রমজানের প্রশিক্ষণ ধরে রাখব জীবনভর

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হাফেজ মুফতি তানজিল আমির

ছবি: যুগান্তর

রমজান আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাধারণ ক্ষমা ও অশেষ প্রাপ্তির মাস হয়ে। রমজানের রোজা, তারাবিহ, সেহরি, ইফতার, এতেকাফ, সাদাকাহসহ যাবতীয় সব আমলের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে আঁচল ভরে রহমত দান করেন।

আশা করি আমরা খোদার দানের উপযুক্ত হয়েছি। এ জন্য অন্য সময়ের আমলগুলোর মর্যাদাও রমজানে সত্তরগুণ বেশি। বান্দার জীবনে যত গুনাহ রয়েছে, সবকিছু তিনি এ মাসে ক্ষমা করে দেন। সামনে যেন এসব গুনাহের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তাই তাকওয়ার গুণে নিজেকে গুণান্বিত করতে রমজানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন- রমজানের প্রথম দশ দিন হল রহমত, দ্বিতীয় দশ দিন হল মাগফিরাত আর তৃতীয় দশ দিন হল জাহান্নাম থেকে নাজাতের। (বায়হাকি)। এ হাদিসের অর্থ এটি নয় যে, গুনাহের কাজগুলো পরিত্যাগ করা ছাড়া শুধু রমজান মাস অতিবাহিত করলেই নাজাত মিলে যাবে। এমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। বিবেকসম্পন্ন কেউ এমন আশাও করেন না। এ হাদিসের সঠিক মর্ম যা অন্যান্য আয়াত ও হাদিস থেকে বোঝা যায় তা হল- রমজান মাসে গুনাহ ছাড়ার অভ্যাস ও মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ রমজানে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এ প্রশিক্ষণ পূর্ণ হলে বান্দার জীবন যখন সুন্দর হয়ে যাবে, তখন সে অবধারিতভাবেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আল্লাহ বলছেন, তবে যারা তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয় (বাকারা ১৬০), অর্থাৎ তওবা করতে হবে এবং সেই সঙ্গে নিজেকে সংশোধনও করতে হবে। তবেই পাওয়া যাবে রমজানের বরকত ও মাগফিরাত। অন্যথায় প্রভূত কল্যাণ নিয়ে প্রতি বছরের মতো রমজান আসবে, আবার চলেও যাবে, কারও কোনো লাভ হবে না।

অসুস্থ ব্যক্তির রোগের মাত্রানুযায়ী যেমন তার চিকিৎসা চালানো হয় তেমনি মানুষের ভেতর জগৎকে সুস্থ ও পরিপাটি রাখতে রমজানের সময়কে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। রমজানের প্রথমভাগে মুমিন তার গুনাহ ও কৃতকর্মের হিসাব মিলিয়ে এসব ছাড়ার প্রস্তুতি নেবে। যখনই তার জীবন গুনাহমুক্ত হওয়ার পথে এগোবে, শুরু হয়ে যাবে মাগফিরাতের বসন্তকাল। খোদার মাগফিরাতে নিজেকে সিক্ত করে বান্দা রমজানের শেষের দিক এসে পড়বে তখন আসবে তার সামনে ক্ষমার ঘোষণা। সিয়াম সাধনার পুরস্কার হিসেবে আল্লাহ বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন।

এ ধারাবাহিকতা হল যারা নিজেকে আকণ্ঠ পাপে নিমজ্জিত রেখেছেন তাদের জন্য। যাদের জীবন শুরু থেকেই সুন্দর ও উন্নত, তাদের জন্য পুরো রমজানই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতে ভরপুর থাকে। সিয়াম সাধনায় তাদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধিত। তাই রমজানের এ শেষ সময়ে আমাদের দৃঢ়সংকল্প করতে হবে যে, আমরা রমজানের অফুরন্ত কল্যাণ থেকে অবশ্যই উপকৃত হব। বাকি আর যে কয়টি দিন আছে, একটি মুহূর্তও অবহেলায় নষ্ট করব না। পবিত্র এ মাসে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক প্রশিক্ষণ কাজে লাগাব।

রমজানের এ প্রশিক্ষণই আমাদের বাকি জীবনকে পরিচালিত করবে সত্য ও সুন্দরের পথে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।

লেখক : নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম

ই-মেইল : [email protected]