প্রার্থীজট : আ’লীগে ১০ বিএনপিতে ৫

সুবিধাজনক অবস্থানে জাতীয় পার্টি

  শামীম খান, ধামরাই ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর উপকণ্ঠ ধামরাই উপজেলা নিয়ে ঢাকা-২০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে। বিশেষ করে শাসক দল আওয়ামী লীগে প্রার্থীজট ব্যাপক। বিএনপিতেও কম নয়। একক প্রার্থী নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি। নির্বাচনের ৬ মাস বাকি থাকতেই বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। প্রার্থীরা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কৌশল নির্ধারণে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। অনেকে ফেসবুকেও সক্রিয়। বিশেষ করে শাসক দল আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা জনবন্ধু এমএ মালেক ছাড়াও ৯ জন নেতা মনোনয়নের আশায় মাঠে। বিএনপির পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নের প্রত্যাশায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। একক প্রার্থী নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জাতীয় পার্টির দু’বারের এমপি ও ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি খান মোহাম্মদ ইসরাফিল খোকন। তিনিও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ চায় আসন ধরে রাখতে আর বিএনপি ও জাতীয় পার্টি চায় পুনরুদ্ধার।

ধামরাই এক সময় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের জাতীয় লীগের ঘাঁটি ছিল। পরে জাতীয় পার্টির ঘাঁটিতে পরিণত হয়। এক সময় বিএনপির দুর্গে পরিণত হলেও এখন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি। ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে পরপর দু’বার এ আসনে জাতীয় পার্টির ইসরাফিল খোকন এমপি হন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চার দফায় ভোটে এমপি হন বিএনপির ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান। ২০০৮ সালের ভোটে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেনজীর আহমদ। সবশেষ ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের এমএ মালেক।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি ছাড়াও দলের অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও বায়রার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বাইশাকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান মিজান, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও সিআইপি মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আল জামান আমান, ধামরাই পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম কবির মোল্লা, শিল্পপ্রতি ও রাজাপুর বেগম আনোয়ারা গার্লস কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আলীম খান সেলিম, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহীর এপিএস ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসাধারণ সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, মেজর (অব.) জাহাঙ্গীর আলম ও সাভার সেনানিবাসের সাবেক জিওসি এবং দুদকের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল মোহাম্মদ হানিফ ইকবাল।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি এমএ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে এলাকাবাসী ও দলের জন্য কাজ করছি, আগামীতেও কাজ করে যেতে চাই। এলাকাবাসীর আস্থা ও বিশ্বাস আমার ওপর রয়েছে। মনোনয়ন পেলে আসনটি ফের আওয়ামী লীগকে উপহার দিতে পারব। সভা-সমাবেশে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। স্বপ্নের বড় ২টি সেতুসহ ২২টি সেতু নির্মাণ করে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে দিয়েছি। বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। গণমানুষের মন জয়ে সবকিছুই করছি। আমার বিশ্বাস, ধামরাইবাসী আমাকেই ভোট দেবেন।

কথা হয় আওয়ামী লীগের অপর প্রার্থী বেনজীর আহমদের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় উন্নয়নে আমার ব্যাপক অবদান রয়েছে। ২০০৮ সালে এমপি হওয়ার পর ধামরাইকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলি। ধামরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠাসহ আধুনিক ধামরাইয়ের রূপকার আমি। সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছি আমার সময়ে। এলাকায় আমি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। সুখে-দুঃখে সবার পাশে ছিলাম ও আছি। ধামরাইকে এগিয়ে নিতে দলের মনোনয়ন পেতে চাই। বিজয় অবধারিত।

মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম কবির মোল্লা বলেন, বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভা আজ প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে। পৌরসভার আধুনিকায়নে বহু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন পেলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়তে চাই। মনোনয়ন পেলে নৌকার জয় অবধারিত। জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছি। দু’হাতে অর্থ ব্যয় করে দলকে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করেছি। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই আমার শক্তি।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সিআইপি মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আল জামান আমান বলেন, ধামরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের স্থায়ী ক্যাম্প ছিল আমাদের বাড়িতে। আমার পিতা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। আমার মা ধামরাইয়ে একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই। আমার পরিবারের সবাই উচ্চশিক্ষিত। বিদেশে ব্যবসা করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছি। ক্রীড়াঙ্গন ও শিক্ষায় আমাদের ব্যাপক অবদান। বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও আমি দু’হাতে দান করি। দলীয় মনোনয়নে এমপি হলে ধামরাই তথা দেশবাসীর কল্যাণে এ জীবন উৎসর্গ করব।

কথা হয় অধ্যাপক মিজানুর রহমান মিজানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, কেউই ধামরাইয়ের জন্য আশানুরূপ উন্নয়ন করতে পারেননি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দলীয় বিভাজন নিয়ে সময় নষ্ট করায় জনগণের জন্য কেউ কাজ করতে পারেননি। জনগণের ভাগ্য বদলাতে এবং আধুনিক ধামরাই গড়তে দলীয় প্রার্থী হতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে চেনেন, জানেন। তিনি আমাকে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে। জামায়াতের প্রভাব থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দলটি কোণঠাসা। তবে অনুকূল পরিবেশ এবং জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বোঝাপড়া ঠিক থাকলে লড়াই হবে ত্রিমুখী।

কথা হয় জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী ইসরাফিল খোকনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ধামরাই আসনে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। সড়কসহ মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়তা করা হয়েছে। বংশী নদীর চৌহাট-বালিয়া, ওয়ার্শী-পাইকপাড়া এলাকায় আমার প্রয়াত বড়ভাই শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবাল তিনটি সেতু নির্মাণ করে আজও এলাকাবাসীর কাছে তিনি বরণীয় হয়ে আছেন।

মনোনয়নের আশায় বিএনপির একাধিক নেতা মাঠে রয়েছেন। এরা হচ্ছেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঢাকা-২০ আসনের ৪ বারের এমপি ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, ধামরাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দু’বারের উপজেলা চেয়ারম্যান শিল্পপতি তমিজ উদ্দিন, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি বেগম সুলতানা আহাম্মেদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তরুণ শিল্পপতি মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ ও তরুণ নেতা ব্যারিস্টার এইচএম সানজিদ সিদ্দিকী।

কথা হয় ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এ আসনে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতেরও ভোটব্যাংক রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি প্রার্থীর জয়লাভের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দলীয়ভাবে এ আসনকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার এইচএম সনজিদ সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হলে এবং দলীয় প্রতীক পেলে প্রার্থী হতে চাই। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত। তিনি বলেন, ২০১১ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের উপস্থিতিতে লন্ডনের বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ব্রিটিশ-ল-স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হই। মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। আমার পিতাও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলীয় গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। জানতে চাইলে বিশিষ্ট শিল্পপতি তমিজ উদ্দিন বলেন, সরকারের এত দমন-পীড়নের মধ্যেও ধামরাইয়ে আমি বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। সর্বত্রই আমার উন্নয়নে ছোঁয়া। মসজিদ, মন্দির ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুদান দিয়েও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছি। আমার প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আফাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ধামরাইয়ের অনন্য ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ায় ধামরাইয়ে প্রতিটি এলাকা ও পাড়া-মহল্লায় আমার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। মাঠপর্যায়ে আমার অবদানও অনেক। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইব এবং জয়লাভ করব। কেননা সরকারের দমনপীড়নে মানুষ অতিষ্ঠ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×