চিকিৎসক থেকে কন্ট্রাক্ট কিলার

কলেজ জীবন থেকেই অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য জাহিদের!

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ত্রের প্রতি ঝোঁক থাকার কারণে কলেজ জীবন থেকেই অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন চিকিৎসক জাহিদুল আলম কাদির। এইচএসসি পাস করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আরও বেশি সখ্য তৈরি হয় তার। তখন থেকেই তিনি চিকিৎসা পেশার আড়ালে অস্ত্র ব্যবসা করার পরিকল্পনা করেন। ২০০২ সালে চিকিৎসক হওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অস্ত্র ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি ভয়ঙ্কর কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। চিকিৎসক জাহিদ ও তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, জাহিদ অস্ত্র সংগ্রাহক থেকে প্রথমে ব্যবসায়ী এবং পরে কন্ট্রাক্ট কিলার হয়ে উঠে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনও তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, জাহিদ ১৯৯২ সালে পাবনার ঈশ্বরদীর রেলওয়ে সরকারি নাজিম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হন। তখন থেকেই অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। ১৯৯৪ সালে এইচএসসি পাস করার পর তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন। ওই সময় তিনি অস্ত্র সংগ্রহ শুরু করেন। ২০০২ সালে এমবিবিএস পাস করে তিনি পুরোপুরি অস্ত্র ব্যবসা ও কন্ট্রাক্ট কিলিংয়েও জড়িয়ে পড়েন। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের একজন সংসদ সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করছে- এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাহিদকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, এমবিবিএিস পাস করার পর স্থায়ী কোনো চাকরি করেননি জাহিদ। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে বিভিন্ন ক্লিনিকে দুই কিংবা তিন মাসের জন্য অস্থায়ী চাকরি করতেন। এর আড়ালে গড়ে তুলেছেন অস্ত্র ব্যবসার বিশাল নেটওয়ার্ক। অরিজিনাল ফ্যাক্টরি মেড (স্বীকৃত কারখানায় তৈরি) বিভিন্ন দেশের অত্যাধুনিক অস্ত্র তিনি সংগ্রহ করতেন। এগুলো আন্ডারওয়ার্ল্ডসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতেন।

১৫ মে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে দুটি পিস্তল ও ৮ রাউন্ড গুলিসহ জাহিদকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি ইউনিট। পরে তাকে দুই দফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার স্ত্রী মাসুমা আক্তারকে ৩ জুন গাবতলী থেকে একটি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, তার স্বামী জাহিদের কাছে আরও অস্ত্র আছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের বাঘমারার বাড়ি থেকে ১২টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×