দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
jugantor
দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম  

৩১ জুলাই ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে ভয়াবহ কনটেইনার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্দেশনা ও সুপারিশ বাস্তবায়নে আট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন উপ-সচিব এ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও সুরক্ষা সেবা বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনকেও চিঠি দেওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অবহিতকরণ পত্র পাঠানোর বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। বিএম ডিপোর ঘটনায় সরকারিভাবে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি। তাদের প্রদত্ত তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিএম ডিপো ট্র্যাজেডির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেয়।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি পরিবীক্ষণ অধিশাখার উপ-সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন গত ২৫ জুলাই চিঠিতে সই করেন। ‘চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুরে অবস্থিত ব্যক্তি মালিকানাধীন বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ ও এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করার নিমিত্তে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন’-এ বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গঠিত তদন্ত কমিটি বর্ণিত দুর্ঘটনার দায়দায়িত্ব নির্ধারণসহ এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের নিমিত্তে ১৮টি সুপারিশ করেছে।

দায়দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, প্রাথমিক দুর্ঘটনার দায়দায়িত্ব রপ্তানিকারক ও ডিপো কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। বারবার শিপিং কোম্পানি কর্তৃক শিপমেন্টের তারিখ পিছিয়ে ডিপোতে সিল্ড কনটেইনারের অবস্থান প্রলম্বিত হওয়াকেও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা যায়। আইএমডিজি (ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেঞ্জারস গুডস) কোড-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে যথাযথ ভূমিকা পালন না করায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোও দায় এড়াতে পারে না।

১৮টি সুপরিশের মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করা। ১৯৫৩ সালের দ্য ডেঞ্জারস কারগোস অ্যাক্ট শিরোনামের আইনটি আইএমডিজি (ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেঞ্জারস গুডস)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়কে এই আইন সংশোধন ও কোড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক, ডিপো কর্তৃপক্ষ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিংলাইন-সংক্রান্ত লোকজনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ‘ডেঞ্জারস কার্গো ইন্সপেকশন অফিস (ডিসিআইও) নিজস্ব লোকবল দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে রূপান্তর করা, এনওসি প্রদানের পূর্বে সরেজমিন কার্গো পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করা। এ ছাড়া অফডকগুলোকে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা, যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে অফডককে সনদ নিতে হয় সে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্ব স্ব কার্যক্ষেত্রগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা ইত্যাদি।

গত ৪ জুন সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়িতে অবস্থিত বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৫১ জন নিহত ও দুই শতাধিক লোক আহত হন (তদন্ত কমিটি ৪৯ জন নিহত ও ১০৭ জন আহত হওয়ার কথা বলেছে রিপোর্টে)। দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ ঘটনায় সরকার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি গত ৬ জুলাই রিপোর্ট দেয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তদন্ত রিপোর্ট আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চিঠি দিল।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রদত্ত চিঠি অনুযায়ী স্ব স্ব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বিএম ডিপোতে কনটেইনার বিস্ফোরণ ও হতাহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেবে।

দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

 শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম 
৩১ জুলাই ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোতে ভয়াবহ কনটেইনার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্দেশনা ও সুপারিশ বাস্তবায়নে আট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন উপ-সচিব এ চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও সুরক্ষা সেবা বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনকেও চিঠি দেওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অবহিতকরণ পত্র পাঠানোর বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। বিএম ডিপোর ঘটনায় সরকারিভাবে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি। তাদের প্রদত্ত তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিএম ডিপো ট্র্যাজেডির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেয়।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি পরিবীক্ষণ অধিশাখার উপ-সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন গত ২৫ জুলাই চিঠিতে সই করেন। ‘চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুরে অবস্থিত ব্যক্তি মালিকানাধীন বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান, দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ ও এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করার নিমিত্তে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন’-এ বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গঠিত তদন্ত কমিটি বর্ণিত দুর্ঘটনার দায়দায়িত্ব নির্ধারণসহ এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের নিমিত্তে ১৮টি সুপারিশ করেছে।

দায়দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, প্রাথমিক দুর্ঘটনার দায়দায়িত্ব রপ্তানিকারক ও ডিপো কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। বারবার শিপিং কোম্পানি কর্তৃক শিপমেন্টের তারিখ পিছিয়ে ডিপোতে সিল্ড কনটেইনারের অবস্থান প্রলম্বিত হওয়াকেও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা যায়। আইএমডিজি (ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেঞ্জারস গুডস) কোড-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে যথাযথ ভূমিকা পালন না করায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোও দায় এড়াতে পারে না।

১৮টি সুপরিশের মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করা। ১৯৫৩ সালের দ্য ডেঞ্জারস কারগোস অ্যাক্ট শিরোনামের আইনটি আইএমডিজি (ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ডেঞ্জারস গুডস)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়কে এই আইন সংশোধন ও কোড বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক, ডিপো কর্তৃপক্ষ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিংলাইন-সংক্রান্ত লোকজনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধীন ‘ডেঞ্জারস কার্গো ইন্সপেকশন অফিস (ডিসিআইও) নিজস্ব লোকবল দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে রূপান্তর করা, এনওসি প্রদানের পূর্বে সরেজমিন কার্গো পরিদর্শন বাধ্যতামূলক করা। এ ছাড়া অফডকগুলোকে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা, যে ২৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে অফডককে সনদ নিতে হয় সে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্ব স্ব কার্যক্ষেত্রগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা ইত্যাদি।

গত ৪ জুন সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়িতে অবস্থিত বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৫১ জন নিহত ও দুই শতাধিক লোক আহত হন (তদন্ত কমিটি ৪৯ জন নিহত ও ১০৭ জন আহত হওয়ার কথা বলেছে রিপোর্টে)। দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এ ঘটনায় সরকার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি গত ৬ জুলাই রিপোর্ট দেয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তদন্ত রিপোর্ট আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চিঠি দিল।

সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রদত্ত চিঠি অনুযায়ী স্ব স্ব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বিএম ডিপোতে কনটেইনার বিস্ফোরণ ও হতাহতদের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রদত্ত সুপারিশ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন