাইল পুনরায় সার্কেলে ফেরত দেওয়া হয়। সব ঠিকঠাকই চলছিল। একটি রিপোর্ট তৈরির জন্য সার্কেল অফিসার ফাইল তলব করে দেখতে পান, সম্পদবিবরণীতে (আইটি১০বি) তার স্বাক্ষর জাল। এরপর প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।

ফাইল চুরিতে জড়িত থাকায় এ পর্যন্ত ৩ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান আছে। সম্প্রতি কর অঞ্চল-১-এ আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছে। ওই শিল্পপতির নাম শামীম রেজা, স্ত্রীর নাম ইনা রেজা। ২০১৯ সালে তার প্রতিষ্ঠান এপিএস অ্যাপারেল রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৭ পেয়েছিল।

এ বিষয়ে কর অঞ্চল-১-এর কমিশনার একেএম বদিউল আলম ৩০ জুন যুগান্তরকে বলেন, ‘পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে এনবিআরে তদন্ত প্রতিবেদনসহ দিকনির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শামীম রেজা ৪টি আয়কর ফাইলে (নিজের, স্ত্রীর ও দুই মেয়ের) সম্পদ বাড়িয়ে দেখানোর জন্য শাহাদাত হোসেন কাজল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ৬০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। সে মোতাবেক ১১ দফায় ৬০ লাখ টাকা পরিশোধও করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাজল রিটার্ন সংশোধনের জন্য কর অঞ্চল-২-এর কর পরিদর্শক আব্দুল বারীর সঙ্গে ৩৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন। লিখিতভাবে টাকা গ্রহণের দায় স্বীকারও করেন বারী। চুক্তি মোতাবেক কাজল বারীকে শিল্পপতির আগের রিটার্নের কপি সরবরাহ করেন। এরপর ফাইল চুরির মূল কাজ শুরু হয়।

ফাইল চুরির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় কর অঞ্চল-১৪-এর নিরাপত্তা প্রহরী সৈয়দ শাকিল হোসেনকে। এজন্য কর পরিদর্শক বারী শাকিলকে ১৩ লাখ টাকা দেন। এ টাকা থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর অঞ্চল-১-এর নিরাপত্তা প্রহরী নজরুল ইসলামকে দেন শাকিল। নজরুল, সার্কেলের অফিস সহকারী সেলিম শরীফকে ফাইল সরবরাহের জন্য ৩ লাখ টাকা দেন। সেলিম ফাইল দুটি খুঁজে বের করে একজন নোটিশ সার্ভারের মাধ্যমে শাকিলের কাছে পাঠিয়ে দেন। শাকিল ফাইলটি কর পরিদর্শক বারীর কাছে পৌঁছে দেন। বারী শিল্পপতির চাহিদা মোতাবেক নতুন রিটার্ন বানিয়ে নিট সম্পদ বাড়িয়ে দেখান। এরপর নতুন রিটার্নের কপি নজরুলকে দেওয়া হয়। নজরুল সেই ফাইল সার্কেলের আগের স্থানে রেখে দেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি পুরস্কারের জন্য শামীম রেজার আয়করের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এনবিআরকে চিঠি দেয়। সেই চিঠির আলোকে রিপোর্ট প্রস্তুত করার জন্য সার্কেল অফিসার ফাইল তলব করে দেখতে পান, রিটার্নের সম্পদবিবরণীতে তার জাল স্বাক্ষর এবং অন্য সার্কেলের সিলমোহর দেওয়া। এরপর রেজিস্টার যাচাই করে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।

প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসাবে সার্কেল অফিসার শিল্পপতির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, শাহাদাত হোসেন কাজল তার ও তার পরিবারের অপর সদস্যদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন। কিন্তু কাজলের আইটিপি সনদ না থাকায় সন্দেহ ঘনীভূত হয়। এরপর কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কাজল জানান, শিল্পপতি ৪টি আয়কর নথিতে সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য মোট ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এ টাকা কিস্তিতে গ্রহণ করেন কর পরিদর্শক আবদুল বারী। নথি চুরি করার জন্য নৈশ প্রহরী শাকিলকে ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা নগদ ও ৬ লাখ টাকা চেকে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় কর অঞ্চল-১-এর অফিস সহকারী সেলিম শরীফ ও নৈশ প্রহরী নজরুল ইসলামকে গত ২৭ এপ্রিল সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কর অঞ্চল-১৪-এর নিরাপত্তা প্রহরী সৈয়দ শাকিল হোসেনকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর কর পরিদর্শক আবদুল বারীর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কার্যক্রম চলমান আছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শিল্পপতি ও তার স্ত্রীর ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ করবর্ষের আয়কর নথি চুরির পর রিটার্নের অন্য সব অংশ ঠিক রাখা হলেও ঘষামাজার মাধ্যমে সম্পদ বাড়িয়ে দেখানো হয়। অবশ্য ২০২১-২২ করবর্ষের রিটার্নে কোনো তথ্য পরিবর্তন করা হয়নি। ২০১৯-২০ করবর্ষে শিল্পপতির নিট সম্পদ দেখানো হয়েছিল ৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকা, সেটিকে ঘষামাজা করে বাড়িয়ে ৫১ কোটি ২৩ লাখ টাকা করা হয়। একই কায়দায় ২০২০-২১ করবর্ষের সম্পদ ৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা করা হয়। এক্ষেত্রে হাতে নগদ ও ব্যাংকে রক্ষিত অর্থের পরিমাণ যথাক্রমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ও প্রায় ২৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে দেখানো হয়।

একইভাবে তার স্ত্রীর রিটার্নেও সম্পদ বাড়ানো হয়। ২০১৯-২০ করবর্ষে শিল্পপতি স্ত্রীর নিট সম্পদ দেখানো হয়েছিল ১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, সেটিকে ঘষামাজা করে বাড়িয়ে ২১ কোটি ১৩ লাখ টাকা করা হয়। আর ২০২০-২১ করবর্ষের সম্পদ ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা করা হয়।

কর কর্মকর্তারা বলছেন, কালোটাকা সাদা করতে শিল্পপতি তার আয়কর ফাইল চুরি করিয়েছেন বলে ঘটনাক্রমে মনে হচ্ছে। মূল রিটার্নে বিপুল পরিমাণ সম্পদ দেখানো হলে সেই অর্থের ওপর সর্বোচ্চ হারে আয়কর দিতে হতো। এত বিপুল পরিমাণ আয়কর না দিয়ে চোরাগলি অবলম্বন করে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করতে চেয়েছিলেন তিনি, যা আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদিও সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত আয় ও সম্পদ প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই ওই শিল্পপতি ও তার স্ত্রীর রিটার্ন পুনঃউন্মোচন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। পুনঃউন্মোচনে দুজনের সুদ-জরিমানাসহ ১২ কোটি টাকা কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এনবিআর থেকে ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে অতিরিক্ত কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে শনিবার শিল্পপতির ব্যক্তিগত ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী ক্যাপ্টেন মনজুর ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, হার্টের অপারেশনের জন্য তিনি সপরিবারে আমেরিকা গেছেন। কবে আসবেন, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। ৩-৪ মাসও লাগতে পারে।

আর শাহাদাত হোসেন কাজল বলেন, ওই শিল্পপতির ট্যাক্সের কাজ করতাম। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ভয়ভীতি দেখিয়ে কর কর্মকর্তারা আমার স্বাক্ষর নিয়েছে।

সম্পদ বাড়িয়ে ১২ কোটি টাকা কর ফাঁকি

 সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
০৭ জুলাই ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কালোটাকা সাদা করতে এক শিল্পপতি ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে সার্কেল থেকে স্ত্রীসহ নিজের আয়কর ফাইল চুরি করান। এরপর দুজনের নতুন রিটার্ন বানিয়ে মোট ২০ কোটি টাকার সম্পদ বাড়ানো হয় এবং ফাইল পুনরায় সার্কেলে ফেরত দেওয়া হয়। সব ঠিকঠাকই চলছিল। একটি রিপোর্ট তৈরির জন্য সার্কেল অফিসার ফাইল তলব করে দেখতে পান, সম্পদবিবরণীতে (আইটি১০বি) তার স্বাক্ষর জাল। এরপর প্রাথমিক তদন্ত শুরু করতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।

ফাইল চুরিতে জড়িত থাকায় এ পর্যন্ত ৩ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান আছে। সম্প্রতি কর অঞ্চল-১-এ আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছে। ওই শিল্পপতির নাম শামীম রেজা, স্ত্রীর নাম ইনা রেজা। ২০১৯ সালে তার প্রতিষ্ঠান এপিএস অ্যাপারেল রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৭ পেয়েছিল।

এ বিষয়ে কর অঞ্চল-১-এর কমিশনার একেএম বদিউল আলম ৩০ জুন যুগান্তরকে বলেন, ‘পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে এনবিআরে তদন্ত প্রতিবেদনসহ দিকনির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শামীম রেজা ৪টি আয়কর ফাইলে (নিজের, স্ত্রীর ও দুই মেয়ের) সম্পদ বাড়িয়ে দেখানোর জন্য শাহাদাত হোসেন কাজল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ৬০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। সে মোতাবেক ১১ দফায় ৬০ লাখ টাকা পরিশোধও করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাজল রিটার্ন সংশোধনের জন্য কর অঞ্চল-২-এর কর পরিদর্শক আব্দুল বারীর সঙ্গে ৩৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন। লিখিতভাবে টাকা গ্রহণের দায় স্বীকারও করেন বারী। চুক্তি মোতাবেক কাজল বারীকে শিল্পপতির আগের রিটার্নের কপি সরবরাহ করেন। এরপর ফাইল চুরির মূল কাজ শুরু হয়।

ফাইল চুরির মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় কর অঞ্চল-১৪-এর নিরাপত্তা প্রহরী সৈয়দ শাকিল হোসেনকে। এজন্য কর পরিদর্শক বারী শাকিলকে ১৩ লাখ টাকা দেন। এ টাকা থেকে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর অঞ্চল-১-এর নিরাপত্তা প্রহরী নজরুল ইসলামকে দেন শাকিল। নজরুল, সার্কেলের অফিস সহকারী সেলিম শরীফকে ফাইল সরবরাহের জন্য ৩ লাখ টাকা দেন। সেলিম ফাইল দুটি খুঁজে বের করে একজন নোটিশ সার্ভারের মাধ্যমে শাকিলের কাছে পাঠিয়ে দেন। শাকিল ফাইলটি কর পরিদর্শক বারীর কাছে পৌঁছে দেন। বারী শিল্পপতির চাহিদা মোতাবেক নতুন রিটার্ন বানিয়ে নিট সম্পদ বাড়িয়ে দেখান। এরপর নতুন রিটার্নের কপি নজরুলকে দেওয়া হয়। নজরুল সেই ফাইল সার্কেলের আগের স্থানে রেখে দেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি পুরস্কারের জন্য শামীম রেজার আয়করের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য এনবিআরকে চিঠি দেয়। সেই চিঠির আলোকে রিপোর্ট প্রস্তুত করার জন্য সার্কেল অফিসার ফাইল তলব করে দেখতে পান, রিটার্নের সম্পদবিবরণীতে তার জাল স্বাক্ষর এবং অন্য সার্কেলের সিলমোহর দেওয়া। এরপর রেজিস্টার যাচাই করে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।

প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসাবে সার্কেল অফিসার শিল্পপতির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, শাহাদাত হোসেন কাজল তার ও তার পরিবারের অপর সদস্যদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন। কিন্তু কাজলের আইটিপি সনদ না থাকায় সন্দেহ ঘনীভূত হয়। এরপর কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কাজল জানান, শিল্পপতি ৪টি আয়কর নথিতে সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য মোট ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। এ টাকা কিস্তিতে গ্রহণ করেন কর পরিদর্শক আবদুল বারী। নথি চুরি করার জন্য নৈশ প্রহরী শাকিলকে ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা নগদ ও ৬ লাখ টাকা চেকে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় কর অঞ্চল-১-এর অফিস সহকারী সেলিম শরীফ ও নৈশ প্রহরী নজরুল ইসলামকে গত ২৭ এপ্রিল সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কর অঞ্চল-১৪-এর নিরাপত্তা প্রহরী সৈয়দ শাকিল হোসেনকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আর কর পরিদর্শক আবদুল বারীর বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কার্যক্রম চলমান আছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শিল্পপতি ও তার স্ত্রীর ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ করবর্ষের আয়কর নথি চুরির পর রিটার্নের অন্য সব অংশ ঠিক রাখা হলেও ঘষামাজার মাধ্যমে সম্পদ বাড়িয়ে দেখানো হয়। অবশ্য ২০২১-২২ করবর্ষের রিটার্নে কোনো তথ্য পরিবর্তন করা হয়নি। ২০১৯-২০ করবর্ষে শিল্পপতির নিট সম্পদ দেখানো হয়েছিল ৪১ কোটি ২৩ লাখ টাকা, সেটিকে ঘষামাজা করে বাড়িয়ে ৫১ কোটি ২৩ লাখ টাকা করা হয়। একই কায়দায় ২০২০-২১ করবর্ষের সম্পদ ৪২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা করা হয়। এক্ষেত্রে হাতে নগদ ও ব্যাংকে রক্ষিত অর্থের পরিমাণ যথাক্রমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ও প্রায় ২৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে দেখানো হয়।

একইভাবে তার স্ত্রীর রিটার্নেও সম্পদ বাড়ানো হয়। ২০১৯-২০ করবর্ষে শিল্পপতি স্ত্রীর নিট সম্পদ দেখানো হয়েছিল ১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা, সেটিকে ঘষামাজা করে বাড়িয়ে ২১ কোটি ১৩ লাখ টাকা করা হয়। আর ২০২০-২১ করবর্ষের সম্পদ ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা করা হয়।

কর কর্মকর্তারা বলছেন, কালোটাকা সাদা করতে শিল্পপতি তার আয়কর ফাইল চুরি করিয়েছেন বলে ঘটনাক্রমে মনে হচ্ছে। মূল রিটার্নে বিপুল পরিমাণ সম্পদ দেখানো হলে সেই অর্থের ওপর সর্বোচ্চ হারে আয়কর দিতে হতো। এত বিপুল পরিমাণ আয়কর না দিয়ে চোরাগলি অবলম্বন করে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করতে চেয়েছিলেন তিনি, যা আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যদিও সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত আয় ও সম্পদ প্রদর্শনের সুযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই ওই শিল্পপতি ও তার স্ত্রীর রিটার্ন পুনঃউন্মোচন করে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। পুনঃউন্মোচনে দুজনের সুদ-জরিমানাসহ ১২ কোটি টাকা কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এনবিআর থেকে ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে অতিরিক্ত কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে শনিবার শিল্পপতির ব্যক্তিগত ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী ক্যাপ্টেন মনজুর ফোন রিসিভ করেন। তিনি জানান, হার্টের অপারেশনের জন্য তিনি সপরিবারে আমেরিকা গেছেন। কবে আসবেন, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। ৩-৪ মাসও লাগতে পারে।

আর শাহাদাত হোসেন কাজল বলেন, ওই শিল্পপতির ট্যাক্সের কাজ করতাম। কিন্তু এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ভয়ভীতি দেখিয়ে কর কর্মকর্তারা আমার স্বাক্ষর নিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন